প্রেসকার্ড নিউজ ওয়ার্ল্ড ডেস্ক, ২১ মার্চ ২০২৬, ১৭:৫৫:০১ : ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাতের মধ্যে আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত সিনেটর লিন্ডসে গ্রাহাম একটি নতুন পরামর্শ দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, যেসব দেশ যুদ্ধের সময় আমেরিকাকে তাদের ভূখণ্ডে থাকা সামরিক ঘাঁটি ব্যবহার করার অনুমতি দেয়নি, সেখানে আমেরিকা আর নিজের ঘাঁটি রাখবে না। তাঁর মতে, প্রয়োজনে যদি ওই ঘাঁটিগুলি ব্যবহারই করা না যায়, তাহলে সেগুলি রাখার কোনো অর্থ নেই।
উল্লেখ্য, স্পেন ও জার্মানির মতো একাধিক দেশ তাদের মাটিতে থাকা আমেরিকান ঘাঁটি ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে ব্যবহারের অনুমতি দেয়নি। ইউরোপের বহু দেশে আমেরিকার অসংখ্য সামরিক ঘাঁটি রয়েছে। বিশ্বজুড়ে ৮০টিরও বেশি দেশে মোট ৭৫০টির বেশি সামরিক স্থাপনা রয়েছে, যার মধ্যে ৫৫টি দেশে ১২৮টি বড় ঘাঁটি আছে। ইউরোপের বিভিন্ন দেশে প্রায় তিন ডজন ঘাঁটি রয়েছে, যেখানে প্রায় আশি হাজার সৈন্য মোতায়েন রয়েছে।
জার্মানিতে আমেরিকার সবচেয়ে বড় ঘাঁটি অবস্থিত। এছাড়া ইতালি, ব্রিটেন, স্পেন ও পোল্যান্ডেও ঘাঁটি রয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের দশটি দেশে আমেরিকার ঘাঁটি আছে, যার মধ্যে কাতারে সবচেয়ে বড়টি। বাহরাইনে পঞ্চম নৌবহরের সদর দপ্তর রয়েছে। সব মিলিয়ে মধ্যপ্রাচ্যে প্রায় ২০টি ঘাঁটি আছে। বর্তমানে আমেরিকা এই অঞ্চলজুড়ে নিজেদের ঘাঁটির নেটওয়ার্ক ব্যবহার করছে, আর এর জবাবে ইরান ওই দেশগুলোকেই লক্ষ্যবস্তু করছে। ইউরোপের দেশগুলো চায় না যে তাদের ভূমি ও আকাশসীমা ব্যবহার হোক, কারণ তাতে ইরানের আক্রমণের অজুহাত তৈরি হতে পারে।
এর আগে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ন্যাটো দেশগুলোকেও কড়া ভাষায় আক্রমণ করেছেন। তিনি বলেছেন, আমেরিকা ছাড়া ন্যাটো কাগুজে বাঘের মতো। পরমাণু শক্তিধর ইরানকে ঠেকানোর যুদ্ধে ন্যাটো দেশগুলো অংশ নিতে চায়নি। এখন যখন সামরিকভাবে সেই যুদ্ধ জিতে নেওয়া হয়েছে এবং তাদের ঝুঁকিও কম ছিল, তখন তারা তেলের বাড়তি দামের অভিযোগ করছে।
ট্রাম্প আরও বলেন, তারা হরমুজ প্রণালী খুলে দিতে সাহায্য করতে চায় না, অথচ এটি একটি সহজ সামরিক পদক্ষেপ এবং তেলের উচ্চ মূল্যের প্রধান কারণও এটি। তাদের পক্ষে এটি করা খুবই সহজ এবং ঝুঁকিও কম। তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, এই আচরণ আমরা মনে রাখব।
.jpg)
No comments:
Post a Comment