নিজস্ব সংবাদদাতা, হুগলি, ২১ মার্চ ২০২৬: পবিত্র ঈদ-উল-ফিতর উপলক্ষে চুঁচুড়ার কারবালা ময়দানে আজ সকাল থেকেই নামাজ ও শুভেচ্ছা বিনিময়ের মধ্য দিয়ে খুশির ঈদ উদযাপন করা হয়। সকাল থেকেই বহু মুসলিম ধর্মাবলম্বী মানুষ কারবালায় সমবেত হয়ে ঈদের নামাজে অংশগ্রহণ করেন এবং একে অপরকে শুভেচ্ছা জানান। আর ভোট প্রচারের মাঝেই এদিনে চুঁচুড়া বিধানসভার তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী দেবাংশু ভট্টাচার্য কারবালায় উপস্থিত হয়ে সকলকে ঈদের শুভেচ্ছা জানান। এর পাশাপাশি বিজেপিকেও কটাক্ষ করেন তৃণমূল প্রার্থী।
দেবাংশু বলেন, “ধর্ম যার-যার, উৎসব সবার। খুশির ঈদ আনন্দের ঈদ। সবাই আনন্দ করুন সবাই মিলে আমরা যেন উৎসবমুখর থাকতে পারি। রোদ-বৃষ্টি এসব লেগেই থাকে। এর মধ্যেই আনন্দ করতে হবে।"
প্রার্থী তালিকা ঘোষণার পর বিভিন্ন স্থানে বিজেপি প্রার্থীর বিরুদ্ধে পোস্টার এবং অসন্তোষ নিয়েও এদিন কটাক্ষ করেছেন তৃণমূলের চুঁচুড়া বিধানসভার প্রার্থী দেবাংশু ভট্টাচার্য। তিনি বলেন, "ফ্যাক্টর বহিরাগত বা বাইরের নয়। ফ্যাক্টর হচ্ছে কার পক্ষের প্রার্থী; শুভেন্দু অধিকারী না শমীক ভট্টাচার্য! মুশকিলটা হল বিজেপিতে এই মুহূর্তে শুভেন্দু অধিকারী ঢোকার পর যেভাবে কব্জা করতে চাইছিল, আরএসএস তাঁর ওপর ভরসা করে দুটো নির্বাচনে ঠকেছে। এবারে তাঁরা ধন্দে আছেন কি করা উচিৎ। সেই জায়গা থেকেই দেখা যাচ্ছে ভাংচুর হচ্ছে, প্রার্থীকে নিয়ে বিক্ষোভ হচ্ছে।"
তাঁর কথায়, "এগুলো গোটা রাজ্য জুড়েই হচ্ছে চাঁপদানিও এর ব্যতিক্রম নয়।" উল্লেখ্য, চাঁপদানি বিধানসভা কেন্দ্রের বিজেপি প্রার্থী দিলীপ সিংকে বাহিরাগত তকমা দিয়ে এদিন পোস্টার পড়েছে বৈদ্যবাটী চৌমাথা মোড়ে। এছাড়াও বিজেপির রাজ্য সদর দফতরে দলীয় কর্মীদের একাংশ বিক্ষোভ দেখান শুক্রবার রাতে। পরিস্থিতি সামলাতে আসরে নামতে হয় রাজ্য নেতৃত্বকে।
এই বিষয়ে তাঁর কটাক্ষ, "ভারতীয় জনতা পার্টি এবারে পশ্চিমবঙ্গ দখলের স্বপ্ন দেখার আগে নিজেদের দলকে একটা প্রার্থীর প্রতি একমত করুক।" তিনি বলেন, "যেখানে দলীয় (বিজেপি) কর্মীরা মনে করেন তাঁদের নেতা দল বেঁচে দিচ্ছেন তাহলে এরা বাংলায় এলে পশ্চিমবঙ্গেকে বেঁচে দেবে এটা বুঝতে আর কি বাকি থাকে! পার্টির মাথায় বসে পার্টি বেঁচছে, বাংলার মাথায় বসলে বাংলা বেঁচবে, এতো সহজ অঙ্ক। এগুলো হচ্ছে ট্রেলার। বাংলা বুদ্ধিমান মানুষ, ট্রেলার দেখে সিনেমা আগেই গেস করে ফেলে তাই আর হলে যায় না।"
প্রসঙ্গত, তৃণমূলের তরফে দেবাংশুকে এবারে চুঁচুড়ায় প্রার্থী করা হয়েছে। এরপরেই ক্ষোভের সুর শোনা যায় এখানকার বিদায়ী বিধায়ক অসিত মজুমদারের গলায়। এমনকি রাজনীতি থেকে বিশ্রাম নেওয়ার কথাও জানান দলের বর্ষীয়ান নেতা। পরে অবশ্য দেবাংশুর সঙ্গে সাক্ষাৎ ও আলোচনায় বরফ গলে। অভিমান ভুলে দেবাংশুর পাশে থাকার কথাও জানান। আর এদিনও চুঁচুড়া কারবালায় উপস্থিত ছিলেন বিদায়ী বিধায়ক অসিত মজুমদার এবং প্রাক্তন পৌরপ্রধান গৌরিকান্ত মুখার্জী। তাঁরাও সকলকে ঈদের শুভেচ্ছা জানান। তবে জানা যায়, দেবাংশু ভট্টাচার্যের আসার আগেই অসিত মজুমদার অন্য কর্মসূচিতে যোগ দেওয়ার উদ্দেশ্যে সেখান থেকে রওনা দেন।

No comments:
Post a Comment