সামনেই বসে থাকলেও চোখে পড়বে না! দেশে প্রথমবার মিলল কীলব্যাক সাপ - Press Card News

Breaking

Post Top Ad

Post Top Ad

Saturday, March 28, 2026

সামনেই বসে থাকলেও চোখে পড়বে না! দেশে প্রথমবার মিলল কীলব্যাক সাপ



প্রেসকার্ড নিউজ ন্যাশনাল ডেস্ক, ২৮ মার্চ ২০২৬, ২২:৩০:০১ : ভারত জীবজন্তু ও উদ্ভিদের বৈচিত্র্যের দিক থেকে অত্যন্ত সমৃদ্ধ দেশ। শুধুমাত্র সাপের কথাই যদি ধরা হয়, তবে ভারতে ৩০০-রও বেশি প্রজাতির সাপ পাওয়া যায়, যার মধ্যে মাত্র প্রায় ৬০ প্রজাতি বিষাক্ত। এই বিশাল জীববৈচিত্র্যের ভাণ্ডারে সম্প্রতি আরও একটি নতুন অধ্যায় যুক্ত হয়েছে। বিজ্ঞানীরা সাপের এমন দুটি নতুন প্রজাতির সন্ধান পেয়েছেন, যেগুলি আগে কখনও ভারতে দেখা যায়নি। দেরাদুনের বন্যপ্রাণ গবেষণা প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, দেশে বিরল ধরনের কীলব্যাক সাপেরও দুটি প্রজাতি রয়েছে।



কীলব্যাক সাপ কী?

কীলব্যাক প্রজাতির সাপ খুবই বিরল বলে মনে করা হয়। এতদিন পর্যন্ত এগুলি শুধুমাত্র প্রতিবেশী দেশ মিয়ানমারেই দেখা গিয়েছিল। গবেষকদের মতে, মিজোরামের ঙেংপুই বন্যপ্রাণ অভয়ারণ্যে রাখাইন কীলব্যাক সাপের সন্ধান মিলেছে। এছাড়াও অরুণাচল প্রদেশের নামদাফা জাতীয় উদ্যানে কাচিন পাহাড়ি কীলব্যাক সাপ পাওয়া গেছে। এই সাপগুলির একটি বড় বৈশিষ্ট্য হল, এগুলি বিষাক্ত নয় এবং সাধারণত জল বা জলাশয়ের আশপাশের জলাভূমিতে থাকতে পছন্দ করে।



এই সাপগুলি সাধারণত হালকা লালচে রঙের হয়। এদের ত্বক স্তরযুক্ত এবং পিঠের মাঝ বরাবর একটি উঁচু রেখা থাকে। ত্বক মসৃণ নয়, বরং খানিকটা খসখসে। এই কারণেই এদের কীলব্যাক বলা হয়। বিজ্ঞানীদের মতে, এই অঞ্চলে আরও অনেক অজানা সাপের প্রজাতি থাকতে পারে, যেগুলির কোনো নথিভুক্ত তথ্য এখনও নেই। তাই এখানে বড় পরিসরে বৈজ্ঞানিক সমীক্ষার প্রয়োজন রয়েছে।



এই সাপগুলির খসখসে পিঠ তাদের সহজে আড়াল হতে সাহায্য করে। ত্বক কিছুটা উজ্জ্বল হওয়ায় আলো প্রতিফলিত হয়, ফলে আশপাশের পরিবেশের সঙ্গে এরা মিশে যেতে পারে। বিশেষ করে কাদা বা জলাভূমিতে এদের চেনা খুব কঠিন হয়ে যায়।



অরুণাচল প্রদেশের নামদাফা জাতীয় উদ্যান জীববৈচিত্র্যের জন্য অত্যন্ত বিখ্যাত। এটি উচ্চ পার্বত্য অঞ্চলে অবস্থিত। বিজ্ঞানীরা মনে করছেন, যেভাবে নতুন দুটি সাপের প্রজাতি আবিষ্কৃত হয়েছে, তেমনভাবেই আরও বহু অজানা জীবের অস্তিত্ব এখানে থাকতে পারে। তাই উত্তর-পূর্ব ভারতের দুর্গম এলাকায় গবেষণা বাড়ানো অত্যন্ত জরুরি। নতুন প্রজাতির সন্ধান ও সংরক্ষণ বিলুপ্তপ্রায় প্রাণীদের রক্ষা করতে এবং জীববৈচিত্র্যকে আরও শক্তিশালী করতে সহায়তা করবে।


No comments:

Post a Comment

Post Top Ad