প্রেসকার্ড নিউজ ওয়ার্ল্ড ডেস্ক, ৩১ মার্চ ২০২৬, ১৫:১৮:০১ : তেল ও গ্যাস সংকটের মধ্যে পাকিস্তান সরকার একটি বড় সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তেল ও গ্যাসের অবৈধ মজুত ও চুরি এখন সন্ত্রাসবাদের আওতায় আনা হয়েছে। এ নিয়ে সোমবার জাতীয় সংসদে একটি বিল পেশ করা হয়েছে। এই বিল পাস হলে পাকিস্তানে তেল ও গ্যাস মজুত করা, চোরাচালান করা এবং অবৈধভাবে রাখা অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে। প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবিরোধী আইনও প্রয়োগ করা যেতে পারে।
ডন পত্রিকার প্রতিবেদন অনুযায়ী, পাকিস্তান সরকার সংসদে ফৌজদারি আইন (সংশোধনী) বিল, ২০২৬ পেশ করেছে। তেল ও গ্যাস সংকটের প্রেক্ষিতে এই বিল আনা হয়েছে। সরকারের দাবি, মাফিয়াদের সঙ্গে যোগসাজশ করে প্রথমে তেল সংরক্ষণ কেন্দ্রগুলিতে হামলা চালানো হয় এবং পরে সেই তেল মজুত করে বেশি দামে বিক্রি করা হয়।
পাকিস্তান এই সিদ্ধান্ত কেন নিল?
পাকিস্তান সরকারের মতে, সন্ত্রাসীরা প্রথমে পাইপলাইন নষ্ট করে এবং পরে মাফিয়াদের মাধ্যমে তেল ও গ্যাস বিক্রি করে। এই অর্থ সন্ত্রাস ছড়ানোর কাজে ব্যবহার করা হয়। তাই তেল ও গ্যাস সংক্রান্ত অপরাধ দমনে কঠোর আইন আনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
সোমবার বেলুচিস্তানে একটি তেল পাইপলাইনে হামলার খবর পাওয়া গেছে, যার ফলে কোয়েটা সহ একাধিক এলাকায় সরবরাহ ব্যাহত হয়েছে। এই হামলা কারা এবং কেন করেছে, সে বিষয়ে সরকার এখনও কিছু জানায়নি।
নতুন আইনে কী কী রয়েছে?
১. কেউ তেল বা গ্যাস চুরি করতে গিয়ে ধরা পড়লে তার বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা করা হবে। এতে ১৪ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড এবং ৩ কোটি টাকা পর্যন্ত জরিমানার বিধান রয়েছে।
২. তেল বা গ্যাসের চোরাচালান বা মজুতের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ১০ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড হতে পারে। পাইপলাইনে হামলা চালানোর ক্ষেত্রেও কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।
৩. এই আইনে অভিযুক্ত ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করতে কোনো পরোয়ানার প্রয়োজন হবে না। কর্তৃপক্ষ সরাসরি ব্যবস্থা নিতে পারবে।
৪. পাকিস্তানে সন্ত্রাসবাদের অভিযোগে অভিযুক্তদের ক্ষেত্রেও একই ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হয়। তাদের গ্রেপ্তার করতে পরোয়ানার প্রয়োজন হয় না এবং ন্যূনতম ১৪ বছরের সাজা দেওয়া হয়।

No comments:
Post a Comment