প্রেসকার্ড নিউজ ন্যাশনাল ডেস্ক, ২৭ মার্চ ২০২৬, ১১:১৭:০১ : আমেরিকা–ইরান যুদ্ধের জেরে সারা দেশে জ্বালানির দামের সম্ভাব্য বৃদ্ধির আশঙ্কার মধ্যে ভারত সরকার পেট্রোল ও ডিজেল—দুই ক্ষেত্রেই অতিরিক্ত উৎপাদন শুল্কে বড় কাটছাঁট করেছে। সরকারি নির্দেশ অনুযায়ী, পেট্রোলের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত উৎপাদন শুল্ক লিটার প্রতি আগের ১৩ টাকা থেকে কমিয়ে ৩ টাকা করা হয়েছে। ডিজেলের ক্ষেত্রে এই শুল্ক আগের ১০ টাকা থেকে শূন্যে নামানো হয়েছে।
এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে আমেরিকা–ইজরায়েলের সঙ্গে ইরানের সংঘাত এবং তার ফলে তেহরানের পক্ষ থেকে হরমুজ প্রণালীতে আরোপিত অবরোধের কারণে তৈরি হওয়া বৈশ্বিক জ্বালানি সংকটের প্রেক্ষিতে। হরমুজ প্রণালী বিশ্ব জ্বালানি সরবরাহের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পথ। যুদ্ধের আগে এই পথ দিয়ে প্রতিদিন প্রায় ২০ থেকে ২৫ মিলিয়ন ব্যারেল অপরিশোধিত তেল এবং প্রায় ১০ বিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস পরিবাহিত হত, যা মোট সামুদ্রিক জ্বালানি পরিবহনের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ।
এর পাশাপাশি কেন্দ্র সরকার প্রথমবারের মতো বিমান জ্বালানির উপর বিশেষ অতিরিক্ত উৎপাদন শুল্ক চালু করেছে। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, এই শুল্ক লিটার প্রতি ৫০ টাকা নির্ধারণ করা হলেও ছাড়ের পর কার্যকর হার দাঁড়িয়েছে ২৯.৫ টাকা। এর ফলে বিমান সংস্থাগুলির খরচ বাড়তে পারে এবং তার প্রভাব যাত্রীদের টিকিটের দামে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
সরকার পেট্রোলের ক্ষেত্রে শুল্ক শূন্য রেখেছে, আর ডিজেলের ক্ষেত্রে লিটার প্রতি ১৮.৫ টাকা নির্ধারণ করেছে। রপ্তানির জন্য পেট্রোল, ডিজেল এবং বিমান জ্বালানির উপর বিভিন্ন শুল্কে ছাড় দেওয়া হয়েছে। এছাড়া ২০২২ সালে চালু হওয়া অতিরিক্ত মুনাফা করও তুলে নেওয়া হয়েছে, ফলে দেশীয় তেল সংস্থাগুলি বড় স্বস্তি পাবে। এই সব পরিবর্তন ২৬ মার্চ ২০২৬ থেকে সঙ্গে সঙ্গে কার্যকর হয়েছে।
উৎপাদন শুল্ক কমানোর পর বড় প্রশ্ন উঠছে—পেট্রোল ও ডিজেলের দাম কি কমবে? সাধারণ মানুষের জন্য এই খবর ততটা স্বস্তিদায়ক নাও হতে পারে। সূত্রের মতে, পাম্পে জ্বালানির দাম কমার সম্ভাবনা খুবই কম।
এর প্রধান কারণ হল তেল সংস্থাগুলির বড় ক্ষতি। বর্তমানে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেল প্রতি ১০০ ডলারেরও বেশি। এর ফলে ভারতে তেল সংস্থাগুলি প্রতি লিটার পেট্রোল ও ডিজেল বিক্রিতে প্রায় ৪৮.৮ টাকা লোকসান করছে। সরকারের দেওয়া প্রায় ১০ টাকার স্বস্তি মূলত এই ক্ষতি কিছুটা পুষিয়ে নিতেই ব্যবহার করা হবে।

No comments:
Post a Comment