মোমো খেয়ে গুরুতর অসুস্থ! একাধিক উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ১০, আতঙ্ক - Press Card News

Breaking

Post Top Ad

Post Top Ad

Friday, March 27, 2026

মোমো খেয়ে গুরুতর অসুস্থ! একাধিক উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ১০, আতঙ্ক


ন্যাশনাল ডেস্ক, ২৭ মার্চ ২০২৬: বর্তমানে নেপালি বা তিব্বতি মোমোর জনপ্রিয়তা প্রচুর। রেস্তোরাঁ তো রয়েইছে, রাস্তার পাশে অলিগতিতেও এখন সহজেই পাওয়া যায় বিভিন্ন ধরণের মোমো। তবে এবারে এই মোমো খেয়েই অসুস্থ হয়ে পড়লেন একাধিক জন। এমনকি তাঁদের হাসপাতালেও ভর্তি করা হয়েছে। গ্রেটার নয়ডার দাদরি এলাকায় ঘটেছে এই ঘটনা।


জানা গিয়েছে, তাঁরা সবাই তহসিলের কাছের একই দোকান থেকে মোমোগুলো কিনেছিলেন। এরপর তাঁদের বমি, পেটে ব্যথা, মাথাব্যথা এবং জ্বর-সহ বিভিন্ন উপসর্গ দেখা দেয়। স্বাস্থ্যের অবনতি হলে তাঁদের তড়িঘড়ি দাদরির সরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বর্তমানে সেখানেই চিকিৎসাধীন আছেন।


জানা গেছে, অসুস্থ ব্যক্তিরা দুটি ভিন্ন পরিবারের সদস্য। এই ঘটনায় এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে এবং খাবার ও পানীয়ের মান নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। 'নাই আবাদি' এলাকার একই পরিবারের দশজন সদস্য একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানের জন্য খাবার অর্ডার করার পর অসুস্থ হয়ে পড়েন। আক্রান্তদের এক আত্মীয় আরিফ বলেন, "গতকাল সন্ধ্যায় মোমো খাওয়ার পর আজ সবার শারীরিক অবস্থার অবনতি হয়েছে।"


আরেকজন রোগী, স্যান্ডি, নিশ্চিত করেছেন যে—একই বিক্রেতার কাছ থেকে খাবার খাওয়ার পর তিনি দুই দিন হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন। তিনি বলেন, "অসুস্থ হওয়ার আগে আমি মোমো খেয়েছিলাম।"


দাদরি হাসপাতালের ডা. কাশিফ নাদিম আলম জানিয়েছেন ১০-১২ জন রোগী চিকিৎসাধীন। বৃহস্পতিবার রাতে তিনি জানান যে, দুপুর ২টা থেকে ৩টার মধ্যে প্রায় ১০ জন রোগী হাসপাতালে আসেন। তাঁরা পেটে ব্যথা এবং পাতলা পায়খানার কথা জানান। সাক্ষাৎকারে সকল রোগীই বাইরের খাবার (মোমো) খাওয়ার কথা স্বীকার করেন, যা তাঁদের অসুস্থতার কারণ বলে মনে করা হচ্ছে। রোগীদের ইনজেকশন ও ওষুধ দেওয়া হয়েছে এবং তাঁরা হাসপাতালে পর্যবেক্ষণে আছেন। 


তিনি আগামী দুই থেকে তিন ঘন্টা তাঁদের অবস্থা পর্যবেক্ষণ করা হবে। তাঁদের অবস্থার উন্নতি হলে কয়েকজনকে বাড়ি ছেড়ে দেওয়া হবে, আর অবস্থার উন্নতি না হলে তাঁদের প্রয়োজনীয় ওষুধ ও চিকিৎসা দেওয়া হবে।



ডাক্তার কাশিফ নাদিম আলম জানিয়েছেন যে, রোগীদের অবস্থার বর্তমানে উন্নতি হচ্ছে এবং এখনও খুব বেশি দেরি হয়ে যায়নি। রোগীদের অবস্থা দেখে মনে হচ্ছে, এটি খাদ্যে বিষক্রিয়ার ঘটনা হতে পারে। তদন্ত এখনও চলছে এবং এ বিষয়ে হাসপাতালের ঊর্ধ্বতন আধিকারিকদের সঙ্গে আলোচনা করা হবে।  


তিনি আরও বলেন যে, রোগীদের তীব্র উপসর্গ থাকলেও, ওষুধ ও ইনজেকশন দেওয়ার পর তাদের অবস্থার উন্নতি হয়েছে। এই বিষয়ে জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে একটি আনুষ্ঠানিক অভিযোগও দায়ের করা হয়েছে।


সংবাদমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশের পর খাদ্য নিরাপত্তা বিভাগ ঘটনাটি গুরুত্ব সহকারে নিয়েছে। নমুনা সংগ্রহ এবং স্বাস্থ্যবিধি নিরীক্ষার জন্য তহসিল অফিসের কাছের মোমোর দোকানটিতে একটি তদন্তকারী দল পরিদর্শনের কথা রয়েছে।

No comments:

Post a Comment

Post Top Ad