প্রেসকার্ড নিউজ ওয়ার্ল্ড ডেস্ক, ১৪ মার্চ ২০২৬, ২১:২৫:০১ : মধ্যপ্রাচ্যে আমেরিকা-ইজরায়েল ও ইরানের মধ্যে চলতে থাকা যুদ্ধ তৃতীয় সপ্তাহে প্রবেশ করেছে। এর মধ্যেই একের পর এক হামলার ঘটনা ঘটছে, যার ফলে পরিস্থিতি ক্রমেই আরও গুরুতর হয়ে উঠছে। শনিবার (১৪ মার্চ) ইরাকের রাজধানী বাগদাদে অবস্থিত আমেরিকার দূতাবাস চত্বরে একটি হেলিপ্যাডে ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানে। এর পর দূতাবাস এলাকার ওপর ঘন ধোঁয়ার বিশাল মেঘ দেখা যায়।
এদিকে সংযুক্ত আরব আমিরাতের ফুজাইরাহ বন্দর সংলগ্ন একটি তেল স্থাপনার কাছে ভূপাতিত ড্রোনের ধ্বংসাবশেষ পড়ে আগুন লেগে যায়। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আকাশেই গুলি করে নামিয়ে দেওয়া একটি ড্রোনের ধ্বংসাবশেষ সেখানেই পড়েছিল। ঘটনার পর বন্দর এলাকায় নিরাপত্তা আরও জোরদার করা হয়েছে। ফুজাইরাহ বিশ্বে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ তেল রপ্তানি কেন্দ্র, তাই এই অঞ্চলে যেকোনো সামরিক তৎপরতা বিশ্ব জ্বালানি বাজারে প্রভাব ফেলতে পারে।
ইরানের খার্গ দ্বীপে সামরিক ঘাঁটি ধ্বংস— ট্রাম্প
একদিন আগে আমেরিকার রাষ্ট্রপতি ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেন, আমেরিকার সেনাবাহিনী ইরানের তেল সরবরাহ ব্যবস্থার জন্য গুরুত্বপূর্ণ খার্গ দ্বীপে থাকা সামরিক ঘাঁটিগুলো সম্পূর্ণ ধ্বংস করে দিয়েছে। এই দ্বীপটি ইরানের তেল রপ্তানির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এখানে দেশের প্রধান তেল টার্মিনাল অবস্থিত। ট্রাম্প সতর্ক করে বলেন, যদি ইরান হরমুজ প্রণালী দিয়ে যাতায়াত করা জাহাজে হস্তক্ষেপ করে, তাহলে আমেরিকা ইরানের পুরো তেল অবকাঠামোকেই লক্ষ্যবস্তু করতে পারে।
অঞ্চলে সামরিক উপস্থিতি বাড়াল আমেরিকা
এই পরিস্থিতির মধ্যে আমেরিকা মধ্যপ্রাচ্যে নিজেদের সামরিক উপস্থিতিও বাড়িয়েছে। এক আমেরিকান কর্মকর্তা জানান, প্রায় আড়াই হাজার অতিরিক্ত নৌ-সেনা এবং উভচর আক্রমণক্ষম একটি যুদ্ধজাহাজ “ইউএসএস ট্রিপোলি” মধ্যপ্রাচ্যে পাঠানো হচ্ছে। একত্রিশতম নৌ অভিযাত্রী ইউনিটের সেনারা সাধারণত দূতাবাসের নিরাপত্তা, নাগরিকদের উদ্ধার এবং জরুরি সহায়তা কাজে বিশেষ দক্ষ বলে পরিচিত। তবে আমেরিকান কর্মকর্তারা বলেছেন, এই মোতায়েনের অর্থ এই নয় যে স্থলযুদ্ধ শুরু হতে যাচ্ছে।
ইরানের সংসদের সভাপতির সতর্কবার্তা
অন্যদিকে ইরানের সংসদের সভাপতি সতর্ক করে বলেছেন, এ ধরনের হামলার জবাবে ইরানের প্রতিক্রিয়ার মাত্রা আরও বাড়তে পারে। ইরান ইতিমধ্যে ইজরায়েল এবং উপসাগরীয় কয়েকটি আরব দেশের দিকে ব্যাপক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়ে যাচ্ছে এবং কার্যত হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে দিয়েছে। এই প্রণালী দিয়েই বিশ্বের বাণিজ্য হওয়া মোট তেলের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ পরিবাহিত হয়। এদিকে আমেরিকা ও ইজরায়েলের যুদ্ধবিমান ইরানের বিভিন্ন সামরিক ও অন্যান্য লক্ষ্যবস্তুতে বোমাবর্ষণ চালিয়ে যাচ্ছে।
লেবাননে মানবিক সংকট আরও তীব্র হয়েছে। সেখানে প্রায় আটশো মানুষের মৃত্যু হয়েছে এবং আট লক্ষ পঞ্চাশ হাজার মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে। কারণ ইজরায়েল ইরান সমর্থিত হিজবুল্লাহ জঙ্গিদের বিরুদ্ধে ধারাবাহিক হামলা চালাচ্ছে এবং সতর্ক করেছে যে এই অভিযানে কোনো রকম শিথিলতা দেখানো হবে না।

No comments:
Post a Comment