নিজস্ব সংবাদদাতা, নদিয়া: আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের জন্য সোমবার ১৯২ আসনে প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করে বামফ্রন্ট। প্রার্থী তালিকায় এদিন অন্যতম নাম ছিল সাবিনা ইয়াসমিনের। কালীগঞ্জে উপনির্বাচনের ফল ঘোষণার দিন বোমার আঘাতে ছোট্ট তামান্নার মৃত্যু হয়। তারই মা সাবিনা ইয়াসমিনকে বিধানসভা নির্বাচনে প্রার্থী করে বড়সড় চমক দেয় সিপিএম। বিমান বসু জানান, তাঁর জন্য আরএসপি ওই আসনের দাবী ছেড়ে দিয়েছে। কিন্তু সেই প্রার্থীকে অপছন্দ! আর তাই প্রার্থী তালিকা ঘোষণার পরদিনই কালীগঞ্জে তুলকালাম। তামান্নার মা সাবিনা ইয়াসমিনকে প্রার্থী হিসেবে পছন্দ না হওয়ায় মঙ্গলবার সিপিএমের দলীয় কার্যালয়ে ভাঙচুর চালানো হয়। অভিযোগ দলেরই কর্মী-সমর্থকদের একাংশের বিরুদ্ধে।
সাবিনাকে প্রার্থী হিসেবে মেনে নিতে পারেননি তাঁরা। তাই একেবারে প্রার্থী ঘোষণার পরের দিনই তাণ্ডব চলল সিপিএম দলীয় কার্যালয়ে। ভাঙা হয় চেয়ার। মাটিতে পড়ে থাকতে দেখা যায় লাল পতাকা। ব্যাপক ভাঙচুর চলল পার্টি অফিসে। এতে নাম জড়ায় এলাকারই সিপিএম কর্মীদের।
সিপিএম কর্মীদের একাংশ দলীয় কার্যালয়ে মঙ্গলবার ভাংচুর করে। তাঁদের দাবী, অবিলম্বে প্রার্থী বদল করতে হবে। এ নিয়ে অবশ্য মুখে কুলুপ এঁটেছেন স্থানীয় সিপিএম নেতারা। তাঁদের কথায়, ঘটনা ঠিক কী ঘটেছে, কারা এর সঙ্গে জড়িত, খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে। কোনও ষড়যন্ত্র বা বিরোধীদের প্ররোচনা রয়েছে কিনা দেখা হচ্ছে। তবে, এ বিষয়ে সিপিএম জেলা কমিটির সদস্য এসএম সাদি সংবাদমাধ্যমে জানান, তেমন কিছু ঘটেনি তবে প্রার্থী নিয়ে খুব বিক্ষোভ একটু আছে। দলীয় স্তরে মিটিয়ে নেওয়া হবে।
প্রসঙ্গত, কালীগঞ্জে উপনির্বাচন হয়েছিল গত বছরের ১৯ জুন। ২৩ জুন সোমবার ছিল ভোট গণনা ও ফলপ্রকাশ। সেদিন গণনা শেষ হওয়ার আগেই তৃণমূল বিজয় মিছিল বের করে। অভিযোগ, সেই মিছিল থেকে স্থানীয় সিপিএম কর্মীদের বাড়িতে বোমা ছোঁড়া হয়। বোমার আঘাতে মৃত্যু হয় ছোট্ট তমান্নার। ঘটনার রীতিমতো শোরগোল পড়ে যায় গোটা রাজ্যে। সেই ঘটনার পর বারবার পথে নেমেছেন সাবিনা। বিচার চেয়ে লড়াই করেছেন, সরব হয়েছেন দোষীদের শাস্তির দাবীতে। সেই সাবিনা ইয়াসমিনকে ছাব্বিশের বিধানসভা ভোটে প্রার্থী করে সিপিএম চমক দিলেও, স্থানীয় কর্মীদের একাংশের পছন্দ হয়নি সেই প্রার্থীকে। অভিযোগ, তার জেরেই দলীয় কার্যালয়ে এই ভাঙচুর।

No comments:
Post a Comment