প্রেসকার্ড নিউজ ন্যাশনাল ডেস্ক, ১১ মার্চ ২০২৬, ১৭:৪৫:০১ : গুজরাটের বন্দরে আসছিল থাইল্যান্ডের একটি পণ্যবাহী জাহাজ। বুধবার সেই জাহাজে দুটি ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে হামলা চালানো হয়। উদ্ধার অভিযানে এখন পর্যন্ত ২০ জন নাবিককে বাঁচানো হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইজরায়েলের সঙ্গে চলা সংঘাতের মাঝে ইরান হরমুজ প্রণালীতে কঠোর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে। ওই পথ দিয়ে যাওয়া ইউরোপ, আমেরিকা ও আরও অনেক দেশের জাহাজকে লক্ষ্যবস্তু করা হচ্ছে।
থাইল্যান্ডের রাজকীয় নৌবাহিনী জানিয়েছে, বুধবার সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে রওনা হওয়ার কিছুক্ষণ পরই হরমুজ প্রণালীর কাছে থাই পতাকাবাহী একটি পণ্যবাহী জাহাজে হামলা হয়। ‘ময়ূরী নারি’ নামের এই জাহাজটি ছিল একটি বড় আকারের মালবাহী জাহাজ। এটি সংযুক্ত আরব আমিরাতের খলিফা বন্দর থেকে ভারতের গুজরাটের কাণ্ডলা বন্দরের উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছিল। বুধবার ভোর প্রায় ৪টা ১০ মিনিটের সময় জাহাজটির ওপর হামলা চালানো হয়।
নৌবাহিনীর বিবৃতিতে বলা হয়েছে, দুটি ক্ষেপণাস্ত্র জাহাজের জলের রেখার উপরের অংশে আঘাত হানে। এতে জাহাজের পেছনের অংশ ও ইঞ্জিন কক্ষে বিস্ফোরণ ঘটে এবং আগুন লেগে যায়। নৌবাহিনীর প্রকাশিত ছবিতে দেখা যায়, জাহাজের পেছনের দিক থেকে ঘন ধোঁয়া বের হচ্ছে। নৌবাহিনীর মুখপাত্র পারাজ রতনজয়াপন জানান, ওমানের নৌবাহিনী ২০ জন নাবিককে উদ্ধার করেছে। তারা জাহাজ ছেড়ে একটি লাইফবোটে করে বেরিয়ে গিয়েছিল। পরে তাদের খাসাব উপকূলে নিয়ে যাওয়া হয়। বাকি তিনজনকে উদ্ধারের চেষ্টা এখনও চলছে। ঘটনাটির তদন্তও চলছে।
এদিকে সমুদ্র নিরাপত্তা সংস্থাগুলি ও বিভিন্ন সূত্র জানিয়েছে, থাইল্যান্ডের পতাকাবাহী এই মালবাহী জাহাজটি সেই তিনটি জাহাজের একটি, যেগুলোর ওপর হরমুজ প্রণালী বা তার আশপাশে অজ্ঞাত ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে হামলা হয়েছে। এই হামলায় থাই জাহাজটিই সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানা গেছে।
ব্রিটেনের সামুদ্রিক নিরাপত্তা কেন্দ্র জানিয়েছে, ইরানের উত্তরের দিকে হরমুজ প্রণালী এলাকায় একটি মালবাহী জাহাজে অজ্ঞাত ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত করার পর আগুন ধরে যায়। ফলে জাহাজের নাবিকদের জাহাজ ছেড়ে বেরিয়ে যেতে বাধ্য হতে হয়।
থাই নৌবাহিনী জানিয়েছে, তারা বাহরাইনে অবস্থিত যৌথ সামুদ্রিক বাহিনীর সদর দপ্তরের মাধ্যমে সমন্বয় করছে। পাশাপাশি বাহরাইন, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও ওমানের থাই দূতাবাসের সঙ্গে যোগাযোগ রাখা হয়েছে। ময়ূরী নারি জাহাজের নাবিকদের খোঁজ ও উদ্ধারে ব্রিটেনের সামুদ্রিক বাণিজ্য পরিচালনা সংস্থার সঙ্গেও কাজ করা হচ্ছে।
নৌবাহিনী আরও জানিয়েছে, থাইল্যান্ডের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কনস্যুলার বিষয়ক বিভাগ, সামুদ্রিক বিভাগ এবং থাই সামুদ্রিক আইন প্রয়োগ কেন্দ্রের সঙ্গে সমন্বয় করে সব ২৩ জন নাবিককে সহায়তা দেওয়া এবং তাদের নিরাপদে থাইল্যান্ডে ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা করা হচ্ছে।

No comments:
Post a Comment