প্রেসকার্ড নিউজ ওয়ার্ল্ড ডেস্ক, ২৩ মার্চ ২০২৬, ২৩:১০:০১ : মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ফ্লোরিডায় ইরান যুদ্ধ নিয়ে প্রায় ৩০ মিনিট ধরে সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলেছেন। তিনি জানান, আলোচনার উদ্যোগ যুক্তরাষ্ট্র নেয়নি, বরং ইরানই প্রথম যোগাযোগ করেছে। ট্রাম্পের দাবি, “ওরাই আমাদের ফোন করেছে, আমরা করিনি।” তিনি বলেন, ইরান সমঝোতা চায় এবং যুক্তরাষ্ট্রও প্রস্তুত। তাঁর মতে, চুক্তি হওয়ার ভালো সম্ভাবনা রয়েছে, তবে কোনো নিশ্চয়তা নেই। দুই দেশের মধ্যে যুদ্ধ থামাতে ১৫টি বিষয় নিয়ে আলোচনা চলছে, যার মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ শর্ত—ইরানকে সম্পূর্ণভাবে পরমাণু অস্ত্রের পরিকল্পনা ত্যাগ করতে হবে।
এর আগে ট্রাম্প তাঁর সামাজিক মাধ্যমে জানান, ইরানের জ্বালানি পরিকাঠামোর ওপর সম্ভাব্য হামলা আপাতত ৫ দিনের জন্য স্থগিত রাখা হয়েছে। আলোচনাকে এগিয়ে নিতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, এই ৫ দিনে দেখা হবে আলোচনা কতটা সফল হয়। তবে সতর্ক করে তিনি জানান, যদি আলোচনা ব্যর্থ হয়, তাহলে আবার হামলা শুরু হতে পারে। যদিও ইরানের সংবাদমাধ্যমের দাবি, এ ধরনের কোনো আলোচনা হয়নি।
ইরানে রাজনৈতিক পরিবর্তনের ইঙ্গিত
ট্রাম্প স্পষ্ট করে বলেন, যেকোনো চুক্তির প্রধান শর্ত হবে—ইরানকে পরমাণু অস্ত্র তৈরির পরিকল্পনা পুরোপুরি বন্ধ করতে হবে। তিনি বলেন, “ইরানকে পরমাণু অস্ত্র রাখতে দেওয়া হবে না।” তা না হলে কোনো সমঝোতা হবে না। তিনি আরও বলেন, চুক্তি হলে ইরানের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণে নেওয়া হতে পারে। পাশাপাশি তিনি ইরানে বড় রাজনৈতিক পরিবর্তনের কথাও উল্লেখ করেন।
আলোচনায় অগ্রগতি
ট্রাম্প জানান, গত দুই দিনে দুই দেশের মধ্যে ভালো ও গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা হয়েছে এবং বেশ কিছু বিষয়ে সমঝোতার ইঙ্গিত মিলছে। তিনি বলেন, রবিবার সন্ধ্যা পর্যন্ত আলোচনা চলেছে এবং এতে যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তা স্টিভ উইটকফ ও জ্যারেড কুশনারও উপস্থিত ছিলেন। তাঁর মতে, এই আলোচনা সফল হলে মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা অনেকটাই কমে যেতে পারে।
তেলের দামে প্রভাবের সম্ভাবনা
ট্রাম্প বলেন, ইরান সমঝোতা করতে আগ্রহী এবং যুক্তরাষ্ট্রও প্রস্তুত। মধ্যপ্রাচ্যের অন্যান্য অংশীদার দেশগুলোকেও এই আলোচনায় গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। তিনি দাবি করেন, যদি চুক্তি হয়, তাহলে তেলের দাম দ্রুত কমে যেতে পারে।
তিনি আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বড় বড় বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রের ওপর হামলার প্রস্তুতি নিয়েছিল। এসব প্রকল্পে ১০ বিলিয়ন ডলারের বেশি খরচ হয়েছে এবং হামলা হলে একবারেই সেগুলো ধ্বংস হয়ে যেতে পারত। তিনি প্রশ্ন তোলেন, ইরান কেন এমন ক্ষতি মেনে নেবে।
শেষে ট্রাম্প বলেন, যুক্তরাষ্ট্র যে ব্যক্তির সঙ্গে আলোচনায় রয়েছে, তিনি ইরানের সম্ভাব্য নতুন সর্বোচ্চ নেতা মুজতবা খামেনেই নন। তাঁর সম্পর্কে কেউ পরামর্শও নেয়নি। তিনি আরও বলেন, “আমরা জানি না তিনি জীবিত আছেন কি না। আমি চাই না ইরানের কোনো নেতাকে হত্যা করা হোক। বর্তমানে এমন পদে কেউ থাকতে চাইবে না।”

No comments:
Post a Comment