প্রেসকার্ড নিউজ বিনোদন ডেস্ক, ১৫ মার্চ ২০২৬, ০৯:০০:০১ : শারীরিক স্বাস্থ্যের পাশাপাশি মানসিক স্বাস্থ্যের যত্ন নেওয়াও খুবই জরুরি। আর এই কাজে আপনার বলা কথাগুলোরও বড় ভূমিকা রয়েছে। আপনি মুখ থেকে যে শব্দ উচ্চারণ করেন, তা শুধু আপনাকে মানসিক শান্তিই দেয় না, শরীরের ওপরও তার প্রভাব পড়ে। এই আরোগ্যদায়ী শক্তি সম্পর্কে অনেক গবেষণায় উল্লেখ করা হয়েছে, পাশাপাশি আয়ুর্বেদের চিকিৎসকরাও এর গুরুত্বের কথা বলেন। যখন মানুষ এই শক্তিকে বুঝতে শেখে, তখন তা জীবনের উপর নিয়ন্ত্রণ রাখতে সাহায্য করে এবং মনে লুকিয়ে থাকা পুরনো আবেগের ক্ষতও ধীরে ধীরে সেরে ওঠে।
এই শব্দগুলো নানা রকম হতে পারে—অন্যের সঙ্গে সচেতন ও সংবেদনশীলভাবে কথা বলা, নিজের সঙ্গে নিজের ইতিবাচক কথা বলা কিংবা ভালো চিন্তা করা। জীবনে যখনই ইতিবাচক শব্দকে জায়গা দেওয়া হয়, তখন তার প্রভাব ধীরে ধীরে চোখে পড়তে শুরু করে।
আরোগ্যদায়ী শব্দ কী
আরোগ্যদায়ী শব্দ বলতে সেই সব ইতিবাচক শব্দকে বোঝায়, যা মানুষের আত্মাকে নির্মল করে এবং ভালো চিন্তার জন্ম দেয়।
এমন শব্দ, যা মানুষকে নিজের মূল্য বুঝতে সাহায্য করে এবং আত্মবিশ্বাস বাড়ায়।
আরোগ্যদায়ী শব্দের পেছনের বিজ্ঞান
বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে যে ইতিবাচক এবং বিশেষ ধরনের শব্দ মস্তিষ্কের নির্দিষ্ট স্নায়ু পথকে সক্রিয় করে। এর ফলে মানুষের অনুভূতি প্রভাবিত হয় এবং আচরণেও তার প্রতিফলন দেখা যায়।
চিন্তায় ইতিবাচকতা এলে দেহে চাপ সৃষ্টিকারী হরমোনের মাত্রা কমে যায়।
যখন মানুষ সহানুভূতির সঙ্গে কারও সঙ্গে কথা বলে, তখন শরীরে এমন হরমোনের সৃষ্টি হয় যা বিশ্বাস ও সম্পর্ককে আরও দৃঢ় করে।
সচেতনভাবে ভালো শব্দ ব্যবহার করলে নেতিবাচক চিন্তা কমে যায় এবং মানসিক শান্তি বাড়ে।
শারীরিক স্বাস্থ্যের উপর এর প্রভাব
অনেক সময় শরীরের ভেতরে থাকা দীর্ঘস্থায়ী অসুখের প্রভাব বাইরে ত্বক, চুল এবং নখে দেখা যায়। এসব সমস্যার সমাধানে মানুষ সাধারণত ওষুধ বা খাদ্যাভ্যাস পরিবর্তনের দিকে বেশি মনোযোগ দেয়। কিন্তু কথার আরোগ্যদায়ী শক্তিকে অনেক সময় গুরুত্ব দেওয়া হয় না।
আয়ুর্বেদের চিকিৎসকরা সহজভাবে ব্যাখ্যা করেন যে, শারীরিক চিকিৎসার পাশাপাশি মানসিক আরোগ্যও সমানভাবে প্রয়োজন। আমাদের ত্বক, চুল ও নখে অসংখ্য কোষ রয়েছে। এই কোষগুলোর ভেতরে শক্তি উৎপাদনকারী অংশ থাকে, যা অসুস্থতা বা আঘাতের সময় দুর্বল হয়ে পড়ে। তখন শরীরের কোষগুলোর এমন শক্তির প্রয়োজন হয়, যা তাদের পুষ্টি জোগায় এবং সেই শক্তি শরীরের বিভিন্ন অঙ্গ, চুল, ত্বক ও নখে পৌঁছে দেয়।
এই শক্তি কেবল খাবার থেকেই আসে না, মানুষের কথাবার্তা ও চিন্তাভাবনা থেকেও আসে। অর্থাৎ কথার শক্তি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। যখন মানুষ নিজের শরীরের জন্য ইতিবাচক কথা বলে, তখন শরীর ধীরে ধীরে সুস্থতার পথে এগোতে শুরু করে।
গবেষকদের মতে, শব্দের মধ্যেও শক্তি থাকে। মানুষ নিজের সম্পর্কে যেমন কথা বলে, শরীরও তেমন প্রতিক্রিয়া দেখায়। যেমন কেউ যদি সকালে উঠে চুলে মালিশ করার সময় মনে মনে বলে যে তার চুল ভালো হচ্ছে, ত্বক সুন্দর হচ্ছে, নখ মজবুত হচ্ছে—তাহলে সেই ইতিবাচক ভাবনার প্রভাব শরীরের উপরও পড়তে শুরু করে।

No comments:
Post a Comment