জলপাইগুড়ি, ২৫ মার্চ ২০২৬: নির্বাচনের দামামা বেজেছে। জোরকদমে প্রচারে নেমেছে শাসক দলে থেকে শুরু করে বিরোধীদলগুলোও। নির্বাচনী প্রচারে উত্তরবঙ্গে রয়েছেন তৃণমূল কংগ্রেস সুপ্রিমো তথা মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বুধবার জলপাইগুড়ি জেলার ময়নাগুড়ি টাউন ক্লাবের মাঠে নির্বাচনী জনসভা করেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। চতুর্থ বারের জন্য ক্ষমতায় আসতে উন্নয়নকেই হাতিয়ার করেছেন তিনি। এদিন প্রায় ২৫ মিনিটের বক্তব্যে মুখ্যমন্ত্রী যেমন রাজ্যের বিভিন্ন প্রকল্পের কথা তুলে ধরেন পাশাপাশি বিজেপি এবং নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধেও সরব হন। এর পাশাপাশি সভা শেষে সেখানে উপস্থিত স্থানীয়দের সঙ্গে নাচের তালে পা মেলাতেও দেখা যায় মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে।
ময়নাগুড়ির জন্য যা যা করা হয়েছে, এদিন বক্তব্যের শুরুতেই তা তুলে ধরেন মুখ্যমন্ত্রী। এরপর নির্বাচন কমিশনকে আক্রমণ করে তিনি বলেন, মধ্যরাতে সাপ্লিমেন্টারি তালিকা প্রকাশ করা হচ্ছে। সংবিধান মানা হচ্ছে না, ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়া হচ্ছে। এর পাশাপাশি বিজেপিকে আক্রমণ করে তিনি বলেন, 'যতদিন বেঁচে আছি এনআরসি করে ডিটেনশন ক্যাম্প করতে দিব না।' বিজেপি এবং কেন্দ্রীয় সরকারকে আক্রমণ করে তিনি বলেন, 'বাড়িতে পাকা ঘর, স্কুটি, টিভি থাকলেই কেন্দ্রীয় সরকারের আয়ুষ্মান সহ কোনও সুযোগ সুবিধা পাওয়া যায় না। আর আমরা সবাইকে লক্ষীর ভাণ্ডার দেই। যতদিন জীবন, ততদিন লক্ষীর ভান্ডার পাবেন।' এর পাশাপাশি চা বাগানে পাট্টা, রেশন, শিক্ষা, স্বাস্থ্য সহ সবকিছু সুবিধা রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে দেওয়া হচ্ছে বলেও জানান মমতা।
তিনি বলেন, 'আমাদের স্বাস্থ্যসাথী সবার জন্য আর তা রাজ্য সরকারের টাকায় দেওয়া হয়। বিজেপিকে আক্রমণ শানিয়ে তৃণমূল সুপ্রিমো বলেন, 'ওরা মানুষের জীবন কাড়ে, আমরা জীবন গড়ে দেই। এখন গ্যাসের জন্য মানুষকে লাইনে দাঁড়াতে হচ্ছে। কারণ গ্যাস বেলুনের গ্যাস বেড়িয়ে গেছে। এর আগে নোটবন্দির সময় মানুষকে লাইনে দাঁড়াতে হয়েছিল। এক হাজার টাকা খরচ করে আধার কার্ড বানিয়ে এখন ওরা বলে আধার কার্ড ভোটাধিকার নয়।'
গত কয়েকদিনে একটানা অকাল বৃষ্টির কারণে ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছেন আলু চাষীরা। সেই কথাও উঠে আসে মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্যে। বৃষ্টির কারণে যে আলু চাষীদের ক্ষতি হয়েছে, তাঁদের বিমার মাধ্যমে ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে বলে জানান মুখ্যমন্ত্রী।
তাঁর পরামর্শ, বাইরে থেকে লোক এনে ভোট করানোর চেষ্টা হতে পারে, তার জন্য প্রস্তুত থাকবেন। পাশাপাশি তা মা বোনেরা আটকে দেবে বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি। বিরোধী দলকে খোঁচা দিয়ে তিনি আরও বলেন, 'মাছ-মাংস খাওয়া নিয়ে বাধা দিয়েছে ওরা। এবার হয়তো বলবে মেয়েরা শাড়ি পরবে না।' ওরা অ্যান্টি বাংলা বলেও কটাক্ষ করেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর কথায়, 'আই রেসপেক্ট সেন্ট্রাল ফোর্সেস, বাট ম্যান পাওয়ার ইজ রিয়েল পাওয়ার।'
এদিন সুকান্ত মজুমদারকে আক্রমণ করে মমতা বলেন, 'আমাদের প্রার্থী রামমোহন রায়কে গাছে বেঁধে পেটানো হবে একজন বলেছেন। সেই গাছটাও আমাদের।' তিনি আরও বলেন, 'আমি মানুষের জন্য রাস্তা থেকে সুপ্রিম কোর্টে পর্যন্ত যাই। এই লড়াইয়ের জন্য অবশ্য জনসাধারণকেই কৃতিত্ব দিয়েছেন তিনি। মমতা এও বলেন, 'আমি এখানে বন্যা-সাইক্লোনে এসেছি। আমি বলি কম, কাজ করি।আর ওরা বসন্তের কোকিল, ইলেকশনের সময় আসে এবং ইলেকশন শেষ হলে পালিয়ে যায়।'
জনসভা থেকে মমতার হুঙ্কার , "যতই করো হামলা, আবার জিতবে বাংলা।" পাশাপাশি তিনি বলেন, "চার তারিখ গণনা হবে, 'এক দুই তিন চার, বিজেপির হবে হার', 'এক দুই তিন চার, তৃণমূল জিতবে আবার।"

No comments:
Post a Comment