প্রেসকার্ড নিউজ ন্যাশনাল ডেস্ক, ২২ মার্চ ২০২৬, ২০:৫৫:০১ : প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বে রবিবার সন্ধ্যায় পশ্চিম এশিয়ায় বাড়তে থাকা উত্তেজনার মধ্যে দেশের জ্বালানি প্রস্তুতি পর্যালোচনার জন্য একটি উচ্চস্তরের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনে হওয়া এই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ, প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিংহ, অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন, পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর, কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জে পি নাড্ডা, পেট্রোলিয়াম মন্ত্রী হরদীপ সিং পুরীসহ আরও অনেকে। বৈঠকটি প্রায় সাড়ে তিন ঘণ্টা ধরে চলে।
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী মন্ত্রীদের সঙ্গে সরবরাহ ব্যবস্থার বিষয়টি পর্যালোচনা করেন। পশ্চিম এশিয়ার পরিবর্তিত পরিস্থিতির প্রেক্ষিতে পেট্রোলিয়াম, অপরিশোধিত তেল, গ্যাস, বিদ্যুৎ ও সার ক্ষেত্রের অবস্থাও খতিয়ে দেখা হয়। তিনি সারা দেশে নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ বজায় রাখার নির্দেশ দেন এবং পরিবহন ও বণ্টন ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করার উপর জোর দেন।
এই বৈঠকে জ্যেষ্ঠ মন্ত্রীরা জ্বালানি, বিদ্যুৎ ও সার ক্ষেত্রের বর্তমান অবস্থা মূল্যায়ন করেন। দেশজুড়ে যাতে কোনও বাধা ছাড়াই সরবরাহ বজায় থাকে, স্থিতিশীল পরিবহন ব্যবস্থা গড়ে ওঠে এবং সুষ্ঠু বণ্টন নিশ্চিত হয়—সে বিষয়েই বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়।
অধিকারীরা জানান, বর্তমান পশ্চিম এশিয়ার সংকটের মধ্যে ভোক্তা ও শিল্পক্ষেত্রের স্বার্থ রক্ষার জন্য বিশ্ব পরিস্থিতির উপর নিয়মিত নজর রাখা অত্যন্ত জরুরি।
এর আগে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী বলেছিলেন, পশ্চিম এশিয়ার সংঘাত বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সংকট তৈরি করেছে। তিনি একে দেশের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা হিসেবে উল্লেখ করেন এবং শান্তি, ধৈর্য ও জনসচেতনতার মাধ্যমে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী আরও জোর দিয়ে বলেন, সরকার আন্তর্জাতিক সরবরাহ ব্যবস্থার বাধা দূর করতে নিরন্তর কাজ করছে। তিনি জানান, সরবরাহ ব্যবস্থায় যে সমস্যাগুলি দেখা দিয়েছে, সেগুলি কাটিয়ে উঠতে ধারাবাহিক প্রচেষ্টা চলছে।
ইরান, ইজরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলা সংঘাত, যা এখন তৃতীয় সপ্তাহে প্রবেশ করেছে, ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইজরায়েলের ইরানে হামলার পর শুরু হয়েছিল এবং তারপর থেকে আরও তীব্র হয়েছে। এর জবাবে ইরান ইজরায়েল ও উপসাগরীয় কয়েকটি প্রতিবেশী দেশে পাল্টা আঘাত হেনেছে।
জ্বালানি সরবরাহের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথ হরমুজ প্রণালীতে ইরানের নিয়ন্ত্রণ চলাচলে বড় প্রভাব ফেলেছে, ফলে খুব অল্প সংখ্যক জাহাজকে চলাচলের অনুমতি দেওয়া হয়েছে।
এর ফলে সৃষ্ট বাধা ভারতসহ বহু দেশে জ্বালানি সরবরাহে প্রভাব ফেলেছে। সংঘাত শুরু হওয়ার পর থেকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার, বাহরাইন, কুয়েত, জর্ডন, ফ্রান্স, মালয়েশিয়া, ইসরায়েল ও ইরানসহ একাধিক দেশের নেতাদের সঙ্গে টেলিফোনে আলোচনা করেছেন।

No comments:
Post a Comment