প্রেসকার্ড নিউজ ন্যাশনাল ডেস্ক, ২৮ মার্চ ২০২৬, ১১:১০:০১ : পশ্চিম এশিয়ার পরিস্থিতি নিয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীদের সঙ্গে ভার্চুয়াল বৈঠক করেন, যা প্রায় আড়াই ঘণ্টা ধরে চলে। এই বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী রাজ্যগুলির প্রস্তুতি সম্পর্কে খোঁজখবর নেন। তিনি বলেন, “টিম ইন্ডিয়া”-র মতো সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। কোনও লকডাউন জারি করা হবে না। প্রধানমন্ত্রী আশ্বাস দেন, সবাই একসঙ্গে কাজ করলে দেশ এই পরিস্থিতি কাটিয়ে উঠতে সক্ষম হবে।
প্রধানমন্ত্রী জোর দিয়ে বলেন, সরকারের প্রধান লক্ষ্য হলো অর্থনীতি ও বাণিজ্যে স্থিতিশীলতা বজায় রাখা, জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, নাগরিকদের স্বার্থ রক্ষা করা এবং শিল্প ও সরবরাহ ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করা। তিনি রাজ্যগুলিকে সরবরাহ ব্যবস্থা সচল রাখতে এবং মজুতদারি ও অতিরিক্ত মুনাফার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান।
কৃষিক্ষেত্রে আগাম পরিকল্পনার প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্ব দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিশেষ করে সার মজুত ও বিতরণ ব্যবস্থার উপর নজরদারির জন্য প্রস্তুতি থাকা জরুরি। দ্রুত পরিবর্তিত পরিস্থিতির মোকাবিলায় সব স্তরে শক্তিশালী সমন্বয় ব্যবস্থা গড়ে তোলার কথাও তিনি বলেন। পাশাপাশি সমুদ্রপথ, প্রয়োজনীয় পণ্য পরিবহন এবং উপকূলীয় রাজ্যগুলির নিরাপত্তা নিয়ে বিশেষ সতর্কতা নেওয়ার আহ্বান জানান।
প্রধানমন্ত্রী ভুয়ো খবর ও গুজব ছড়ানো থেকে বিরত থাকার সতর্কবার্তা দেন এবং সঠিক ও বিশ্বাসযোগ্য তথ্য প্রচারের ওপর জোর দেন। মুখ্যমন্ত্রীরা পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে কেন্দ্র সরকারের পদক্ষেপের প্রশংসা করেন। জ্বালানির উপর আবগারি শুল্ক কমানোর সিদ্ধান্তকেও স্বাগত জানান।
মুখ্যমন্ত্রীরা জানান, তাদের রাজ্যে পেট্রোল, ডিজেল ও রান্নার গ্যাস পর্যাপ্ত পরিমাণে মজুত রয়েছে এবং পরিস্থিতি স্থিতিশীল রয়েছে। কেন্দ্রের সঙ্গে সমন্বয় রেখে কাজ করার প্রতিশ্রুতিও তাঁরা পুনর্ব্যক্ত করেন। উল্লেখ্য, যেসব রাজ্যে নির্বাচন বিধি কার্যকর রয়েছে, সেসব রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীরা এই বৈঠকে অংশ নেননি।
এই বৈঠকে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ , প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং এবং অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন-সহ একাধিক মুখ্যমন্ত্রী উপস্থিত ছিলেন।
পশ্চিম এশিয়ার পরিস্থিতি নিয়ে প্রধানমন্ত্রী আগেই সংসদের উভয় কক্ষকে অবহিত করেছেন। তিনি বলেন, এই সংকট অত্যন্ত উদ্বেগজনক এবং তিন সপ্তাহেরও বেশি সময় ধরে চলছে। এই পরিস্থিতি শুধু ভারতের নয়, গোটা বিশ্বের জন্যই বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
তিনি আরও বলেন, এর প্রভাব বিশ্ব অর্থনীতি ও মানুষের দৈনন্দিন জীবনে পড়ছে। ভারতের জন্য এই সংঘাত অর্থনীতি, জাতীয় নিরাপত্তা এবং মানবিক—এই তিন ক্ষেত্রেই বড় চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে। উপসাগরীয় দেশগুলিতে প্রায় এক কোটি ভারতীয় বসবাস ও কাজ করেন, তাঁদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই সরকারের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার।
এই সংকটের মধ্যে কেন্দ্র সরকার বড় পদক্ষেপ নিয়ে পেট্রোল ও ডিজেলের উপর প্রতি লিটারে ১০ টাকা করে আবগারি শুল্ক কমিয়েছে। যদিও এর ফলে খুচরো দামে সরাসরি কোনও পরিবর্তন হবে না, তবুও তেলের বাড়তি খরচ সামলাতে সংস্থাগুলিকে সহায়তা করবে।
.jpg)
No comments:
Post a Comment