ওয়ার্ল্ড ডেস্ক, ২৭ মার্চ ২০২৬: ইরানে একটি বড় ধরণের হামলা হয়েছে। ইরানের সরকারি সংবাদমাধ্যম দাবী করেছে যে, তাদের পারমাণবিক কেন্দ্রগুলোকে শুক্রবার নিশানা করা হয়েছে, যার মধ্যে একটি হেভি-ওয়াটার প্লান্ট এবং একটি ইয়েলোকেক উৎপাদন কেন্দ্রও রয়েছে। ইরানের ফার্স নিউজ এজেন্সির মতে, মার্কিন ও ইজরায়েলি হামলায় মধ্য ইরানে অবস্থিত একটি হেভি-ওয়াটার রিঅ্যাক্টরকে নিশানা করা হয়েছে।
ফার্স নিউজ এজেন্সি মধ্য মারকাজি প্রদেশের একজন আধিকারিক হাসান গামারির উদ্ধৃতি দিয়ে বলেছে, "খন্দাব হেভি ওয়াটার কমপ্লেক্সকে মার্কিন ও ইজরায়েলি শত্রুদের হামলায় দুই ধাপে নিশানা করা হয়েছে।"
হেভি-ওয়াটার প্লান্ট এবং ইয়েলোকেক প্রোডাকশন প্লান্ট উভয়ই পারমাণবিক শক্তি কর্মসূচির সঙ্গে জড়িত অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্লান্ট। হেভি ওয়াটার প্রধানত পারমাণবিক রিঅ্যাক্টরে নিউট্রনের গতি কমানোর জন্য ব্যবহার করা হয়।
ইয়েলোকেক হল ইউরেনিয়াম আকরিক থেকে নিষ্কাশিত ইউরেনিয়ামের প্রাথমিক ঘনীভূত রূপ। এটি একটি হলুদ রঙের গুঁড়ো। এটি পারমাণবিক জ্বালানি উৎপাদনের প্রথম পর্যায়। এরপর এই ইয়েলোকেক প্রক্রিয়াজাত করে পারমাণবিক বোমা তৈরি করা হয়।
প্রতিবেদন অনুসারে, এই হামলা খন্দাব পাওয়ার প্লান্টে হয়েছে। এখানে প্রায় ১০ বার হামলা করা হয়েছে। হামলার পর কালো ধোঁয়া বের হতে দেখা যায়। এখন পর্যন্ত কোনও হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। ঘটনাস্থল থেকে তেজস্ক্রিয়তা ছড়ানোর কোনও খবর পাওয়া যায়নি।
খন্দাব পাওয়ার প্লান্ট মধ্য ইরানের আরাক শহরের কাছে খন্দাব এলাকায় অবস্থিত। আগে এটি আরাক হেভি ওয়াটার রিঅ্যাক্টর বা আইআর-৪০ নামে পরিচিত ছিল। ২০১৭ সালে এর আনুষ্ঠানিক নাম পরিবর্তন করে খন্দাব হেভি ওয়াটার রিসার্চ রিঅ্যাক্টর রাখা হয়। এটি কোনও প্রচলিত বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র নয় বরং একটি হেভি ওয়াটার রিসার্চ রিঅ্যাক্টর। হেভি ওয়াটার রিঅ্যাক্টর প্রাকৃতিক ইউরেনিয়ামে চলতে পারে এবং প্লুটোনিয়ামের উপজাত তৈরি করে, যার কারণে এগুলো পারমাণবিক অস্ত্র বিস্তারের জন্য সংবেদনশীল মনে করা হয়।
এই হামলার পর, ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) আমেরিকান ও ইজরায়েলি শিল্প প্রতিষ্ঠান ও কারখানার কর্মীদের অবিলম্বে তাঁদের কর্মস্থল ছেড়ে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছে। আল জাজিরা ইরানের সংবাদ সংস্থা তাসনিমের বরাত দিয়ে জানিয়েছে, একটি হেভি-ওয়াটার প্লান্ট এবং একটি ইয়েলোকেক উৎপাদন প্লান্টে হামলা চালানোর পর এই আহ্বান জানানো হয়।
আইআরজিসি হুঁশিয়ারি দিয়েছে যে, তাদের যোদ্ধারা সেই শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর প্রতিশোধমূলক হামলা চালাচ্ছে, যাতে আমেরিকারও অংশ রয়েছে। একইসঙ্গে সেই ভারী শিল্পগুলোকেও নিশানা করা হচ্ছে, যা এই অঞ্চলে ইজরায়েলের সহযোগী।
আইআরজিসি আরও জানিয়েছে যে, এই শিল্পগুলোর কর্মীদের সেখান থেকে বেরিয়ে যাওয়া উচিৎ এবং হামলা শেষ হওয়া পর্যন্ত এক কিলোমিটার ব্যাসার্ধের মধ্যে বসবাসকারীদেরও সেই জায়গা খালি করে দেওয়া উচিৎ।


No comments:
Post a Comment