প্রেসকার্ড নিউজ বিনোদন ডেস্ক, ২৯ মার্চ ২০২৬, ১০:০০:০১ : সুস্থ থাকার জন্য ফল খাওয়া একটি ভালো অভ্যাস। তবে, বিশেষজ্ঞরা সবসময় ঋতুভিত্তিক ফল খাওয়ার পরামর্শ দেন। এখন, আপনি যদি বাজার থেকে তরমুজকে ঋতুভিত্তিক ভেবে মার্চ-এপ্রিলে কিনে খান, তবে সতর্ক থাকুন। আয়ুর্বেদে তরমুজ খাওয়ার সঠিক সময় ও ঋতু সম্পর্কে ব্যাখ্যা করা হয়েছে। যোগাচার্য উমাং ব্যাখ্যা করেছেন কেন গ্রীষ্মের শুরুতে, অর্থাৎ মার্চ-এপ্রিলে, তরমুজ খাওয়া উচিত নয় এবং তরমুজ খাওয়ার সঠিক সময় কোনটি।
আয়ুর্বেদে তরমুজকে "শীত" এবং "গুরু" হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এর অর্থ হলো, এর একটি শীতল প্রভাব রয়েছে এবং এটি হজম করা কঠিন। এই ঋতুতে খালি পেটে তরমুজ খেলে শরীরে 'আম' অনুভূতি হতে পারে, যার ফলে অলসতা, ক্লান্তি এবং ভারিভাব দেখা দেয়। তরমুজ একটি গ্রীষ্মকালীন ফল, এবং বাজারে যে তরমুজ পাওয়া যায় তা ইতিমধ্যেই গ্রীষ্মকালে এসে গেছে। আপনার শরীর এই ফলটি হজম করার জন্য এখনও প্রস্তুত নয়, যার ফলে হজমের সমস্যা হতে পারে।
তরমুজ একটি গ্রীষ্মকালীন ফল। এর মানে হলো, আপনার এই ফলটি কেবল জ্যৈষ্ঠ মাসের মাঝামাঝি সময়ে, অথবা মে মাসের মাঝামাঝি সময়ে খাওয়া উচিত। গ্রীষ্মকালে তরমুজ খেলে পেট শান্ত থাকে এবং শরীর হালকা বোধ করে।
ডায়াবেটিসের জন্য তরমুজ ক্ষতিকর হতে পারে
আপনি যদি তরমুজকে হালকা ও স্বাস্থ্যকর ভেবে খান, তবে এ বিষয়ে বিজ্ঞান কী বলে তা জেনে নিন। বিজ্ঞান আরও জানায় যে, তরমুজের গ্লাইসেমিক ইনডেক্স প্রায় ৭২-৮০। তরমুজ খেলে রক্তে শর্করার পরিমাণ দ্রুত বেড়ে যেতে পারে। তাই, ডায়াবেটিস রোগীদের তরমুজ খাওয়ার আগে ডাক্তারের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
গ্রীষ্মকালে তরমুজ খাওয়ার সময় তিনটি বিষয় মনে রাখা উচিত
গ্রীষ্মকালেও এই তিনটি বিষয় মনে রাখা জরুরি।
১- সবসময় সকাল ১১টা থেকে বিকেল ৫টার মধ্যে তরমুজ খান। এই সময়ে পাকস্থলীর পাচক অগ্নি বেশি থাকে, এবং তরমুজ শুধু শরীরকে শীতলই করে না, এটি সহজে হজমও হয়।
২- সবসময় তরমুজ একা খান। এটি অন্য কোনো ফল, দুধ, দই বা ভারী খাবারের সাথে কখনোই খাবেন না।
৩- তরমুজ একটি গ্রীষ্মকালীন ফল, তাই গ্রীষ্মের মাঝামাঝি সময় পার হওয়ার পরেই, অর্থাৎ মে বা জ্যৈষ্ঠ মাস পার হওয়ার পর এটি খান। এই তিনটি নিয়ম মাথায় রেখে তরমুজ খেলে তা কেবল উপকারীই হবে।

No comments:
Post a Comment