প্রেসকার্ড নিউজ ন্যাশনাল ডেস্ক, ৩০ মার্চ ২০২৬, ১৬:২৩:০১ : সকালে টাকার দামে ১২৮ পয়সার জোরদার ঊর্ধ্বগতি দেখা গিয়েছিল। তখন কেউই ভাবেনি যে কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই টাকা আবার ভেঙে পড়বে। কিন্তু দুপুরের দিকে মুদ্রাবাজার হঠাৎ দিক বদলায় এবং সবাইকে চমকে দিয়ে টাকা বড়সড় পতনের মুখে পড়ে। প্রথমবারের মতো ডলারের তুলনায় টাকা ৯৫-এর সীমা পেরিয়ে যায় এবং নতুন সর্বনিম্ন স্তরে পৌঁছায়। দিনের সর্বোচ্চ স্তর থেকে টাকার দামে ২.৩৩ টাকার পতন লক্ষ্য করা গেছে। টাকার এই পতনের প্রভাব শেয়ার বাজারেও স্পষ্টভাবে পড়েছে। পরিসংখ্যান বলছে, আগামী দিনগুলোতে টাকার আরও দুর্বল হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
প্রথমবার ৯৫-এর উপরে
সোমবার দুপুরের পর ডলারের তুলনায় টাকার বড় পতন দেখা যায়। টাকা শুধু ৯৫-এর সীমা অতিক্রমই করেনি, বরং নতুন সর্বনিম্ন রেকর্ড গড়েছে। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, দুপুর ৩টা ২০ মিনিট নাগাদ টাকা প্রায় ০.৪১ শতাংশ কমে ৯৫.১৫৭ স্তরে লেনদেন হচ্ছিল। দিনের লেনদেন চলাকালীন টাকা ৯৫.৫৮ স্তর ছুঁয়ে সর্বনিম্ন অবস্থানে পৌঁছে যায়। বিশেষজ্ঞদের মতে, আগামী দিনে টাকার আরও পতন হতে পারে।
দিনের সর্বোচ্চ থেকে ২.৩৩ টাকা পতন
তথ্য অনুযায়ী, টাকা একসময় ৯৩.২৪৭ স্তরে শক্তিশালী হয়েছিল। কিন্তু পরে বাজারে বড় পরিবর্তন আসে এবং টাকা ২.৩৩ টাকা পড়ে ৯৫.৫৮ স্তরে পৌঁছে যায়। গত এক বছরে ডলারের তুলনায় টাকার প্রায় ১২ টাকা অবমূল্যায়ন হয়েছে। আন্তঃব্যাংক বৈদেশিক মুদ্রা বাজারে টাকা ৯৩.৬২ স্তরে খোলে এবং কিছু সময়ের জন্য ৯৩.৫৭ স্তরে শক্তিশালী হয়েছিল, যা আগের দিনের তুলনায় ১২৮ পয়সা বেশি ছিল। শুক্রবার টাকা ৮৯ পয়সা কমে ৯৪.৮৫ স্তরে বন্ধ হয়েছিল, যা তখনকার সর্বনিম্ন ছিল।
কেন এই পতন?
মুদ্রা ব্যবসায়ীদের মতে, ডলারের শক্তি বৃদ্ধি এবং অপরিশোধিত তেলের দামের ঊর্ধ্বগতি টাকার ওপর চাপ সৃষ্টি করছে। নিরাপদ বিনিয়োগের চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় ডলারের সূচক ১০০-এর উপরে শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছে, ফলে টাকার উন্নতি বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক উত্তেজনার কারণে তেলের দামে দ্রুত বৃদ্ধি দেখা গেছে, এবং সরবরাহে বাধার আশঙ্কা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করেছে।
শেয়ার বাজারেও বড় ধাক্কা
এই পরিস্থিতিতে শেয়ার বাজারেও বড় পতন লক্ষ্য করা গেছে। প্রধান সূচক প্রায় ১,৭৩৩.৭৮ পয়েন্ট কমে ৭১,৮৪৯.৪৪ স্তরে নেমে আসে। অন্য একটি সূচক ৫২৮.৪৫ পয়েন্ট কমে ২২,২৯১.১৫ স্তরে বন্ধ হয়। বাজারের তথ্য অনুযায়ী, বিদেশি প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীরা শুক্রবার মোট ৪,৩৬৭.৩০ কোটি টাকার শেয়ার বিক্রি করেছেন।

No comments:
Post a Comment