অমৃত নয়, এটাই ছিল সমুদ্র মন্থনের আসল কারণ! জানুন পুরাণকথা - Press Card News

Breaking

Post Top Ad

Post Top Ad

Saturday, March 21, 2026

অমৃত নয়, এটাই ছিল সমুদ্র মন্থনের আসল কারণ! জানুন পুরাণকথা



প্রেসকার্ড নিউজ বিনোদন ডেস্ক, ২১ মার্চ ২০২৬, ০৮:০০:০১ : দেবতা ও অসুররা একসঙ্গে সমুদ্র মন্থন করেছিলেন। এই মন্থনের ফলে সমুদ্র থেকে ১৪টি বিরল রত্ন প্রকাশ পায়, যার মধ্যে অমৃতও ছিল। পরে বিষ্ণু মোহিনী রূপ ধারণ করে সেই অমৃত দেবতাদের পান করান। এর ফলে দেবতারা অমরত্ব লাভ করেন এবং অসুরদের তুলনায় অধিক শক্তিশালী হয়ে ওঠেন। তবে শুধু অমৃত লাভই সমুদ্র মন্থনের একমাত্র উদ্দেশ্য ছিল না।



সমুদ্র মন্থনের এই ঘটনাটি ঋষি দুর্বাসা-র এক অভিশাপের সঙ্গে গভীরভাবে জড়িত। পুরাণকথা অনুযায়ী, এই অভিশাপের কারণেই সমুদ্র মন্থনের সূচনা হয়।



হিন্দু পুরাণে মহর্ষি দুর্বাসাকে অত্যন্ত ক্রোধী ঋষিদের মধ্যে অন্যতম বলা হয়। দেবতা থেকে অসুর—সবাই তাঁর রোষকে ভয় পেতেন। তাঁকে শিব-এর অংশ বলে মনে করা হয়। একবার তিনি অত্যন্ত স্নেহভরে দেবরাজ ইন্দ্র-কে পারিজাত ফুলের এক দিভ্য মালা উপহার দেন। কিন্তু ইন্দ্র তখন ঐশ্বর্যের অহংকারে মত্ত ছিলেন, তাই তিনি সেই উপহারের যথাযথ সম্মান করেননি।



ইন্দ্র সেই মালাটি তাঁর হাতি ঐরাবত-এর গলায় পরিয়ে দেন। মালার সুগন্ধে ঐরাবত উত্তেজিত হয়ে সেটি মাটিতে ফেলে পায়ে পিষে দেয়। এই অপমান দেখে ঋষি দুর্বাসা ক্রোধান্বিত হয়ে ইন্দ্রকে অভিশাপ দেন। তিনি বলেন, যে লক্ষ্মীর অহংকার তোমাকে অন্ধ করে দিয়েছে, সেই লক্ষ্মী আজই স্বর্গ ত্যাগ করবেন।



এই অভিশাপের ফলে মা লক্ষ্মী সমুদ্রে লীন হয়ে যান। স্বর্গের ঐশ্বর্য ম্লান হয়ে যায় এবং দেবতারা শক্তিহীন হয়ে পড়েন। সুযোগ পেয়ে অসুররা স্বর্গ দখল করে নেয়। বিপদে পড়ে দেবতারা তখন বিষ্ণু-এর শরণাপন্ন হন।



শ্রীহরি তাদের উপায় বাতলে দেন—অসুরদের সঙ্গে মিলিত হয়ে সমুদ্র মন্থন করতে হবে। তিনি জানান, সমুদ্র মন্থন থেকে প্রাপ্ত অমৃত পান করলে দেবতারা পুনরায় শক্তি ও অমরত্ব ফিরে পাবেন। এরপর দেবতা ও অসুররা একসঙ্গে সমুদ্র মন্থন করেন এবং সেখান থেকে ১৪টি রত্ন প্রকাশ পায়। সেই রত্নগুলির মধ্যেই পুনরায় দেবী লক্ষ্মীর আবির্ভাব ঘটে। শেষে ধন্বন্তরি দেব অমৃতের কলশ নিয়ে প্রকাশিত হন।

No comments:

Post a Comment

Post Top Ad