প্রেসকার্ড নিউজ ন্যাশনাল ডেস্ক, ২২ মার্চ ২০২৬, ১১:২২:০১ : সৌদি আরবের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় শনিবার ঘোষণা করেছে যে, তারা একাধিক ইরানি কূটনৈতিক কর্মীকে দেশ থেকে বহিষ্কার করেছে। একই সঙ্গে ভবিষ্যতেও আরও কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে। তেহরানের বিরুদ্ধে নিজস্ব ভূখণ্ড, উপসাগরীয় সহযোগিতা পরিষদের সদস্য দেশগুলো এবং অন্যান্য আরব ও ইসলামি দেশের ওপর বারবার হামলার অভিযোগ তুলে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
এক বিবৃতিতে মন্ত্রণালয় ওই কর্মকাণ্ডের তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেছে, এগুলো ‘ইরানের প্রকাশ্য আগ্রাসনের উদাহরণ’। সৌদির সার্বভৌমত্ব, সাধারণ মানুষের অবকাঠামো, অর্থনৈতিক স্বার্থ এবং কূটনৈতিক দপ্তরকে বারবার লক্ষ্যবস্তু করা আন্তর্জাতিক আইন, রাষ্ট্রসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের প্রাসঙ্গিক প্রস্তাব এবং ‘ভালো প্রতিবেশী’ নীতির লঙ্ঘন বলে উল্লেখ করা হয়েছে। আরও বলা হয়, এই ধরনের কাজ ‘বেইজিং ঘোষণার’ বিরোধী এবং ইসলাম ধর্মের নীতির প্রতি ইরানের ঘোষিত অঙ্গীকারকে দুর্বল করে। পাশাপাশি জানানো হয়, ইরানের আচরণ তার বক্তব্যের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।
মন্ত্রণালয় সতর্ক করে জানায়, এ ধরনের ধারাবাহিক হামলার ফলে উত্তেজনা আরও বাড়তে পারে এবং এর প্রভাব বর্তমান ও ভবিষ্যতের সম্পর্কের ওপর গভীরভাবে পড়বে। ২০২৬ সালের ৯ মার্চ জারি করা আগের সতর্কবার্তার কথাও স্মরণ করানো হয়েছে।
এছাড়া নিশ্চিত করা হয়েছে যে, ইরানের সামরিক দূত, সহকারী দূত এবং দূতাবাসের আরও তিনজন কর্মীকে ‘অবাঞ্ছিত ব্যক্তি’ ঘোষণা করা হয়েছে এবং তাদের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে দেশ ছাড়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এ বিষয়ে ইরানের পক্ষ থেকে এখনও কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের ঘাঁটিতে আমেরিকা ও ইসরাইলের যৌথ হামলার পর থেকেই এই অঞ্চলে উত্তেজনা আরও বেড়েছে। ওই হামলায় ব্যাপক প্রাণহানি ও ক্ষয়ক্ষতি হয়। এর পর ইরান পাল্টা আক্রমণে ইসরাইল এবং অঞ্চলের বিভিন্ন স্থানে আমেরিকার সঙ্গে যুক্ত সামরিক ঘাঁটিগুলিকে লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালায়। এসব ঘাঁটির মধ্যে বাহরাইন, ইরাক, জর্ডান, কুয়েত, ওমান, কাতার, সৌদি আরব এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের সামরিক ঘাঁটিও রয়েছে।

No comments:
Post a Comment