নিজস্ব সংবাদদাতা, শিলিগুড়ি, ২৯ মার্চ ২০২৬: দুই বুথে বাদ ৬০৯ ভোটারের নাম। ক্ষোভে রাজ্য সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ ভোটারদের। ঘটনা শিলিগুড়ি মহকুমার ফাঁসিদেওয়া লাহুগছের। শিলিগুড়ি মহকুমার অন্তর্গত কচুবাড়ি লাহুগছ বুথে ১৫৩৩ জনের মধ্যে ৬০৯ জনের ভোটারের নামই বাদ পড়েছে।
শিলিগুড়ি মহকুমার ফাঁসিদেওয়া ব্লকের বিধাননগর ১ নং গ্রাম পঞ্চায়েতের কচুবাড়ি লাহুগছ গ্রামের ২৭/২২৩ ও ২২৪ নম্বর বুথে মোট ১৫৩৩ ভোটার। কিন্তু দ্বিতীয় সাপ্লিমেন্টি লিস্ট হাতে পেতেই কার্যত চক্ষু চড়কগাছ ভোটারদের। আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি হয়েছে। বাদ পড়েছে ৬০৯ ভোটারের নাম। এতেই ক্ষোভ উগড়ে দেন বাদ যাওয়া ভোটাররা।
এমনকি স্থানীয় পঞ্চায়েত সদস্য ও তাঁর পরিবারের সদস্যদ এবং প্রাক্তন পঞ্চায়েত সদস্যের নামও বাদ পড়েছে। কি করবেন এখন কিছুই বুঝে উঠতে পারছে না তাঁরা। অবশেষে বাধ্য হয়ে বাংলা-বিহার রাজ্য সড়ক অবরোধ করে এদিন বিক্ষোভ দেখান নাম বাদ যাওয়া ভোটাররা। নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়োগ প্রকাশ করেন বিক্ষোভকারীরা। তাঁদের অভিযোগ, নির্বাচন কমিশনারের ভুল ও গাফিলতির কারণেই তাদের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়েছে।
বর্তমান পঞ্চায়েত সদস্যের অভিযোগ, ২০০২ সালে নাম রয়েছে। ১৯৮৭ সালে জমির দলিল দেওয়ার পরেও বাদ পড়েছে নাম। বেছে বেছে বাদ দেওয়া হয়েছে সংখ্যালঘু ভোটারদের নাম। প্রাক্তন পঞ্চায়েত সদস্যেরও একই অভিযোগ। ২০০২ সালে নাম থাকলেও এবারে বাদ দেওয়া হয়েছে। সঠিকভাবে ভোটার তালিকায় নাম না উঠলে আগামী দিনে আরও বড় আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দেন তাঁরা।
নাম বাদ পঞ্চায়েত সদস্য ইরশাদ আলী সংবাদমাধ্যমে বলেন, "আমারও নাম বাদ পড়েছে। বিবেচনায় থাকা ৬০৯ ভোটারের নাম বাদ পড়েছে। এই নিয়ে মানুষ আতঙ্কে রয়েছেন। আমার ও আমার বাড়ির সবার নাম বাদ পড়েছে। আমরা চাই নির্বাচন কমিশন নিজের নীতি নির্ধারন রেখে যারা ন্যায্য ভোটার সেটা ঠিক রাখুক।"
তালিকায় নাম বাদ পড়েছে স্থানীয় মহম্মদ শরীফের। এদিন তিনিও বিক্ষোভে সামিল হন। মহম্মদ শরীফ বলেন, "১৯৫৬ সাল এমনকি ১৯৪২ এর নথি চাইলেও দিব। তাঁর হুঁশিয়ারি, এত জনের নাম বাদ পড়েছে কাউকে ছেড়ে কথা বলব না আমরা। এসডিও, বিডিও অফিস ঘেরাও করব।" প্রয়োজনে ভোট বয়কট এমনকি ভোট ভেস্তে দেওয়ারও হুঁশিয়ারি দেন তিনি। তিনি বলেন, "বৃহত্তর আন্দোলন করব। ভোট বয়কট করব। ১০ হাজার লোক নিয়ে গিয়ে এসডিও, বিডিও অফিস হিলিয়ে ছাড়ব। কাউকে ছেড়ে কথা বলব না।"

No comments:
Post a Comment