নিজস্ব সংবাদদাতা, পশ্চিম মেদিনীপুর, ২৫ মার্চ ২০২৬: রাজ্যে ভোট উৎসব। জোরকদমে চলছে রাজনৈতিক দলগুলোর প্রচার। বুধবার থেকে জেলায় জেলায় নির্বাচনী প্রচার শুরু করেছেন তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। এদিন পশ্চিম মেদিনীপুরের কেশিয়াওয়াড়ি ও দাসপুরে জনসভা করেন অভিষেক। দুটো সভা থেকেই বিজেপি ও কেন্দ্রীয় সরকারকে আক্রমণের পাশাপাশি বুথ লেভেল কর্মীদের সতর্ক করেন তিনি। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের দাবী, বিজেপির পক্ষ থেকে বিএলএ-দের ফোন করা হচ্ছে। এমনকি বুথে বসার জন্য তাঁদের মোটা অঙ্কের টাকা অফার করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। তবে, টাকা অফার করলে দরদামের পরামর্শ দিয়েছেন অভিষেক।
তিনি বলেন, "বিভিন্ন জায়গায় বিজেপির নেতারা ফোন করছেন বুথে বসার জন্য। দিল্লী থেকে ফোন করে এজেন্সিকে দিয়ে বলা হচ্ছে, 'অনেক তৃণমূল করেছো আর কোরো না'।" তিনি বলেন, 'তৃণমূলের শক্তি বুথ স্তরের কর্মীরা। গলা কেটে দিলেও তাঁরা বেইমানি করবে না, বশ্যতা স্বীকার করবে না।'
এরপরেই তিনি বলেন, "যাঁদের ফোন করছে তাঁরা ধরবেন, দু'হাজার বললে ১০ হাজার, ৫ হাজার বললে ২০ হাজার দিতে বলবেন।" অভিষেক বলেন, "আপনার টাকা তো। গায়ের জোরে আটকে রেখেছে। আপনার অধিকারের একশো দিনের টাকা থেকে শুরু করে আপনার মাথার ওপর আবাসের টাকা এই নরেন্দ্র মোদীর জনবিরোধী সরকার টাকাটা বন্ধ করে রেখেছে। টাকাটা আপনার। এই টাকাটা যখন আপনাকে দিতে চাইবে আপনি নেবেন, দরদাম করবেন। তাঁর পরামর্শ, "পদ্মফুল থেকে টাকা নেবেন আর জোড়াফুলে ভোট করবেন।"
দাঁতনে মোহনপুর ব্লকে পাঁচটি গ্রাম পঞ্চায়েত নিয়ে একটি আলাদা পুলিশ স্টেশন, মোহনপুর ও দাঁতন ব্লকে পান চাষিদের সুবিধার্থে পান সংরক্ষণ কেন্দ্র, কেশিয়াড়িতে নতুন অলচিকি মিডিয়ামে স্কুল নির্মাণ-সহ অন্যান্য দাবী পূরণ করার এদিন আশ্বাস দেন অভিষেক।
অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, "আমি আপনাদের কথা দিচ্ছি। আমি ভেবে বলি আর যা বলি তা করি। যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছি তা বাস্তবায়িত করার দায়িত্ব-কর্তব্য আমার। তিনি বলেন, "জোড়া ফুল চিহ্নে ভোট দেওয়া মানে বাংলা বিরোধীদের গালে গণতান্ত্রিক ভাবে দুটো করে কষিয়ে থাপ্পড় মারা।" পাশাপাশি দাসপুরের সভা থেকে অভিষেকের মন্তব্য, 'পদ্মফুলের বাবুরা ও জমিদাররা যেন পদ্মফুলের জায়গায় চোখে সর্ষে ফুল দেখেন।'
এদিন দাসপুরের জগন্নাথপুর ময়দানে এবং কেশিয়াড়ির ঘোলাই হাইস্কুল ময়দানে সভা করেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী আশিস হুদাইত, রামজীবন মান্ডি ও মানিক মাইতির সমর্থনে সভার আয়োজন করা হয়। দু'টি আসনেই রাজ্য সরকারের বিভিন্ন প্রকল্পে কত মানুষকে পরিষেবা দেওয়া হয়, সেই পরিসংখ্যান তুলে ধরেন তিনি। ২০২১ সালের নির্বাচনে কেশিয়াড়ি ও দাঁতন এই দুই কেন্দ্রের মধ্যে দাঁতন আসনে খুব কম ব্যবধানে জিতেছিলেন তৃণমূল প্রার্থীর। সেই ব্যবধান আরও বাড়ানোর বার্তা দেন অভিষেক। এছাড়াও তৃণমূলের রিপোর্ট কার্ড দেওয়ার পাশাপাশি আগামী দিনে এইসব আসন থেকে জিতে আসলে রাজ্য সরকার কী কী করবে, তাও এদিন জানান অভিষেক।
এছাড়াও এনআরসি-র পরিপ্রেক্ষিতে সাধারণ মানুষকে নাগরিকত্বের প্রমাণ দেওয়ার জন্য লাইনে দাঁড় করানোর সমালোচনা করেন অভিষেক। পাশাপাশি নোটবন্দি, লকডাউন এবং বিভিন্ন পরিষেবা পাওয়ার জন্য সাধারণ মানুষকে দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়ে থাকার ভোগান্তির কথা মনে করিয়ে দেন তিনি। সেইসঙ্গে বিজেপিকে উন্নয়নের পরিসংখ্যান নিয়ে যেকোনও জায়গায়, যেকোনও সময় এবং যেকোনও গণমাধ্যমের সামনে বিতর্কে বসার আহ্বান জানিয়েছেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।

No comments:
Post a Comment