প্রেসকার্ড নিউজ ওয়ার্ল্ড ডেস্ক, ২৩ মার্চ ২০২৬, ১৯:১০:০১ : মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবী করেছেন, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে যুদ্ধ প্রতিরোধের আলোচনা শুরু হয়েছে। ট্রাম্পের মতে, গত দুই দিন ধরে ইরান ও মার্কিন আধিকারিকরা একটি শান্তি চুক্তি নিয়ে আলোচনা করেছেন। ট্রাম্প বলেন, এর ফলে ওয়াশিংটন আগামী পাঁচ দিন ইরানের কোনো জ্বালানি স্থাপনায় হামলা চালানো থেকে বিরত থাকবে। ট্রাম্প Truth.com-এ লিখেছেন: "গত দুই দিন ধরে অত্যন্ত গঠনমূলক আলোচনা হয়েছে। আমরা আশা করছি, এই সপ্তাহের শেষের দিকে একটি চুক্তিতে পৌঁছাতে পারব। ততদিন পর্যন্ত আমরা ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্র ও জ্বালানি অবকাঠামোতে হামলা চালানো থেকে বিরত থাকব।"
ট্রাম্প মার্কিন প্রতিরক্ষা বিভাগকে আপাতত ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্র ও জ্বালানি অবকাঠামোতে হামলা চালানো থেকে বিরত থাকার নির্দেশ দিয়েছেন। তবে তিনি এও স্পষ্ট করেছেন যে, এই সিদ্ধান্ত আলোচনার ফলাফলের ওপর নির্ভর করবে। আলোচনা সফল না হলে আরও সামরিক পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে। ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, ট্রাম্প আবারও তার অবস্থান থেকে সরে এসেছেন।
এই ঘটনাটি এমন এক সময়ে ঘটল যখন হরমুজ প্রণালী নিয়ে উত্তেজনা বেড়েছে। এর আগে, ট্রাম্প ইরানকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে প্রণালীটি পুরোপুরি খুলে দেওয়ার জন্য সতর্ক করেছিলেন। তিনি বলেছিলেন যে, যদি তা না করা হয়, তবে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের প্রধান বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলোতে হামলা চালাতে পারে। ইরান এর কড়া জবাব দিয়েছে। ইরান জানিয়েছে যে, তাদের বিদ্যুৎ কেন্দ্র বা অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোতে হামলা করা হলে তারা হরমুজ প্রণালী পুরোপুরি বন্ধ করে দেবে। এই সমুদ্রপথটি বিশ্বের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ বিশ্বের তেল ও গ্যাসের একটি বড় অংশ এর মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয়।
ইরানের সঙ্গে শান্তি চুক্তির জন্য ট্রাম্প তার দুজন সাবেক দূতের ওপর আস্থা প্রকাশ করেছেন। তিনি স্টিভ উইটকফ এবং তার জামাতা জ্যারেড কুশনারকে ইরানের সঙ্গে আলোচনার অনুমোদন দিয়েছেন। দুই দূতই ইরানের সঙ্গে আলোচনা করবেন। তারা সেইসব দাবি আদায়ের চেষ্টা করবেন, যা ইরান আগে মানতে রাজি হয়নি।
ইরানের বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের পাঁচটি প্রধান দাবি রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে হরমুজ প্রণালী খুলে দেওয়া, পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি না করা, ক্ষেপণাস্ত্রের মজুদ সীমিত রাখা এবং প্রক্সি শক্তিকে অর্থায়ন না করা। ইরান শুধু পারমাণবিক চুক্তি নিয়ে আলোচনা করতে চায়। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচির মতে, ভবিষ্যতে হামলা না করার নিশ্চয়তা পেলেই কেবল ইরানের সঙ্গে যেকোনো আলোচনা অনুষ্ঠিত হবে।
.jpg)
No comments:
Post a Comment