কলকাতা, ২৮ মার্চ ২০২৬, ২০:৪৩:০১ : পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে সব রাজনৈতিক দলই জোরকদমে প্রস্তুতি নিচ্ছে। রাজ্যজুড়ে সভা-সমাবেশের ধারা অব্যাহত রয়েছে। রাজ্যের ক্ষমতা দখলের লক্ষ্যে ভারতীয় জনতা পার্টি সর্বশক্তি নিয়োগ করেছে, অন্যদিকে তৃণমূল কংগ্রেস টানা চতুর্থবার সরকার গঠনের লক্ষ্যে এগোচ্ছে। দুই দলের মধ্যে কথার লড়াইও ক্রমেই তীব্র হচ্ছে।
শনিবার কলকাতায় কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ নারী নির্যাতন থেকে শুরু করে দুর্নীতি ও বিভিন্ন কেলেঙ্কারি নিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সরকারের বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ করেন। তিনি বলেন, এই নির্বাচন ভয় আর আস্থার মধ্যে লড়াই, এবং মানুষ পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেছে।
অমিত শাহ বলেন, এবারের নির্বাচন একদিকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ১৫ বছরের শাসনে গড়ে ওঠা ভয়ের পরিবেশ, অন্যদিকে ভারতীয় জনতা পার্টির প্রতিশ্রুতি—এই ভয় দূর করে বাঙালির আত্মমর্যাদা পুনঃপ্রতিষ্ঠা, অনুপ্রবেশ রোধ, দুর্নীতিতে লাগাম টানা এবং রাজ্যকে উন্নয়নের পথে এগিয়ে নেওয়া। তিনি তৃণমূল সরকারের ব্যর্থতার বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র প্রকাশ করে ১৫ বছরের শাসনে অনুপ্রবেশ, নারী নির্যাতন, দুর্নীতি, সিন্ডিকেট রাজ এবং নানা কেলেঙ্কারির বিস্তারিত তুলে ধরেন। তাঁর মতে, দলের নির্বাচনী ইস্তাহার হবে জনগণের আস্থার দলিল।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে কটাক্ষ করে অমিত শাহ বলেন, তিনি বরাবরই সহানুভূতির রাজনীতি করে এসেছেন। কখনও নির্বাচনের আগে তাঁর পা ভেঙে যায়, কখনও মাথায় ব্যান্ডেজ বাঁধা থাকে, কখনও অসুস্থ হয়ে পড়েন, আবার কখনও নির্বাচন কমিশনের সামনে অসহায়তার ভান করেন এবং তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলেন। তাঁর দাবি, বাংলার মানুষ এখন এই ধরনের রাজনীতি ভালোভাবেই বুঝে গিয়েছে।
অমিত শাহ দাবি করেন, এ বার বাংলার মানুষ পরিবর্তনের জন্য প্রস্তুত। তিনি বলেন, "বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে রাজ্যে ভারতীয় জনতা পার্টির সরকার গঠন নিশ্চিত।" তাঁর কথায়, নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর খুব দ্রুতই রাজ্যে নতুন সরকার গঠিত হবে।
তিনি অভিযোগ করেন, গত ১৫ বছরে তৃণমূল কংগ্রেস ভয়, দুর্নীতি, তোষণনীতি ও হিংসার রাজনীতি বাড়িয়ে তুলেছে। ২০১১ সাল থেকে ভারতীয় জনতা পার্টি এই শাসনের বিরুদ্ধে লড়াই করছে এবং এখন মানুষ পরিবর্তনের জন্য তৈরি। তাঁর মতে, তৃণমূলের শাসনে শিল্পোন্নয়ন থমকে গেছে, উন্নয়ন থেমে রয়েছে, অনুপ্রবেশ, কাটমানি ও সিন্ডিকেট রাজ সাধারণ মানুষের জীবনকে দুর্বিষহ করে তুলেছে।
অমিত শাহ বলেন, "এই অভিযোগপত্র তৃণমূল সরকারের ১৫ বছরের কালো কাজের বিবরণ। ‘সোনার বাংলা’র স্বপ্ন দেখিয়ে সিন্ডিকেট রাজ কায়েম করে সাধারণ মানুষের শোষণের কাহিনি এতে তুলে ধরা হয়েছে।" তাঁর দাবি, তৃণমূলের শাসনে বাংলা দুর্নীতির পরীক্ষাগারে পরিণত হয়েছে এবং অপরাধচক্র সর্বস্তরে সক্রিয়। উন্নয়নের অভাবে শিল্পের ক্ষেত্রে বাংলা প্রায় শ্মশানে পরিণত হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, এই নির্বাচন শুধু বাংলার জন্য নয়, গোটা দেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। কারণ দেশের নিরাপত্তা অনেকটাই বাংলার পরিস্থিতির সঙ্গে জড়িত। তাঁর মতে, এই অভিযোগপত্র আসলে বাংলার মানুষেরই অভিযোগ, যাকে ভারতীয় জনতা পার্টি কণ্ঠস্বর দিচ্ছে।
অমিত শাহ বলেন, ২০১৪ সালের পর থেকে ভারতীয় জনতা পার্টির জনসমর্থন ধারাবাহিকভাবে বেড়েছে এবং ২০২৬ সালে পূর্ণ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে সরকার গঠন করবে। তিনি বলেন, এই নির্বাচন ভয়মুক্ত পরিবেশ, কর্মসংস্থান, নারীর নিরাপত্তা, উন্নয়ন ও মৌলিক পরিষেবার জন্য।
তিনি প্রতিশ্রুতি দেন, ভারতীয় জনতা পার্টি ক্ষমতায় এলে অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের চিহ্নিত করে দেশ থেকে বের করে দেওয়া হবে এবং সীমান্ত নিরাপত্তা আরও জোরদার করা হবে। এছাড়া আইনশৃঙ্খলা, নারীর নিরাপত্তা এবং রেশন, শিক্ষক নিয়োগ, গ্রামীণ কর্মসংস্থান ও ঘূর্ণিঝড়-পরবর্তী ত্রাণ সংক্রান্ত দুর্নীতির অভিযোগও তিনি তোলেন। তিনি বাংলার মানুষকে ভয়মুক্ত হয়ে নিজেদের অধিকার প্রয়োগ করার আহ্বান জানান।
পশ্চিমবঙ্গের মানুষের আস্থা অর্জনের লক্ষ্যে তিনি উত্তর প্রদেশ, মধ্যপ্রদেশ, ছত্তিশগড় ও অসমের উদাহরণ দেন, যেখানে ভারতীয় জনতা পার্টির শাসনে অপরাধ ও দুর্নীতিতে লাগাম টেনে উন্নয়নের গতি বাড়ানো হয়েছে। তাঁর মতে, অন্য রাজ্যে যেমন পরিবর্তন সম্ভব হয়েছে, তেমনই পশ্চিমবঙ্গেও তা সম্ভব

No comments:
Post a Comment