জলপাইগুড়ি: ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনের জন্য মঙ্গলবার দুপুরে প্রার্থী তালিকা ঘোষণা করেছে তৃণমূল কংগ্রেস। এদিন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যখন দলীয় প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করছিলেন তখন প্রায় সকলের চোখ ছিল টিভির পর্দায়। জেলায়-জেলায় কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে উচ্ছ্বাস ছিল ভরপুর। কিন্তু হঠাৎ তাল কাটল; রাজগঞ্জ বিধানসভা কেন্দ্রের জন্য ক্রীড়াবিদ স্বপ্না বর্মনের নাম ঘোষণা হতেই চোখে জল রাজগঞ্জের বিদায়ী বিধায়ক খগেশ্বর রায়ের। অভিমানে জেলা চেয়ারম্যান পদ থেকে ইস্তফা দেওয়ার ঘোষণা করলেন তিনি। শুধু তাই নয়, তার সাথেই গন ইস্তফা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন খগেশ্বরের অনুগামীরা। খগেশ্বর প্রার্থী না হওয়ায় বিক্ষোভও দেখিয়েছেন বিক্ষুব্ধ অনুগামীরা।
২০০৯ সালের উপনির্বাচনে জেলায় প্রথম তৃণমূল কংগ্রেসের বিধায়ক হন তিনি। এরপর থেকে একটানা চার বারের বিধায়ক খগেশ্বর রায়কে দল এবার প্রার্থী করেনি। বিষয়টি জানাজানি হতেই ক্ষোভে ফেটে পড়েন খগেশ্বর রায় ও তাঁর অনুগামীরা।
সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে দলের শীর্ষ নেতৃত্বের বিরুদ্ধে তোপ দাগেন তিনি। আবেগপ্রবণ হয়ে খগেশ্বর বলেন, "আমি চার বারের বিধায়ক। দিদি যখন কংগ্রেস করতেন সেই সময় সঙ্গে ছিলাম। এরপর যখন দিদি কংগ্রেস ত্যাগ করে নতুন দল তৃণমূল কংগ্রেস করলেন, তখন থেকে দল করি। আমি চিন্তাই করতে পারিনি দল আমার সাথে অবিচার করবে। সিপিএমের বিরাট ঘাঁটি ভেঙে জয় এনে দিয়েছিলাম ২০০৯ সালে। এরপর ২০১১, ২০১৬ ও ২০২১- টানা জয়। আজকে আমি টাকার কাছে হেরে গেলাম।"
তাঁর বিস্ফোরক অভিযোগ, কোনও নেতা নিশ্চয়ই বেশি টাকা দিয়েছেন। তিনি বলেন, "তাই হয়তো আমাকে পছন্দ করছে না। আমার থেকে নিশ্চয়ই ভালো নেতা পাবে। তাই আজ জলপাইগুড়ি জেলা তৃণমূল কংগ্রেস চেয়ারম্যান পদ থেকে ইস্তফা দিলাম।"
বিদায়ী বিধায়ক বলেন, 'যে কোনও দিন দল করল না, তাঁকে আমার জায়গায় দিয়েছে। দল আমার প্রতি আজ যে অবিচার করল তার জন্য জলপাইগুড়ি জেলা চেয়ারম্যান পদ থেকে ইস্তফা দিলাম। সবাই দলগত ভাবে পদত্যাগ করবে।' তাঁর দাবী, 'মুখ্যমন্ত্রীকে অন্ধকারে রেখে এটা করা হয়েছে আর এই আসনে তৃণমূল কংগ্রেস অবশ্যই হারবে। দলের ভিত এখানে আমি তৈরি করেছিলাম।'
খগেশ্বর জানান, শীঘ্রই পদত্যাগপত্র পাঠিয়ে দেবেন। তবে তিনি অন্য দলে যোগ দেবেন নাকি নির্দল হয়ে লড়বেন, তা নিয়ে ধোঁয়াশা বজায় রেখেছেন।
২০০৯ থেকে খগেশ্বর রায়ের একচ্ছত্র আধিপত্য ছিল রাজগঞ্জে। এখানকার ভূমিপুত্র হিসেবে নিচুতলার সংগঠনে তাঁর যথেষ্ট প্রভাব রয়েছে। তবে, তাঁকে বাদ দিয়ে দল প্রার্থী করেছে সদ্য তৃণমূলে যোগ দেওয়া কৃতি অ্যাথলিট তথা জলপাইগুড়ির মেয়ে স্বপ্না বর্মণকে। স্বপ্নার মতো জনপ্রিয় মুখকে সামনে রেখে যুব ভোট টানার কৌশল শাসক দলের। কিন্তু খগেশ্বরের মত অভিজ্ঞ নেতাকে ব্রাত করে নেওয়া এই সিদ্ধান্তের ফলে দলের অন্দরেই ফাটলের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এখন ভোটবাক্সে এর প্রভাব কতটা পড়ে, সেটাই দেখার।

No comments:
Post a Comment