হিন্দি সিনেমার অন্যতম সফল ও জনপ্রিয় কমেডি পরিচালক ডেভিড ধাওয়ান তাঁর দীর্ঘ ও বর্ণাঢ্য চলচ্চিত্র জীবনের সমাপ্তির ইঙ্গিত দিয়েছেন। সম্প্রতি তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন যে তাঁর আসন্ন ছবি 'হ্যায় জাওয়ানি তো ইশক হোনা হ্যায়' তাঁর পরিচালিত শেষ ছবি হতে পারে, যার পরে তিনি চলচ্চিত্র নির্মাণ থেকে সরে দাঁড়াতে পারেন।
পরিচালক ডেভিড ধাওয়ান আবেগাপ্লুত হয়ে বলেছেন যে এই ছবির পর তিনি নিজেকে কেবল তাঁর ছেলে, অভিনেতা বরুণ ধাওয়ানের বাবা হিসেবেই দেখতে চান। এই মন্তব্যটি কেবল তাঁর ব্যক্তিগত জীবনের প্রতি ঝোঁককেই প্রতিফলিত করে না, বরং তাঁর কয়েক দশকের চলচ্চিত্র জীবন থেকে একটি আবেগঘন বিরতি হিসেবেও ব্যাখ্যা করা হচ্ছে। তিনি এই মন্তব্যগুলো এক চিন্তাশীল ও আবেগঘন সুরে করেছেন, যা চলচ্চিত্র জগৎ এবং ভক্তদের মধ্যে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
'হ্যায় জাওয়ানি তো ইশক হোনা হ্যায়' ছবিটিকে একটি বড় মাপের বাণিজ্যিক বিনোদনমূলক ছবি হিসেবে প্রচার করা হচ্ছে, যেখানে বরুণ ধাওয়ানের পাশাপাশি পূজা হেগড়ে এবং মৃণাল ঠাকুর অভিনয় করেছেন। ছবিটি ২০২৬ সালে মুক্তি পাওয়ার কথা এবং এটিকে একটি বড় গণবিনোদন প্রকল্প হিসেবে তৈরি করা হচ্ছে।
চলচ্চিত্র জগতে এটিও লক্ষণীয় যে, ডেভিড ধাওয়ান সেইসব প্রবীণ পরিচালকদের মধ্যে একজন, যারা সাম্প্রতিক বছরগুলিতে বড় বাণিজ্যিক সিনেমায় ফিরছেন। তা সত্ত্বেও, তাঁর অবসর গ্রহণ নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা করা হয়নি। তাঁর এই বক্তব্যকে বর্তমানে একটি ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হচ্ছে, চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হিসেবে নয়।
ভারতীয় চলচ্চিত্রে ডেভিড ধাওয়ানের চলচ্চিত্র জীবন অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। তিনি ১৯৫১ সালের ১৬ই আগস্ট রাজিন্দর ধাওয়ান নামে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি তাঁর কর্মজীবনে প্রায় ৪৫টি চলচ্চিত্র পরিচালনা করেছেন। কমেডি ঘরানায় তাঁর দক্ষতা তাঁকে একটি স্বতন্ত্র পরিচয় এনে দিয়েছে। তিনি ১৯৯৩ সালের 'আঁখে' এবং ১৯৯৯ সালের 'বিবি নং ১' চলচ্চিত্রের জন্য ফিল্মফেয়ার শ্রেষ্ঠ পরিচালক বিভাগে মনোনয়ন পেয়েছিলেন। 'স্বর্গ', 'শোলা অউর শবনম', 'রাজা বাবু', 'কুলি নং ১', 'জুড়ুয়া', 'বিবি নং ১', 'হাসিনা মান যায়েগি', 'দুলহান হাম লে যায়েঙ্গে', 'জোড়ি নং ১', 'মুঝসে শাদি করোগি', 'পার্টনার', 'চশমে বদদূর', 'ম্যায় তেরা হিরো', 'জুড়ুয়া ২' এবং 'কুলি নং ১'-এর মতো চলচ্চিত্রগুলো তাকে বলিউডের কমেডি সিনেমার একজন বিশিষ্ট ব্যক্তিত্বে পরিণত করেছে।
তিনি ১৯৮৪ সালের 'সারাংশ' চলচ্চিত্রটি সম্পাদনার মাধ্যমে তার কর্মজীবন শুরু করেন, যার পরে তিনি পরিচালনায় আসেন। কমেডি ঘরানায় তার দক্ষতা এবং দর্শকদের সাথে সংযোগ স্থাপনের ক্ষমতা তাকে ধারাবাহিকভাবে বক্স অফিসে সাফল্য এনে দিয়েছে। ডেভিড ধাওয়ান শুধু একজন পরিচালক হিসেবেই নয়, চলচ্চিত্র শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে একজন পরামর্শদাতা হিসেবেও সক্রিয়। তিনি এশিয়ান একাডেমি অফ ফিল্ম অ্যান্ড টেলিভিশন এবং এশিয়ান স্কুল অফ মিডিয়া স্টাডিজের পরিচালনা পর্ষদে দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি টেলিভিশন শো 'নাচ বালিয়ে ৩'-এ বিচারক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন।
ডেভিড ধাওয়ান করুণা ধাওয়ানের সঙ্গে বিবাহিত এবং তাদের রোহিত ধাওয়ান ও বরুণ ধাওয়ান নামে দুই পুত্র রয়েছে। তার পরিবারও চলচ্চিত্র শিল্পের সঙ্গে জড়িত, যা সিনেমার সঙ্গে তার সংযোগকে আরও গভীর করেছে। ডেভিড ধাওয়ান যদি সত্যিই তার পরিচালন জীবনের ইতি টানেন, তবে তা হিন্দি চলচ্চিত্র শিল্পের জন্য একটি যুগের অবসান ঘটাবে, কারণ তার চলচ্চিত্রগুলো তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে দর্শকদের হাস্যরস ও বিনোদন জুগিয়েছে।

No comments:
Post a Comment