প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী মঙ্গলবার সংসদীয় নির্বাচনে বুলগেরিয়ার প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি রুমান রাদেভের প্রগ্রেসিভ বুলগেরিয়া পার্টির বিপুল বিজয়ের জন্য তাঁকে আন্তরিক অভিনন্দন জানিয়েছেন। তিনি দুই দেশের মধ্যে বন্ধুত্বপূর্ণ ও বহুমুখী সম্পর্ক আরও জোরদার হওয়ার আশা প্রকাশ করেছেন।
প্রধানমন্ত্রী মোদী সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি পোস্ট শেয়ার করেছেন
প্রধানমন্ত্রী মোদী সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম এক্স-এ লিখেছেন, "বুলগেরিয়ার সাম্প্রতিক সংসদীয় নির্বাচনে বিজয়ী হওয়ায় রুমেন রাদেব এবং তাঁর প্রগ্রেসিভ বুলগেরিয়া পার্টিকে আন্তরিক অভিনন্দন। ভারত ও বুলগেরিয়ার মধ্যে বন্ধুত্বপূর্ণ ও বহুমুখী সম্পর্ককে আরও এগিয়ে নিতে এবং আঞ্চলিক সহযোগিতা জোরদার করতে আমি তাঁর সঙ্গে কাজ করার জন্য উন্মুখ।" এই বিবৃতিটি দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার বার্তা স্পষ্টভাবে বহন করে।
রাদেভের দল ১৩০টি আসনে জয়ী
পাঁচ বছরে বুলগেরিয়ার অষ্টম সংসদীয় নির্বাচনে রাদেভের প্রগ্রেসিভ বুলগেরিয়া পার্টি ৪৪.৬ শতাংশ ভোট পেয়ে প্রায় ১৩০টি আসন লাভ করেছে। এই বিজয় প্রত্যাশার চেয়েও শক্তিশালী ছিল। প্রধান বিরোধী দলগুলো—জিইআরবি (১৩.৪%) এবং পিপি-ডিবি (১২.৭%)—বিপুল পরাজয়ের শিকার হয়েছে। ৬২ বছর বয়সী রাদেভ, যিনি প্রধানমন্ত্রী পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার জন্য জানুয়ারিতে রাষ্ট্রপতির পদ থেকে পদত্যাগ করেছিলেন, তিনি এখন সরকার গঠনের জন্য একটি শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছেন।
রাদেভ এই বিষয়গুলো উত্থাপন করেছিলেন
রাদেভ দুর্নীতি, অলিগার্কিক মডেল এবং রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতার বিরুদ্ধে প্রচারণা চালিয়েছিলেন। তিনি বুলগেরিয়ার ৬৬ লক্ষ মানুষের হতাশাকে নিজের সুবিধার্থে কাজে লাগিয়েছিলেন। তিনি রাশিয়ার সাথে বাস্তবসম্মত সম্পর্ক পুনরুদ্ধার এবং জ্বালানি আমদানির উপর জোর দিয়েছিলেন, পাশাপাশি ইউক্রেন যুদ্ধের নিন্দাও করেছিলেন। ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং ন্যাটোর সাথে সম্পর্কের পরিপ্রেক্ষিতে তার নীতিগুলো নিয়ে আলোচনা হচ্ছে।
ভারত-বুলগেরিয়া সম্পর্কের একটি শক্তিশালী ইতিহাস রয়েছে। দুই দেশের মধ্যে অর্থনৈতিক, সাংস্কৃতিক ও প্রতিরক্ষা সহযোগিতা বাড়ছে। প্রধানমন্ত্রী মোদীর অভিনন্দন বার্তা এই অগ্রগতিতে নতুন গতি আনতে পারে। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন যে, রাদেবের সরকারের অধীনে ভারত এই ইইউ সদস্য দেশটির সঙ্গে বাণিজ্য, প্রযুক্তি ও জ্বালানি খাতে সহযোগিতা আরও প্রসারিত করতে পারে।
বুলগেরিয়া একটি দীর্ঘস্থায়ী রাজনৈতিক সংকটের সম্মুখীন। ২০২১ সাল থেকে বেশ কয়েকটি সরকার পতন হয়েছে। এই নির্বাচন স্থিতিশীলতার আশা জাগিয়েছে। রাদেব জোট সরকার গঠনের সম্ভাবনা উড়িয়ে দেননি, যা সংসদে সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিশ্চিত করতে পারে।

No comments:
Post a Comment