হিন্দু ধর্মে গঙ্গাজলকে অত্যন্ত পবিত্র এবং অমৃতের সমান মনে করা হয়। বাড়িতে পূজা, যজ্ঞ, শ্রাদ্ধ বা শুদ্ধিকরণ—সব ধরনের ধর্মীয় কাজে গঙ্গাজলের ব্যবহার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই অনেকেই হরিদ্বার, ঋষিকেশ বা গঙ্গোত্রী থেকে গঙ্গাজল নিয়ে আসেন।
তবে একটি বিষয় বিশেষভাবে লক্ষ্য করা যায়—কাশী থেকে কেউ গঙ্গাজল বাড়িতে আনেন না। এর পেছনে কোনও অশুদ্ধতার কারণ নয়, বরং গভীর আধ্যাত্মিক বিশ্বাস রয়েছে।
কাশীকে ভগবান শিবের প্রিয় নগরী এবং মোক্ষ লাভের স্থান হিসেবে মানা হয়। প্রাচীন গ্রন্থে বলা হয়েছে, কাশীতে মৃত্যুবরণ করলে আত্মা মুক্তি লাভ করে। বিশেষ করে মণিকর্ণিকা ও হরিশচন্দ্র ঘাটে প্রতিদিন বহু মৃতদেহের দাহ হয় এবং তাঁদের অস্থি ও ভস্ম গঙ্গায় বিসর্জন দেওয়া হয়।
এই কারণে কাশীর গঙ্গাকে শুধু জীবনদায়িনী নয়, মোক্ষদায়িনী হিসেবেও দেখা হয়। বিশ্বাস করা হয়, এই গঙ্গাজলে মৃত আত্মার ভস্মের সূক্ষ্ম অংশ থাকতে পারে। তাই সেই জল বাড়িতে নিয়ে আসা হলে অনিচ্ছাকৃতভাবে সেই আত্মাদের মুক্তির পথে বাধা সৃষ্টি হতে পারে—এমন ধারণা প্রচলিত আছে।
অন্যদিকে, হরিদ্বার বা গঙ্গোত্রীর গঙ্গাজল জীবিত অবস্থায় শুভ কাজের জন্য ব্যবহৃত হয়। তাই কাশী থেকে সাধারণত জল বা অন্য কোনও বস্তু না এনে, ভক্তরা শুধু ভগবান শিবের আশীর্বাদ এবং মানসিক শান্তি নিয়ে বাড়ি ফেরেন।

No comments:
Post a Comment