ইরানে অনুপ্রবেশ করে একজন পাইলটকে মৃত্যুর মুখ থেকে উদ্ধার করার ঘটনাটি সিনেমার চিত্রনাট্যের মতো শোনাতে পারে, কিন্তু মার্কিন সামরিক বাহিনী এটিকে বাস্তবে পরিণত করেছে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন যে, ইরানে নিখোঁজ অস্ত্র কর্মকর্তাকে একটি দুঃসাহসিক অভিযানের মাধ্যমে উদ্ধার করা হয়েছে। তিনি সেই 'তিনটি শব্দ'-এর কথাও উল্লেখ করেছেন, যা একটি ইরানি ষড়যন্ত্রের সন্দেহ জাগিয়েছিল। ট্রাম্প এটিকে আমেরিকার ইতিহাসের অন্যতম দুঃসাহসিক অভিযান বলে অভিহিত করেছেন।
ট্রাম্প কী বললেন?
অ্যাক্সিওস-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, ইরানের ওপর দিয়ে বিমান থেকে বেরিয়ে আসার পর, আটকে পড়া একজন অস্ত্র কর্মকর্তা তিনটি শব্দ সম্বলিত একটি রেডিও বার্তা পাঠান: "আল্লাহু আকবার" (ঈশ্বর মহান)। এর ফলে কিছু সময়ের জন্য এই সন্দেহ জেগেছিল যে, ইরানি সামরিক বাহিনী হয়তো ফাঁদ পাতার জন্য বিভ্রান্তিকর সংকেত ব্যবহার করছে। মার্কিন কর্মকর্তারা প্রাথমিকভাবে মনে করেছিলেন যে, এই রেডিও বার্তাটি ছিল মার্কিন বাহিনীকে অতর্কিত হামলায় প্রলুব্ধ করার উদ্দেশ্যে করা একটি ইরানি ফাঁদের অংশ।
মার্কিন 'অস্ত্র কর্মকর্তা' নিখোঁজ
গত ৩ এপ্রিল, ইরানের আকাশে একটি মার্কিন এফ-১৫ই যুদ্ধবিমান গুলি করে ভূপাতিত করা হয়। একজন পাইলট আগেই নিরাপদে বিমান থেকে বেরিয়ে এসেছিলেন, কিন্তু অন্য কর্মকর্তা ইরানের একটি পার্বত্য অঞ্চলে নিখোঁজ হন। মার্কিন পাইলট কর্তৃপক্ষকে একটি সংকেত পাঠান এবং দুই দিন বেঁচে ছিলেন। পরবর্তীতে প্রায় ২০০ মার্কিন সৈন্যের অংশগ্রহণে একটি ঝুঁকিপূর্ণ অভিযানের মাধ্যমে তাকে উদ্ধার করা হয়।
ডোনাল্ড ট্রাম্পের মতে, মার্কিন পাইলট একটি পাহাড়ি গিরিপথে লুকিয়ে ছিলেন, আর এদিকে ইরানের সামরিক বাহিনী ও স্থানীয়রা তার সন্ধান করছিল। জানা যায়, তেহরান তাকে ধরার জন্য পুরস্কার ঘোষণা করেছিল। যুক্তরাষ্ট্র অবশেষে তার উপস্থিতি শনাক্ত করে, কিন্তু একটি সাধারণ রেডিও বার্তা পাঠানো হয়েছিল, যা প্রাথমিকভাবে "ঈশ্বর হওয়ার শক্তি" হিসেবে ব্যাখ্যা করা হয়েছিল। প্রতিরক্ষা কর্মকর্তারা পরে এটিকে "ঈশ্বর মঙ্গলময়" বলে স্পষ্ট করেন। এই বার্তাটি এই সন্দেহ জাগিয়ে তোলে যে ইরানের সামরিক বাহিনী হয়তো তাকে বন্দী করেছে এবং একটি মিথ্যা সংকেত পাঠাচ্ছে। তবে, পরে এটি স্পষ্ট হয়ে যায় যে বার্তাটি আসলে তিনিই পাঠিয়েছিলেন।

No comments:
Post a Comment