প্রথম দফার ভোটের মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগে উত্তেজনাপূর্ণ মুহূর্তেই রাজ্যের রাজনৈতিক সমীকরণে বড়সড় বদল এনে দিলেন গোপীবল্লভপুরের বিদায়ী বিধায়ক ডা: খগেন্দ্রনাথ মাহাতো। বিরোধী শিবিরের অন্যতম শীর্ষ নেতার হাত ধরে তিনি শাসকদল ছেড়ে পদ্ম শিবিরে যোগ দিয়েছেন। এই দলবদল ঘিরে স্বাভাবিকভাবেই চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে গোটা এলাকায়।
ঝাড়গ্রাম জেলার গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র গোপীবল্লভপুরে খগেন্দ্রনাথ মাহাতোর প্রভাব যথেষ্ট উল্লেখযোগ্য। আগের বিধানসভা নির্বাচনে তিনি বড় ব্যবধানে জয়ী হয়েছিলেন। পরবর্তী সময়েও সংগঠন শক্তিশালী করতে তাঁর ভূমিকা ছিল চোখে পড়ার মতো। ফলে ভোটের ঠিক আগে তাঁর এই সিদ্ধান্ত শাসক শিবিরের অন্দরে অস্বস্তি বাড়িয়েছে বলেই মনে করা হচ্ছে।
এই কেন্দ্রের রাজনীতিতে বড় ভূমিকা পালন করে কুড়মি সম্প্রদায়ের ভোট। মোট ভোটারের বড় অংশই এই সমাজের হওয়ায় তাদের সমর্থন যে কোনও দলের জয়ের ক্ষেত্রে নির্ধারক হয়ে ওঠে। দীর্ঘদিন ধরে তফসিলি জনজাতির স্বীকৃতির দাবিতে আন্দোলন চালিয়ে আসছে কুড়মি সমাজ। সেই দাবিকে ঘিরে ক্ষোভ এখনও পুরোপুরি প্রশমিত না হওয়ায় ভোটের আগে এই বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে।
এই পরিস্থিতিতে দুই প্রধান রাজনৈতিক শক্তিই কুড়মি ভোটব্যাঙ্কের দিকে নজর রেখেছে। একদিকে পদ্ম শিবির তাদের প্রার্থী হিসেবে কুড়মি সমাজের পরিচিত মুখকে সামনে এনেছে। অন্যদিকে শাসক দলও স্থানীয়ভাবে জনপ্রিয় নেতার উপর ভরসা রেখেছে। পাশাপাশি বাম ও কংগ্রেস প্রার্থীরাও লড়াইয়ে থাকায় প্রতিদ্বন্দ্বিতা আরও ত্রিমুখী রূপ নিয়েছে।
ভোটের ঠিক আগে এই দলবদল গোপীবল্লভপুরের নির্বাচনী সমীকরণে কতটা প্রভাব ফেলবে, তা নিয়ে জল্পনা তুঙ্গে। বিশেষ করে কুড়মি অধ্যুষিত এই এলাকায় শেষ মুহূর্তের এই রাজনৈতিক পালাবদল ভোটের ফলাফলে বড় ভূমিকা নিতে পারে বলেই মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।

No comments:
Post a Comment