প্রথম দফার ভোট মিটতেই রাজনৈতিক মহলে জোর জল্পনা শুরু হয়েছে— শেষ পর্যন্ত কোন দল কত আসন দখল করতে পারে, তা নিয়ে চলছে ভিতরে ভিতরে বিশদ হিসেবনিকেশ। এখনও একটি দফার ভোট বাকি থাকলেও, ফলাফল নিয়ে আগাম অঙ্ক কষতে ব্যস্ত প্রায় সব রাজনৈতিক শিবিরই।
গেরুয়া শিবিরের পক্ষ থেকে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ দাবি করেছেন, প্রথম দফায় হওয়া মোট একশো বাহান্নটি আসনের মধ্যে তাঁদের ঝুলিতে একশো দশের বেশি আসন আসতে পারে। এই দাবিকে ঘিরে স্বাভাবিকভাবেই রাজনৈতিক উত্তাপ আরও বেড়েছে। অন্যদিকে, শাসকদলও আত্মবিশ্বাসী সুরে জানাচ্ছে, তাঁদের প্রার্থীরা একশো ত্রিশেরও বেশি আসনে জয়ী হবেন বলে তারা মনে করছে।
প্রতিটি দলই নিজেদের নির্বাচনী বিশেষজ্ঞ, তথ্য বিশ্লেষক এবং মাঠপর্যায়ের রিপোর্টের উপর নির্ভর করে ফলাফলের পূর্বাভাস তৈরি করছে। কোথায় কত ভোট পড়েছে, কোন বুথে কার প্রভাব বেশি— এসব খুঁটিনাটি বিচার করেই তৈরি হচ্ছে সম্ভাব্য ফলাফলের চিত্র।
এই আবহেই উদ্বেগের সুর শোনা গেল মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়-এর গলায়। তাঁর আশঙ্কা, যদি তাঁদের দল দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে না পারে, তাহলে পরে বিরোধী শিবির বিধায়কদের প্রভাবিত করে সরকার অস্থির করার চেষ্টা করতে পারে। তাই ভোটারদের উদ্দেশে তাঁর স্পষ্ট বার্তা— প্রতিটি কেন্দ্রে জোড়াফুল প্রতীকে বিপুল ভোটে জিতিয়ে শক্তিশালী ম্যান্ডেট নিশ্চিত করতে হবে।
সব মিলিয়ে, এখনও চূড়ান্ত ফল ঘোষণা অনেক দূরে হলেও, প্রথম দফার ভোটের পর থেকেই রাজনৈতিক অঙ্কে উত্তেজনা তুঙ্গে উঠেছে। বাকি দফার ভোট যে এই সমীকরণে বড় ভূমিকা নেবে, তা বলাই বাহুল্য।

No comments:
Post a Comment