প্রেসকার্ড নিউজ বিনোদন ডেস্ক, ১০ এপ্রিল ২০২৬, ০৯:০০:০১ : হিন্দু ধর্মে অক্ষয় তৃতীয়া বছরজুড়ে অন্যতম শুভ দিন হিসেবে মানা হয়। এই দিনটিকে “অবুঝ মুহূর্ত” বলা হয়, অর্থাৎ এমন একটি দিন যখন কোনো শুভ কাজের জন্য আলাদা করে মুহূর্ত দেখার প্রয়োজন হয় না। বিশ্বাস করা হয়, এই দিনে করা প্রতিটি কাজের ফল অক্ষয় হয়, অর্থাৎ কখনো শেষ হয় না। সেই কারণে এই দিনে বিবাহ, গৃহপ্রবেশ, সোনা কেনা, নতুন ব্যবসা শুরু বা বিনিয়োগ করা অত্যন্ত শুভ বলে ধরা হয়।
কবে অক্ষয় তৃতীয়া ২০২৬?
পঞ্জিকা অনুযায়ী, ২০২৬ সালে বৈশাখ মাসের শুক্লপক্ষের তৃতীয়া তিথি শুরু হবে ১৯ এপ্রিল সকাল ১০টা ৪৫ মিনিটে এবং শেষ হবে ২০ এপ্রিল সকাল ৭টা ৪৯ মিনিটে। তাই অক্ষয় তৃতীয়া পালিত হবে ১৯ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে।
কেন বলা হয় অবুঝ মুহূর্ত?
অক্ষয় তৃতীয়াকে অবুঝ মুহূর্ত বলা হয় কারণ এই দিনে গ্রহ-নক্ষত্রের অবস্থান অত্যন্ত শুভ বলে মনে করা হয়। জ্যোতিষ মতে, এই দিনে সূর্য ও চন্দ্র উভয়ই নিজেদের উচ্চ অবস্থায় থাকে, ফলে শুভ শক্তির প্রভাব অনেকগুণ বেড়ে যায়। তাই এই দিনে পঞ্জিকা না দেখেও শুভ কাজ করা যায়।
“অক্ষয়” শব্দের অর্থ কী?
“অক্ষয়” শব্দের অর্থ হলো যা কখনো শেষ হয় না। ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, এই দিনে করা পুণ্য কাজ, দান, জপ ও তপের ফল ক্রমাগত বৃদ্ধি পায় এবং কখনো ক্ষয় হয় না। তাই এই দিনে দান-পুণ্যের বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে।
পৌরাণিক বিশ্বাস কী বলে?
অক্ষয় তৃতীয়াকে ঘিরে বহু পৌরাণিক কাহিনি প্রচলিত আছে। বিশ্বাস করা হয়, এই দিনেই ভগবান বিষ্ণুর ষষ্ঠ অবতার পরশুরামের জন্ম হয়েছিল। এছাড়া বলা হয়, এই দিনেই মহাভারতের রচনা শুরু হয় এবং মা অন্নপূর্ণার আবির্ভাবও ঘটে। তাই এই তিথি ধর্মীয় দিক থেকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
এই দিনে কী করা হয়?
এই দিনে মানুষ ভোরে স্নান করে ভগবান বিষ্ণু ও মা লক্ষ্মীর পূজা করেন। পাশাপাশি দরিদ্রদের অন্ন, বস্ত্র, জল ও অর্থ দান করা অত্যন্ত পুণ্যকর বলে মনে করা হয়। অনেকেই এই দিনে সোনা-রূপা কেনেন, কারণ এটি সমৃদ্ধি ও ধনবৃদ্ধির প্রতীক হিসেবে ধরা হয়।
কেন সোনা কেনা হয়?
অক্ষয় তৃতীয়ায় সোনা কেনার প্রথা বহু পুরনো। বিশ্বাস করা হয়, এই দিনে কেনা সোনা ঘরে সুখ-সমৃদ্ধি আনে এবং ধনসম্পদ ক্রমাগত বাড়তে থাকে। তাই এই দিনে অলঙ্কার কেনাকাটা অত্যন্ত শুভ বলে মানা হয়।

No comments:
Post a Comment