মালদা-মুর্শিদাবাদ-রায়গঞ্জে আজ রাহুলের প্রচার, কী বলছে সমীকরণ? - Press Card News

Breaking

Post Top Ad

Post Top Ad

Tuesday, April 14, 2026

মালদা-মুর্শিদাবাদ-রায়গঞ্জে আজ রাহুলের প্রচার, কী বলছে সমীকরণ?



প্রেসকার্ড নিউজ ন্যাশনাল ডেস্ক, ১৪ এপ্রিল ২০২৬, ১৫:২০:০১ : কেরালা ও আসামে নির্বাচন শেষ হতেই এখন নির্বাচনী উত্তাপ বেড়েছে পশ্চিমবঙ্গ ও তামিলনাড়ুতে। দেশের বড় বড় নেতা একের পর এক জনসভা করছেন। কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী আজ, মঙ্গলবার পশ্চিমবঙ্গে তিনটি নির্বাচনী জনসভা করতে চলেছেন। এ বার রাজ্যে কংগ্রেস একাই লড়ছে, আর তাদের লক্ষ্য শুধু খাতা খোলা নয়, সম্মানজনক সংখ্যায় আসন জয় করা।



২০২১ সালের নির্বাচন কংগ্রেসের জন্য মোটেই ভালো ছিল না। বামফ্রন্টের সঙ্গে জোট করে টানা দ্বিতীয়বার লড়েও ‘সংযুক্ত মোর্চা’ একটি আসনও জিততে পারেনি। প্রায় ৮.৭ শতাংশ ভোট পেলেও তা কোনো আসন জয়ের জন্য যথেষ্ট হয়নি।



এক সময় এই রাজ্যে কংগ্রেস ও বাম দলগুলির শক্তিশালী প্রভাব ছিল। কিন্তু এখন তারা ক্ষমতা থেকে অনেক দূরে। গত নির্বাচনে একটি আসনও জিততে পারেনি। এ বার কংগ্রেস পরিকল্পিতভাবে ময়দানে নেমেছে। প্রার্থী বাছাইয়ে সামাজিক ও রাজনৈতিক সমীকরণের উপর বিশেষ জোর দেওয়া হয়েছে। জনসভা ও প্রচারের মাধ্যমে ভোটারদের কাছে পৌঁছতে চাইছেন রাহুল গান্ধী।



কংগ্রেস এখন সরাসরি ক্ষমতায় আসার লক্ষ্য না রেখে নিজেদের অবস্থান শক্ত করতে চাইছে। শূন্য থেকে শুরু করে ধীরে ধীরে শক্তি বাড়ানোই তাদের মূল উদ্দেশ্য। তাই যেসব এলাকায় উন্নতির সুযোগ বেশি, সেগুলিতেই বেশি জোর দিচ্ছে দল। রাহুলের প্রথম জনসভা উত্তর দিনাজপুরের রায়গঞ্জে, এরপর মালদা এবং শেষে মুর্শিদাবাদে সভা করবেন।



উত্তর দিনাজপুর এক সময় কংগ্রেসের শক্ত ঘাঁটি ছিল। ২০২১ সালে এখানে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়-র দল তৃণমূল কংগ্রেস ৯টির মধ্যে ৭টি আসনে জয়ী হয় এবং ২টি যায় ভারতীয় জনতা পার্টির দখলে। কংগ্রেস-বাম জোট বড় ধাক্কা খায়। তবে ২০১৬ সালে এই জেলায় কংগ্রেস-বাম জোট ৯টির মধ্যে ৫টি আসন জিতেছিল।



মালদাতেও কংগ্রেস পুরনো শক্তি ফিরে পেতে চাইছে। ২০২১ সালে ১২টির মধ্যে ৮টি আসন পায় তৃণমূল, আর ৪টি যায় বিজেপির ঝুলিতে। অথচ ২০১৬ সালে এই জেলায় কংগ্রেস-বাম জোট ১১টি আসনে জয়ী হয়েছিল।



মুর্শিদাবাদেও কংগ্রেস নতুন করে ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছে। ২০২১ সালে ২২টির মধ্যে ২০টি আসনে জয়ী হয় তৃণমূল, বিজেপি পায় ২টি। কংগ্রেস একটি আসনও পায়নি। অথচ ২০১৬ ও ২০১১ সালে এই জেলায় কংগ্রেস ১৪টি করে আসনে জিতেছিল। এখানে দলের ভরসা অধীর রঞ্জন চৌধুরী, যিনি বহরমপুর কেন্দ্র থেকে লড়ছেন।



২০১১ সালের পর থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উত্থানের সঙ্গে সঙ্গে কংগ্রেস ও বাম দলগুলির শক্তি কমতে থাকে। বর্তমানে রাজনীতির মূল লড়াই তৃণমূল কংগ্রেস ও বিজেপির মধ্যে সীমাবদ্ধ। এই পরিস্থিতিতে কংগ্রেস কি আবার ঘুরে দাঁড়িয়ে রাজ্যে তৃতীয় শক্তি হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠা করতে পারবে, সেটাই এখন বড় প্রশ্ন।

No comments:

Post a Comment

Post Top Ad