কলকাতা, ১১ এপ্রিল ২০২৬, ২২:৩৮:০১ : রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচনকে কেন্দ্র করে মুখ্যমন্ত্রী মমতা এক জনসভায় বিজেপির বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানিয়েছেন। তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী প্রশ্ন তোলেন, “আমরা কি বাংলা ভাষায় কথা বলি বলে ভারতীয় নই? আমাদের কি বারবার নাগরিকত্ব প্রমাণ করতে হবে?” তিনি এই ইস্যুকে বাংলার আত্মপরিচয় ও ভাষাগত গৌরবের সঙ্গে যুক্ত করে বিজেপির নীতির সমালোচনা করেন এবং নির্বাচনী লড়াইয়ে এটিকে বড় ইস্যু করার ইঙ্গিত দেন।
শনিবার তিনি আরও অভিযোগ করেন, বিজেপি তাঁর বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দায়েরের চেষ্টা করেছে এবং নির্বাচন কমিশনের সাহায্যে দক্ষিণ কলকাতার ভবানীপুর আসন থেকে তাঁর প্রার্থিতা বাতিল করার চেষ্টাও চালায়। তবে তৃণমূল কংগ্রেসের কর্মী ও সাধারণ মানুষের চেষ্টায় সেই পরিকল্পনা ব্যর্থ হয় বলে দাবি করেন তিনি। পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার কেশিয়ারিতে এক নির্বাচনী সভায় তিনি অভিযোগ করেন, বিশেষ সংক্ষিপ্ত পুনর্বিবেচনার সময় ভোটার তালিকা থেকে জোর করে ৯০ লক্ষ মানুষের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে। ভবানীপুর আসনে তাঁকে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছেন বিরোধী নেতা শুভেন্দু অধিকারী।
জোর করে ভোট দখলের ষড়যন্ত্রের অভিযোগ তুলে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, বিজেপির গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচন লড়ার ও জেতার সাহস নেই, তাই তারা ভুয়ো কৌশলে ভোট দখলের চেষ্টা করছে। তাঁর অভিযোগ, ভোটারদের নাম বাদ দেওয়ার পাশাপাশি ফল নিজেদের পক্ষে আনতে ভোটযন্ত্রে কারচুপির পরিকল্পনাও করা হচ্ছে। তিনি দাবি করেন, বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপির বড় পরাজয়ের পর একসময় ন্যায়বিচার মিলবেই।
তিনি আরও বলেন, এই প্রক্রিয়ার ফলে ২৫০-রও বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে। বাদ পড়া ৯০ লক্ষ ভোটারের মধ্যে ৬০ লক্ষ হিন্দু ও ৩০ লক্ষ মুসলিম রয়েছেন। “বাংলা ভাষায় কথা বললে কি আমরা ভারতীয় থাকি না? আমাদের কি বারবার নাগরিকত্ব প্রমাণ করতে হবে?”—এই প্রশ্নও তোলেন তিনি।
একই সঙ্গে অভিন্ন নাগরিক বিধি কার্যকর করার বিজেপির প্রতিশ্রুতির বিরোধিতা করে তিনি বলেন, এই আইন মানুষের ওপর জোর করে চাপিয়ে দেওয়া হবে এবং এটি পিছিয়ে পড়া সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে যাবে। তিনি স্পষ্ট করে জানান, পশ্চিমবঙ্গে এই আইন কার্যকর হতে দেওয়া হবে না। তাঁর দাবি, রাজ্যে টানা চতুর্থবার জয়ী হওয়ার পর এবং কেন্দ্র থেকে বিজেপি ক্ষমতাচ্যুত হলে এই আইন বাতিল করা হবে।

No comments:
Post a Comment