কলকাতা, ০৮ এপ্রিল ২০২৬, ২১:২৫:০১ : ভারতের নির্বাচন কমিশন রাজ্যে আসন্ন নির্বাচনকে সামনে রেখে অত্যন্ত কঠোর ও স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাদের সরকারি বার্তায় কমিশন রাজ্যের শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেসকে সরাসরি সতর্ক করে জানিয়েছে, এবারের নির্বাচন সম্পূর্ণ স্বচ্ছ ও শান্তিপূর্ণভাবেই অনুষ্ঠিত হবে। নির্বাচনে কোনও ধরনের অনিয়ম, ভয় দেখানো বা বলপ্রয়োগ সহ্য করা হবে না বলেও স্পষ্ট করা হয়েছে।
কমিশন জানিয়েছে, পশ্চিমবঙ্গে এবারের ভোট হবে—ভয়মুক্ত, হিংসামুক্ত, হুমকিমুক্ত, প্রলোভনমুক্ত, তল্লাশিমুক্ত এবং বুথ দখল বা যোগাযোগ বিচ্ছিন্নতা ছাড়াই।
পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচনী ইতিহাসে প্রায়শই রাজনৈতিক হিংসা, বুথ দখল ও ভোটারদের ভয় দেখানোর অভিযোগ উঠে এসেছে। বিরোধী দলগুলি দীর্ঘদিন ধরে শাসক দলের বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযোগ জানিয়ে আসছে। সাধারণত সব দলকেই সমানভাবে নির্দেশ দেওয়া হলেও, এবার সরাসরি তৃণমূল কংগ্রেসের নাম উল্লেখ করায় কমিশনের কঠোর অবস্থান স্পষ্ট হয়েছে।
রাজ্যের ২৯৪টি বিধানসভা আসনের জন্য দুই দফায় ভোটগ্রহণ হবে—২৩ এপ্রিল ও ২৯ এপ্রিল। আর গণনা হবে ৪ মে।
এদিকে, তৃণমূল কংগ্রেসের একটি প্রতিনিধি দল সম্প্রতি নয়াদিল্লিতে নির্বাচন সদনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছে। ওই দলে উপস্থিত ছিলেন ডেরেক ও’ব্রায়েন, সাগরিকা ঘোষ এবং সাকেত গোখলে-সহ অন্যান্য নেতারা।
সাম্প্রতিক সময়ে ভোটার তালিকার বিশেষ পুনর্বিবেচনা নিয়ে তৃণমূল কংগ্রেস ও নির্বাচন কমিশনের মধ্যে টানাপোড়েন বেড়েছে। তৃণমূলের অভিযোগ, কমিশন বিরোধী দল ভারতীয় জনতা পার্টির ইঙ্গিতে কাজ করছে এবং পরিকল্পিতভাবে ভোটারদের নাম বাদ দিচ্ছে।
এক সাংবাদিক বৈঠকে তৃণমূল নেতারা দাবি করেন, বিজেপি বুঝে গেছে যে পশ্চিমবঙ্গে তারা বড় পরাজয়ের মুখে পড়বে। সেই হতাশা থেকেই তারা পুরো নির্বাচনী প্রক্রিয়া কমিশনের ওপর ছেড়ে দিয়েছে। পাশাপাশি অভিযোগ তোলা হয়েছে, নির্বাচন কমিশনের কিছু শীর্ষ কর্মকর্তা নিরপেক্ষতার ভান ছেড়ে দিয়ে একপক্ষের হয়ে কাজ করছেন।
তৃণমূল কংগ্রেস আরও দাবি করেছে, প্রায় ৬০ লক্ষ ভোটারকে পর্যালোচনার আওতায় রাখা হয়েছিল, যার মধ্যে প্রায় ২৭ লক্ষ নাম ইতিমধ্যে তালিকা থেকে বাদ পড়েছে। আগে যেখানে মোট ভোটার সংখ্যা ছিল প্রায় ৭ কোটি ৬৬ লক্ষ, তা কমে প্রায় ৭ কোটি ৪ লক্ষে নেমে এসেছে—যা তালিকায় বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত

No comments:
Post a Comment