'ক্ষমতা আছে বলে যা খুশি করা যায় না', বাইক চলাচল বন্ধে কমিশনকে ভর্ৎসনা হাইকোর্টের - Press Card News

Breaking

Post Top Ad

Post Top Ad

Thursday, April 23, 2026

'ক্ষমতা আছে বলে যা খুশি করা যায় না', বাইক চলাচল বন্ধে কমিশনকে ভর্ৎসনা হাইকোর্টের


কলকাতা: ভোটের ৭২ ঘন্টা আগে থেকেই রাস্তায় মোটরবাইক চলাচল নিয়ন্ত্রণ করেছিল নির্বাচন কমিশন। নির্বাচনী জনসভা থেকে এই নিয়ে প্রচণ্ড ক্ষোভ প্রকাশ করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী তথা তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এবারে কমিশনের এই নিষেধাজ্ঞা জারির সিদ্ধান্তকে নজিরবিহীন ভর্ৎসনা হাইকোর্টের। ক্ষমতা থাকলেই যা খুশি করা যায় না, বলেও বুঝিয়ে দেয় আদালত। 


এদিন মামলার শুনানিতে বিচারপতি কৃষ্ণা রাও কমিশনের আইনজীবীর উদ্দেশ্য বলেন, 'আপনাদের কর্তৃপক্ষ কেন জরুরি অবস্থা ঘোষণা করছেন না? দু'দিন আগে থেকে ইমার্জেন্সি ঘোষণা করে ভোট করানো হোক। তাহলে অন্তত মেনে নেওয়া যাবে, কর্তৃপক্ষ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ। এই ভাবে সাধারণ নাগরিকের অধিকার হরণ করা যায় না। আপনারা কেন আপনাদের কর্তৃপক্ষকে বোঝাতে পারছেন না? তা হলে গাড়িও বন্ধ করে দিন। এভাবে সাধারণ নাগরিকদের চলাফেরার অধিকার হরণ করা অন্যায়।'


হাইকোর্ট এদিন জানতে চায়, মোটরবাইক নিয়ে জনসাধারণের যাতায়াতের কারণে ভোটে কী অসুবিধা হয়েছে? কতগুলি এফআইআর হয়েছে? বিচারপতির প্রশ্ন, 'গত পাঁচ বছরে কত বাইকের বিরুদ্ধে এফআইআর হয়েছে? কত জায়গায় বাইক বাহিনীর গোলমাল পাকানোর নজির আছে?' বাইক চলাচলের ওপর এমন দীর্ঘমেয়াদি নিষেধাজ্ঞা আসলে যে প্রশাসনিক দুর্বলতার লুকানোর একটি প্রচেষ্টা মাত্র, এটাই মনে করছে আদালত। 



এদিন বিচারপতি আরও বলেন, 'আপনারা নিজের ক্ষমতার অপব্যবহার করছেন। যেহেতু ভোটের সময়ে আপনাদের ক্ষমতা বা এক্তিয়ার আছে। এটা অন্যায়। অন্য রাজ্যে কোথায় এমন বিজ্ঞপ্তি দিয়েছে দেখান। নির্বাচন কমিশনের ক্ষমতা আছে বলে যা খুশি করা যায় না।'


২৪ ঘন্টা আগে বাইক নিয়ে চলাচল বন্ধ করা হলেও ৭২ ঘন্টা আগে বাইক বন্ধের এই সিদ্ধান্ত মেনে নেওয়া যায় না বলেই মত আদালতের। বিষয়টি নিয়ে শুক্রবারের মধ্যে নির্বাচন কমিশনকে হলফনামা জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তিন দিন আগে থেকে কেন বাইক নিয়ে এই নিষেধাজ্ঞা? অতীতে বাইক নিয়ে খারাপ উদাহরণ কী আছে? এসব নিয়ে বিস্তারিত জানাতে হবে সেই হলফনামায়।


প্রসঙ্গত, ভোটের তিনদিন আগে বাইক চলাচল নিয়ে কমিশনের সিদ্ধান্ত অনেকেই ভালো মনে নেয়নি। কমিশনের এই নির্দেশের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের হয় কলকাতা হাইকোর্টে। বৃহস্পতিবার এই মামলার শুনানিতেই হাইকোর্টের তীব্র ভর্ৎসনার মুখে পড়তে হল নির্বাচন কমিশনকে।

No comments:

Post a Comment

Post Top Ad