কলকাতা: নজিরবিহীন পদক্ষেপ, রাজ্যে এই প্রথম বায়ুসেনার কপ্টারে ভোট পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ। দেশের নির্বাচনী ব্যবস্থায় নজির সৃষ্টি করলেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক তথা সিইও মনোজ কুমার আগরওয়াল। দেশের মধ্যে এই প্রথম কোনও রাজ্যের সিইও বায়ুসেনার হেলিকপ্টারে চড়ে নির্বাচনী প্রস্তুতির পরিস্থিতি আকাশপথে খতিয়ে দেখলেন। সিইও মনোজ কুমারের জন্য আরও ৩ টি হেলিকপ্টার দিচ্ছে কেন্দ্র, এমনই খবর সূত্রে।
সোমবার সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত উত্তরবঙ্গের তিন জেলায় আকাশপথে নির্বাচনী প্রস্তুতি এবং পরিস্থিতি খতিয়ে দেখেন তিনি। কলকাতা থেকে প্রথমে মালদহ, তারপর উত্তর দিনাজপুর এবং বিকেলে কোচবিহারে পরিস্থিতি খতিয়ে দেখার পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসনগুলোর সঙ্গেও বৈঠক করেন মনোজ কুমার আগরওয়াল। আজ মঙ্গলবার কোচবিহার থেকে আকাশ পথে বায়ুসেনার কপ্টারে সরাসরি পশ্চিম মেদিনীপুর যাবেন সিইও।
এদিন বিকেলেই কলকাতায় ফিরে আসবেন তিনি। হেলিকপ্টারে চড়ে উত্তর থেকে দক্ষিণ দু'দিনব্যাপী এই যাত্রাপথের সার্বিক দায়িত্বে রয়েছেন উইং কমান্ডার প্রদীপ এ হরিহরণ। কম সময়ের মধ্যে প্রথম দফায় অনুষ্ঠিত হতে চলা এই জেলাগুলির প্রশাসনিক ও নিরাপত্তা প্রস্তুতি সরেজমিনে যাচাই করা এবং জেলা স্তরের কর্তাদের সঙ্গে উচ্চপর্যায়ের বৈঠক করাই মূল উদ্দেশ্য বলে জানানো হয়েছে।
রাজ্যে দু'দশক পর কোন সিইও আকাশপথে এভাবেই ভোট প্রস্তুতি খতিয়ে দেখলেন। তবে বায়ুসেনার হেলিকপ্টারে চড়ে একজন সিইও-র নির্বাচনী প্রস্তুতি খতিয়ে দেখার নজির দেশে এই প্রথম।
প্রসঙ্গত, আকাশপথে ভোট পরিস্থিতি বা ভোটের প্রস্তুতি খতিয়ে দেখা অথবা কোনও দুর্গম এলাকায় ভোটের প্রস্তুতি খতিয়ে দেখার জন্য হেলিকপ্টার ব্যবহার করেছেন একাধিক রাজ্যের সিইও-রা। পশ্চিমবঙ্গেও ২০০৬ সালে তৎকালীন মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক বা সিইও দেবাশিস সেন মালদা ও মুর্শিদাবাদের ভোট পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে হেলিকপ্টার ব্যবহার করেছিলেন। মালদা থেকে কলকাতা ফেরার পথে যদিও প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে মুর্শিদাবাদে জরুরি অবতরণ করতে হয়েছিল তাঁকে।
তবে, ভিনরাজ্যেই হোক বা এরাজ্যে, অতীতে কোনও সিইও ভোট পরিস্থিতি খতিয়ে দেখা বা ভোটের কাজে বায়ুসেনার হেলিকপ্টার ব্যবহারের সুযোগ পাননি। পশ্চিমবঙ্গের বর্তমান সিইও মনোজ কুমার আগরওয়ালের ক্ষেত্রে যে তা বেনজির, এটা বলাই যায়।
এদিকে, কেন্দ্রীয় বাহিনীর ব্যুহে নিজেকে বেষ্টিত রাখা, বায়ুসেনার হেলিকপ্টার ব্যবহার করে ভোট পরিস্থিতি খতিয়ে দেখা এসব কিছুর মধ্যে রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গির বিষয়টি মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে। মূলত সিইও-র এই ধরণের পদক্ষেপে রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিকে খাটো করে দেখানো এবং গোটা দেশে রাজ্য সম্বন্ধে নেতিবাচক ধারণা তৈরির ক্ষেত্রে একটি উদাহরণ তৈরি করা হচ্ছে বলে মনে করছে রাজ্যের শাসক দলের নেতৃত্বরা।

No comments:
Post a Comment