কলকাতা, ০৩ এপ্রিল ২০২৬, ১২:১২:০২ : মালদায় সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে এসআইআর কাজে নিযুক্ত বিচারিক আধিকারিকদের আটকে রাখার ঘটনায় সিআইডি কড়া পদক্ষেপ নিয়েছে। শুক্রবার সকালে এই ঘটনার মূল চক্রী আইনজীবী মোফাক্কারুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। সূত্রের খবর, বাগডোগরা বিমানবন্দর থেকে পালানোর চেষ্টা করার সময় তাকে আটক করা হয়।
উত্তরবঙ্গের অতিরিক্ত পুলিশ মহাপরিদর্শক জয়ারামন জানান, “মানুষকে উসকানি দেওয়ার অভিযোগে আমরা মোফাক্কারুল ইসলামকে বাগডোগরা বিমানবন্দর থেকে আটক করেছি। এ ধরনের কোনো কর্মকাণ্ড আমরা বরদাস্ত করব না। ঘটনাটি পূর্বপরিকল্পিত ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হবে। এই ঘটনার পর বিচারিক আধিকারিকদের কেন্দ্রীয় বাহিনীর নিরাপত্তা দেওয়া হয়েছে। এখন পর্যন্ত ৩৫ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।”
এর আগে নির্বাচন কমিশন বৃহস্পতিবার মালদা জেলায় ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় পুনর্বিবেচনা (এসআইআর) কাজে যুক্ত বিচারিক আধিকারিকদের ঘেরাওয়ের ঘটনায় তদন্তের দায়িত্ব জাতীয় তদন্ত সংস্থাকে দেয়। সর্বোচ্চ আদালতের নির্দেশ মেনেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে কমিশন সূত্রে জানা গেছে। জানা গিয়েছে, জাতীয় তদন্ত সংস্থার দল শুক্রবারের মধ্যে পশ্চিমবঙ্গে পৌঁছবে। কমিশনের তরফে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় কোনো রকম হিংসা বরদাস্ত করা হবে না।
সর্বোচ্চ আদালতের নির্দেশ বাস্তবায়নের বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের সচিব সুজিত কুমার মিশ্র জাতীয় তদন্ত সংস্থার মহাপরিচালককে চিঠি লিখে মালদার ঘটনার তদন্তভার দেওয়ার কথা জানান। ওই চিঠিতে সর্বোচ্চ আদালতের সেই নির্দেশের উল্লেখ রয়েছে, যেখানে কমিশনকে কেন্দ্রীয় তদন্ত ব্যুরো বা জাতীয় তদন্ত সংস্থার মাধ্যমে তদন্ত করানোর কথা বলা হয়েছে।
সর্বোচ্চ আদালত মালদা জেলার একটি বিডিও দফতরে বুধবার বিকেল সাড়ে তিনটার সময় সাতজন বিচারিক আধিকারিককে ঘেরাও করার ঘটনায় স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে মামলা গ্রহণ করেছে। এই বিচারিক আধিকারিকরা এসআইআর প্রক্রিয়ার আওতায় দাবি ও আপত্তির শুনানির কাজে নিযুক্ত ছিলেন। পশ্চিমবঙ্গে দাবি ও আপত্তির শুনানির দায়িত্বও সর্বোচ্চ আদালতের নির্দেশেই বিচারিক আধিকারিকদের দেওয়া হয়েছে। আদালত এই ঘটনাকে আদালত অবমাননার বিষয় হিসেবে উল্লেখ করেছে। এই মামলার পরবর্তী শুনানি আগামী ৬ এপ্রিল অনুষ্ঠিত হবে।

No comments:
Post a Comment