কলকাতা, ০৭ এপ্রিল ২০২৬, ১৫:৩০:০১ : কেন্দ্রে ক্ষমতাসীন বিজেপি নেতৃত্বাধীন এনডিএ সরকারের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের জন্য গঠিত বিরোধী জোট ‘ইন্ডিয়া’-র ঐক্য বারবার ভেঙে পড়ার নজির দেখা গেছে। বিশেষ করে রাজ্য বিধানসভা নির্বাচনের সময় এই ঐক্য কার্যত দুর্বল হয়ে পড়ে। পশ্চিমবঙ্গের আগেও একাধিক রাজ্যের নির্বাচনে এই জোটের ঐক্যের অভাব স্পষ্ট ছিল, এবারও তার ব্যতিক্রম নয়।
জোটের অন্যতম বড় দল কংগ্রেস কেন্দ্রে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে একসঙ্গে থাকার কথা বললেও, পশ্চিমবঙ্গে নিজেদের শক্তি বাড়াতে এবং শূন্য থেকে আসন সংখ্যা বাড়ানোর লক্ষ্যে তৃণমূলের শক্ত ঘাঁটিতেও সরাসরি লড়াইয়ের পরিকল্পনা করছে।
সংখ্যালঘু ভোটে নজর
পশ্চিমবঙ্গের মুসলিম অধ্যুষিত এলাকাগুলিতে মমতার সামনে সংখ্যালঘু ভোট ধরে রাখার চ্যালেঞ্জ রয়েছে। এই পরিস্থিতিতে বাম শিবির ইতিমধ্যেই মাঠে নেমেছে। পাশাপাশি অন্য শক্তিও সক্রিয় হয়েছে। ফলে কংগ্রেস মালদা, মুর্শিদাবাদ, উত্তর দিনাজপুর ও পুরুলিয়ায় নিজেদের শক্তি বাড়ানোর দিকে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে। দার্জিলিং এলাকাতেও নতুন প্রতিশ্রুতি দিয়ে প্রভাব বাড়ানোর চেষ্টা চলছে।
জোরদার হচ্ছে প্রচার
নির্বাচনী প্রচার ইতিমধ্যেই তুঙ্গে। আগামী দিনে রাহুল গান্ধী এবং প্রিয়াঙ্কা গান্ধীর একাধিক বড় জনসভা আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে।
তৃণমূল কংগ্রেসের সমালোচনার পরোয়া না করেই কংগ্রেস নতুন কৌশল নিয়ে এগোচ্ছে। কোচবিহার, আলিপুরদুয়ার ও জলপাইগুড়ির মতো তফসিলি জাতি ও জনজাতি অধ্যুষিত এলাকায় দলের সর্বভারতীয় সভাপতির সভা করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এছাড়াও কলকাতায় দলের ইশতেহার প্রকাশের মাধ্যমে নতুন প্রতিশ্রুতি দেওয়া হবে, যা তৃণমূলের ভোটভিত্তিতে প্রভাব ফেলতে পারে।
কংগ্রেসের চারটি প্রধান ইস্যু
রাজ্যে কংগ্রেস চারটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়কে সামনে রেখে প্রচার চালাচ্ছে—
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি
দুর্নীতি
মূল্যবৃদ্ধি
বকেয়া অর্থপ্রদান
কংগ্রেসের অভিযোগ, কেন্দ্র রাজ্যের প্রাপ্য বিপুল অর্থ দেয়নি এবং এই বিষয়ে রাজ্য সরকারও যথেষ্ট সক্রিয় নয়।
সব মিলিয়ে, লোকসভা নির্বাচনের মতোই এ বারও রাজ্যে জোটসঙ্গী হয়েও আলাদা লড়াইয়ের পথে কংগ্রেস ও তৃণমূল। তবে এবার কংগ্রেসের আক্রমণাত্মক কৌশল ভবিষ্যতে দুই দলের সম্পর্কের মধ্যে আরও দূরত্ব তৈরি করতে পারে।

No comments:
Post a Comment