কলকাতা, ০৫ এপ্রিল ২০২৬, ০৯:৩৮:০১ : রাজ্য বিধানসভা নির্বাচনের আগে বামফ্রন্ট কর্মসংস্থানকে প্রধান গুরুত্ব দিয়ে তাদের ইশতেহার প্রকাশ করেছে। তারা বিভিন্ন ক্ষেত্রে চাকরির প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। সরকারি চাকরি হোক বা শিল্প উন্নয়ন—সব ক্ষেত্রেই কর্মসংস্থান বাড়ানোর কথা বলা হয়েছে। পাশাপাশি স্বাস্থ্য ও শিক্ষার উন্নয়নেও একাধিক প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে। এছাড়া ভাতা বৃদ্ধির কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।
বর্তমানে রাজ্যে সিপিএম-এর অবস্থান খুবই দুর্বল। গত পাঁচ বছর ধরে রাজ্য বিধানসভায় বামপন্থী দলগুলোর কোনও প্রতিনিধিত্ব নেই। একসময়ের শাসক দল সিপিএম এই শূন্যতার সম্মুখীন হয়েছে বারবার।
ক্ষমতায় ফেরার লড়াই
আবার নির্বাচন আসন্ন। এই শূন্যতা পূরণ করতে মরিয়া সিপিএম। তরুণ মুখের পাশাপাশি অভিজ্ঞ ও দক্ষ নেতাদেরও প্রার্থী করা হয়েছে। জেলা জেলায় তারা ‘বাংলা বাঁচাও যাত্রা’ পরিচালনা করছে। নির্বাচনকে সামনে রেখে তারা নতুন করে ইশতেহার প্রকাশ করেছে। আজ বামফ্রন্টের সভাপতি বিমান বসু এক সাংবাদিক সম্মেলনে এই ইশতেহার ঘোষণা করেন।
ইশতেহারের মূল প্রতিশ্রুতি
প্রত্যেক পরিবারে স্থায়ী কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা হবে।
শহরে বছরে ১২০ দিন এবং গ্রামে ২০০ দিন কাজের সুযোগ দেওয়া হবে।
দৈনিক মজুরি ৬০০ টাকা করা হবে।
পাঁচ বছরের মধ্যে সব শূন্য সরকারি পদ পূরণ করা হবে।
শ্রমিকদের ন্যূনতম দৈনিক মজুরি ৭০০ টাকা করা হবে।
১৬টি ফসলের ন্যূনতম সহায়ক মূল্য দেড় গুণ বাড়ানো হবে।
প্রিপেইড স্মার্ট মিটার বন্ধ করে ১০০ ইউনিট পর্যন্ত সম্পূর্ণ বিনামূল্যে এবং ২০০ ইউনিট পর্যন্ত অর্ধেক দামে বিদ্যুৎ দেওয়া হবে।
নদীভাঙন রোধ করা হবে এবং জলাশয় ভরাটের বিরুদ্ধে আইন আনা হবে।
পাঁচ বছরে ২০ লক্ষ স্বনির্ভর গোষ্ঠী গঠন করা হবে।
মহিলাদের ক্ষমতায়নে বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হবে।
প্রতিটি জেলায় পুলিশের নিজস্ব স্বায়ত্তশাসিত বাহিনী গঠন করা হবে এবং বিভিন্ন ঘটনার বিচার নিশ্চিত করা হবে।
প্রবীণদের জন্য স্বাস্থ্য পরিষেবা প্রকল্প চালু করা হবে।
দরিদ্র প্রবীণদের জন্য মাসিক ৬০০০ টাকা বার্ধক্য ভাতা দেওয়া হবে।
সংখ্যালঘু ও আদিবাসীদের জন্য বিদ্যালয়, মহাবিদ্যালয় ও হাসপাতাল নির্মাণ করা হবে।

No comments:
Post a Comment