নিজস্ব সংবাদদাতা, পশ্চিম মেদিনীপুর: 'পশ্চিমবাংলায় আইনশৃঙ্খলা বলে কিছু নেই, রাষ্ট্রবিরোধীরা দাপিয়ে বেড়াচ্ছে', ঝাঁঝালো আক্রমণ দিলীপ ঘোষের। শুক্রবার সাতসকালে মেদিনীপুরে নিজের চেনা মেজাজে ধরা দিলেন দিলীপ। বিধানসভা নির্বাচনের প্রচারের বাঁকে এদিন ‘চা চক্রে’ যোগ দেন তিনি। সেখানেই সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়েছিল রাজ্যের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে রাজ্য সরকারকে তুলোধোনা করেন মেদিনীপুরের এই দাপুটে নেতা। এদিন নিজের বিধানসভা কেন্দ্রের বিভিন্ন জায়গায় সারাদিন কর্মসূচি রয়েছে তাঁর। স্ত্রী রিঙ্কুকে নিয়ে নিজের প্রচার করেন দিলীপ।
সম্প্রতি কালিয়াচকে বিচারকদের হেনস্থা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, 'পশ্চিমবাংলায় আইনশৃঙ্খলা বলে কিছু নেই, রাষ্ট্রবিরোধীরা দাপিয়ে বেড়াচ্ছে।' এটা আমরা বছরের পর বছর বলে আসছি এই সরকারকে বরখাস্ত করা উচিৎ ছিল, হয়নি। আজকে বিচারকরা নিজে এখানে এসে আক্রান্ত হচ্ছেন। তাঁর সুরক্ষা নেই। তাহলে পশ্চিমবাংলার বিচারব্যবস্থা দেখুন আপনারা। এখানে হাইকোর্টে বিচারককে শুনানি করতে দেওয়া হয় না। তাঁর এজলাসে ঢুকে চিৎকার করা হয়, বিচারকদের ঘেরাও করা হয়। আর আজ বিচারকরা রাস্তায় দাঁড়িয়ে মার খাচ্ছেন, গাড়ি ভাঙা হচ্ছে। সুপ্রিম কোর্ট, নির্বাচন কমিশনও বুঝতে পারছেন কি করে এখানে বাংলার লোকেরা আছেন আর কি করে শান্তিপূর্ণ নির্বাচন হবে।'
দিলীপের কথায়, এই মুখ্যমন্ত্রী এবং তাঁর প্রশাসনিক আধিকারিকরা এঁরা এখানে শান্তিপূর্ণ ভোট করতে দেবেন না, গায়ের জোরে করতে চাইছে। এর যদি ব্যবস্থা না নেয় নির্বাচন কমিশন ও আদালত। তাহলে পশ্চিমবাংলায় ভোট হবে না।' তাঁর অভিযোগ, বিজেপি প্রার্থীদের প্রচার করতে দেওয়া হচ্ছে না। প্রচারে গেলেই গুণ্ডা পাঠিয়ে ঘেরাওয়ের চেষ্টা হচ্ছে। অমিত শাহকে পর্যন্ত কালো পতাকা দেখানো হচ্ছে। 'কোথায় আইনশৃঙ্খলা?' প্রশ্ন দিলীপের।
দিলীপ বলেন, "সব পূর্বপরিকল্পিত। সারা রাজ্যে ওঁরা ঠিক করেছে বিজেপিকে প্রচার করতে দেবে না। এইভাবে ভোট আটকানো, সংবিধান অমান্য করার চেষ্টা চলছে।" তাঁর স্পষ্ট বার্তা, 'আমরাও লড়তে এসেছি, আমরাও মাঠে লড়তে জানি।' পাশাপাশি তার বক্তব্য, 'রাষ্ট্রপতি শাসন ছাড়া কি ভোট হতে পারবে!'
প্রসঙ্গত, আগামীকাল শনিবার দিলীপ ঘোষের মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার কথা। রাম মন্দির থেকে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা করে তিনি মনোনয়ন জমা দিতে যাবেন। সেখানে কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের উপস্থিত থাকার সম্ভাবনাও রয়েছে। সব মিলিয়ে, নির্বাচনের চূড়ান্ত লগ্নে দাঁড়িয়ে দিলীপ ঘোষের এই ঝাঁঝালো আক্রমণ বঙ্গ রাজনীতির পারদ যে বাড়িয়ে দিয়েছে, একথা বলার অপেক্ষা রাখে না।

No comments:
Post a Comment