কলকাতা: রাত পোহালেই দ্বিতীয় দফার ভোট। তার আগে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশকে কড়া নির্দেশ দিল নির্বাচন কমিশন। রাজ্যের সিইও দফতর থেকে জারি করা হয়েছে নির্দেশিকা, ভোটে কলকাতা হাইকোর্ট ও নির্বাচন কমিশনের নির্দেশ মেনে চলতে হবে। স্পষ্ট নির্দেশ, অবৈধ জমায়েত করতে দেওয়া যাবে না কোনও ভাবেই। কোনও ভোটারকে ভয় দেখানোর মতো অভিযোগ আসলে, তা দমন করতে হবে কড়া হাতে। যে কোনও ঝামেলায় কেন্দ্রীয় বাহিনীর সাহায্য নিতে হবে।
প্রথম দফায় নির্বাচনে ভোটারদের ভয় দেখানোর মতো ঘটনার একাধিক অভিযোগ জমা পড়েছে বাংলার সিইও-র কন্ট্রোল রুমে। দক্ষিণ দিনাজপুরের কুমারগঞ্জে বিজেপি প্রার্থী শুভেন্দু সরকারকে মারধরেরও অভিযোগ ওঠে, এছাড়াও বিক্ষিপ্ত অশান্তির ঘটনা ঘটেছে। তাই দ্বিতীয় দফার ভোটে কমিশন আরও বেশী সতর্ক।
ভোটের আগেই রবিবার রাতে উত্তর ২৪ পরগনার ভাটপাড়ায় বিজেপি-তৃণমূলের সংঘর্ষের যে অভিযোগ উঠেছে, তাতেও আলাদা করে নজর রয়েছে কমিশনের। অর্জুন সিংয়ের ছেলে পবন সিংয়ের নিরাপত্তারক্ষীর গুলি লাগার ঘটনাও কমিশনের নজরে আছে। এই সব ঘটনা থেকে কমিশনের আশঙ্কা, দ্বিতীয় দফার ভোটেও দুষ্কৃতীরা নিজ নিজ বিধানসভা এলাকায় ভোটারদের ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় বিঘ্ন ঘটানোর চেষ্টা বা ষড়যন্ত্র করতে পারে। কমিশনের নির্দেশ, পুলিশকে ভোটারদের বাঁচাতে হবে দুষ্কৃতকারীদের থেকে। প্রয়োজনে সাহায্য নিতে হবে কেন্দ্রীয় বাহিনীর।
বুধবার ৭জেলার ১৪২টি আসনে ভোটগ্রহণ। তার আগেই বড় সিদ্ধান্ত নিয়েছে কমিশন। জানা গিয়েছে, ভোটের ময়দানে এবারে মোট ২ হাজার ৩২১ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন থাকতে চলেছে। শুধুমাত্র কলকাতার জন্য মোতায়েন থাকছে ২৭৩ কোম্পানি বাহিনী। বিধাননগর পুলিশ কমিশনারেটে থাকবে ৫০ কোম্পানি বাহিনী। ডায়মন্ড হারবার পুলিশ জেলায় দ্বিতীয় দফায় থাকবে ১৩৫ কোম্পানি। হাওড়া গ্রামীণ ও পুলিশ কমিশনারেট মিলিয়ে মোতায়েন থাকবে ২৫৭ কোম্পানি বাহিনী। দ্বিতীয় দফায় ব্যারাকপুর পুলিশ কমিশনারেট এলাকায় থাকবে ১৬০ কোম্পানি বাহিনী।
এরই সঙ্গে, এবারের ভোটে কমিশনের নজর রয়েছে দক্ষিণ ২৪ পরগনার ডায়মন্ড হারবার বিধানসভা কেন্দ্রে। সেখানে ৫ জন পুলিশ আধিকারিককে ইতিমধ্যেই সাসপেন্ড করা হয়েছে। এর পাশাপাশি সাসপেন্ড হওয়া অফিসারদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় শাস্তিমূলক প্রক্রিয়া শুরু করতে মুখ্যসচিবকে চিঠিও দিয়েছে কমিশন। মোটের ওপর দ্বিতীয় দফার নির্বাচনে অশান্তি রুখতে কোমর বেঁধে ময়দানে নেমেছে নির্বাচন কমিশন।

No comments:
Post a Comment