ন্যাশনাল ডেস্ক, ২৮ এপ্রিল ২০২৬: অতি সম্প্রতি মুম্বাইয়ে ঘটে গিয়েছে এক চাঞ্চল্যকর ঘটনা, যা ইতিমধ্যেই নানান প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। সেখানে একই পরিবারের চার সদস্য হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং তাঁদের মৃত্যু পর্যন্ত হয়। জানা যাচ্ছে, পরিবারের সদস্যরা বিরিয়ানি খাওয়ার পর তরমুজ খেয়েছিলেন, এর পরে তাদের স্বাস্থ্যের অবনতি ঘটে এবং সকলকে হাসপাতালে ভর্তি করতে হয়। এই ঘটনার পর সবচেয়ে বড় যে প্রশ্নটি উঠেছে তা হল, বিরিয়ানির পর তরমুজ খাওয়া কি প্রাণঘাতী হতে পারে? এই বিষয়ে অনেক ডাক্তার তাঁদের মতামত দিচ্ছেন। চলুন জেনে নেওয়া যাক, বিরিয়ানির পর তরমুজ খাওয়া প্রাণঘাতী কিনা, সে বিষয়ে ডাক্তাররা কী বলছেন।
একসাথে বিরিয়ানি এবং তরমুজ খেলে কি মৃত্যু হতে পারে?
চিকিৎসা বিশেষজ্ঞদের মতে, একসাথে বা অল্প সময়ের ব্যবধানে বিরিয়ানি এবং তরমুজ খেলে মৃত্যু হওয়ার সম্ভাবনা কম। সর্বভারতীয় এক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ডাক্তার ঈশ্বর গিলাদা বলেন, এগুলো দুটি ভিন্ন খাবার এবং এগুলোর হজম হতে ভিন্ন সময় লাগে। তবে, এর ফলে তাৎক্ষণিক মৃত্যু হওয়াটা স্বাভাবিক নয়। ডাক্তারের মতে, এই ধরণের ক্ষেত্রে প্রধান সন্দেহভাজন হল ফুড পয়জনিং। খাবার বা ফল দীর্ঘ সময় ধরে খোলা জায়গায় ফেলে রাখলে বা বাসি হয়ে গেলে, তাতে বিপজ্জনক ব্যাকটেরিয়া থাকতে পারে। স্ট্যাফাইলোকক্কাস, সালমোনেলা এবং ই. কোলাই-এর মতো ব্যাকটেরিয়া খাবারের মাধ্যমে শরীরে প্রবেশ করে এবং বমি, ডায়রিয়া ও গুরুতর সংক্রমণের কারণ হয়। কিছু ক্ষেত্রে, এই অবস্থা সেপসিসে পরিণত হতে পারে, যা প্রাণঘাতী হতে পারে।
খাদ্য বিষক্রিয়া কি তাৎক্ষণিক মৃত্যুর কারণ হতে পারে?
ডাক্তাররা বলেন যে, খাদ্য বিষক্রিয়ার পর উপসর্গ দেখা দিতে এবং অবস্থা গুরুতর হতে সাধারণত কিছুটা সময় লাগে। যদি কোনও ব্যক্তি আগে সুস্থ থাকেন, তবে তিনি সংক্রমণের বিরুদ্ধে লড়াই করার চেষ্টা করেন। কিন্তু, ক্রমাগত বমি এবং ডায়রিয়ার ফলে শরীর থেকে জল এবং ইলেক্ট্রোলাইট কমে যেতে পারে, যা রক্তচাপ হঠাৎ কমিয়ে দিতে পারে এবং শকের কারণ হতে পারে। কিছু ক্ষেত্রে এই অবস্থা বিপজ্জনক প্রমাণিত হতে পারে।
খাবারের সংমিশ্রণ সম্পর্কে বিশেষজ্ঞরা কী বলেন?
কিছু বিশেষজ্ঞ মনে করেন যে, আমিষ খাবার এবং জল-সমৃদ্ধ ফলের হজমের সময় ভিন্ন। তরমুজ দ্রুত হজম হয়, অন্যদিকে মাংস হজম হতে বেশি সময় লাগে। এমন পরিস্থিতিতে, দুটো একসাথে খেলে হজমের সমস্যা হতে পারে, কিন্তু এটিকে মৃত্যুর প্রত্যক্ষ কারণ হিসেবে গণ্য করা যায় না।
মুম্বাইয়ে যে ঘটনা ঘটেছে, বিশেষজ্ঞরা বলেছেন তদন্তের পরেই প্রকৃত চিত্র স্পষ্ট হবে। সংক্রমণ বিশেষজ্ঞ ডা. ঈশ্বর গিলাদার মতে, এ ধরণে ঘটনার প্রকৃত কারণ নির্ণয় করা কঠিন। তিনি বলেন, যদি একাধিক ব্যক্তি একই খাবার খেয়ে থাকেন এবং সবাই আক্রান্ত না হন, তবে আক্রান্ত ব্যক্তিরা আলাদাভাবে কী খেয়েছিলেন বা এর পেছনে অন্য কোনও অন্তর্নিহিত কারণ ছিল কিনা, তা খতিয়ে দেখা জরুরি।
তিনি জানান, পচা খাবার থেকে ব্যাকটেরিয়া সংক্রমণ হতে পারে, তবে কিছু ক্ষেত্রে রাসায়নিক বা বিষাক্ত পদার্থের দূষণের মতো বাহ্যিক কারণও উড়িয়ে দেওয়া যায় না। তিনি বলেন, ময়নাতদন্ত ও ফরেনসিক পরীক্ষার পরেই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে।
চিকিৎসকরা ব্যাখ্যা করেন যে, তরমুজের রঙ উজ্জ্বল করার জন্য প্রায়শই এতে রাসায়নিক মেশানো হয়। যদি রাসায়নিক পদার্থ দূষিত হয় বা কেউ অসৎ উদ্দেশ্যে এতে বিষাক্ত পদার্থ বা বিষ মিশিয়ে দেয়, তবে তা খেলে শরীরে বিষক্রিয়া ঘটতে পারে। আর এক্ষেত্রে, ময়নাতদন্তের পরেই চারজনের মৃত্যুর সঠিক কারণ সম্পূর্ণরূপে নির্ণয় করা যাবে।

No comments:
Post a Comment