দক্ষিণ ২৪ পরগনা: অটোতে করে ইভিএম মেশিন নিয়ে যাওয়াকে কেন্দ্র করে চাঞ্চল্য। গভীর রাতে প্রবল বৃষ্টির মধ্যেই এই ঘটনা ঘটেছে দক্ষিণ ২৪ পরগনার কুলতলি এলাকায়। ইভিএম চুরির অভিযোগ তুলে সরব বিজেপি প্রার্থী মাধবী মহলদার। ঘটনাস্থলে তুমুল বিক্ষোভ, এলাকায় উত্তেজনা। পরবর্তীতে প্রশাসনের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।
অভিযোগ, কোনও প্রশাসনিক নিরাপত্তা ছাড়াই বুধবার রাতে অটোয় করে ইভিএম নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল। পথেই বিজেপি কর্মীরা অটো আটকে দেয়। চালক-সহ অটোতে দুজনকে বসে থাকতে দেখা যায়।
বিজেপি কর্মীদের দাবী, তৃণমূলের মদতে ইভিএম মেশিনগুলি বদলানোর উদ্দেশ্যে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল। যদিও এই অভিযোগের বিষয়ে তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে এখনও পর্যন্ত কোনও প্রতিক্রিয়া মেলেনি।
স্থানীয় সূত্রের খবর, ভোট শেষ হওয়ার পরে রাতের দিকে একটি অটোয় করে বেশ কিছু ইভিএম নিয়ে আসা হচ্ছিল। বিজেপি কর্মীরা সেটা দেখতে পেয়েই ছুটে আসেন এবং অটো আটকে দাঁড়ান। ঘটনাস্থলে আসেন মাধবী মহলদার।
তাঁর অভিযোগ, "ভোটের পরে ইভিএম চুরি করে বের করে আনা হচ্ছিল। পুলিশ ও তৃণমূলের মদতেই এই কাজ হচ্ছে।" ঘটনার প্রতিবাদে বৃষ্টির মধ্যেই বিক্ষোভ শুরু করেন বিজেপি প্রার্থী-সহ দলের অন্যান্য কর্মীরা। পুনর্নির্বাচনের দাবীও জানানো হয়। প্রশাসনের এক আধিকারিক অবশ্য জানান, ইভিএম চুরির অভিযোগ ঠিক নয়। কিছু বাড়তি ইভিএম আপৎকালীন পরিস্থিতির জন্য তৈরি রাখা হয়েছিল। সেগুলি ব্যবহার না হওয়ায় ফেরত আনা হচ্ছিল।
এদিকে এই ঘটনাকে কেন্দ্র তুমুল উত্তেজনা ছড়ায় এলাকায়। বৃষ্টির মাঝেই বিজেপি কর্মীরা প্রায় দেড় ঘন্টা ধরে সেখানে বিক্ষোভ দেখান এবং অটোটি ঘিরে রাখেন। পরিস্থিতি ক্রমশ উত্তপ্ত হয়ে উঠলে ঘটনাস্থলে পৌঁছায় প্রশাসন। পরে প্রশাসনের হস্তক্ষেপে অটো সহ ইভিএম মেশিনগুলি নিজেদের দায়িত্বে নিয়ে যাওয়া হলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।
রাজ্যে বুধবার ছিল দ্বিতীয় দফায় ভোটগ্ৰহণ। কিছু বিক্ষিপ্ত ঘটনা ছাড়া মোটামুটি শান্তিপূর্ণ ভাবেই মিলেছে ভোট পর্ব। প্রথম দফার মত এবারেও রেকর্ড ভোটদান হয়েছে। তবে, ভোট শেষে এই ইভিএম কাণ্ডকে কেন্দ্র করে এলাকায় তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়েছে।

No comments:
Post a Comment