ঝাড়গ্রাম: ঝাড়গ্রামের জঙ্গলমহলে উন্নয়ন ও পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষার লক্ষ্যে নেওয়া একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প হঠাৎ করেই বিতর্কের কেন্দ্রে।হাতি-মানুষ সংঘাত কমাতে গড়ে ওঠা ইকো প্যাসেজ প্রকল্পে ধসের ঘটনায় উঠছে একাধিক প্রশ্ন। অল্পের জন্য বড় দুর্ঘটনা এড়ানো গেলেও নিরাপত্তা ও নির্মাণমান নিয়ে শুরু হয়েছে তীব্র আলোচনা।
ঝাড়গ্রামের গুপ্তমণি এলাকায় ৪৯ নম্বর জাতীয় সড়কের উপর নির্মীয়মাণ একটি আন্ডারপাস ব্রিজের অংশ বিশেষ হঠাৎ ভেঙে পড়ে বুধবার ভোররাতে। এই আন্ডারপাসটি মূলত হাতির নিরাপদ চলাচলের জন্য তৈরি করা হচ্ছিল, যাতে নিচ দিয়ে হাতির দল পারাপার করতে পারে এবং উপর দিয়ে নির্বিঘ্নে চলাচল করে যানবাহন। কিন্তু ঢালাইয়ের কয়েক ঘন্টার মধ্যেই কাঠামোর একটি অংশ ধসে পড়ায় নির্মাণের গুণগত মান নিয়ে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠেছে।
জানা গিয়েছে, বনদফতরের সুপারিশের ভিত্তিতে জাতীয় সড়ক কর্তৃপক্ষ এই প্রকল্প হাতে নেয়। প্রায় ৫০ কোটির বেশি ব্যয়ে নির্মীয়মাণ এই ইকো প্যাসেজটির দৈর্ঘ্য প্রায় ১০০ মিটার এবং উচ্চতা প্রায় ৭ মিটার। ২০২৫ সাল থেকে শুরু হওয়া এই কাজের নির্ধারিত সময়সীমা ছিল দেড় বছরের মধ্যে সম্পূর্ণ করা। পরিকল্পনা অনুযায়ী, সড়ককে উঁচু করে তার নীচ দিয়ে হাতিদের চলাচলের জন্য একটি প্রশস্ত করিডোর তৈরি করা হচ্ছিল। তবে ঘটনার পর থেকেই নির্মাণে গাফিলতির অভিযোগ সামনে আসতে শুরু করেছে।
স্থানীয় সূত্রের দাবী, ব্যবহৃত সামগ্রীর মান এবং কাজের তদারকি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই প্রশ্ন ছিল। এদিকে জাতীয় সড়ক কর্তৃপক্ষের একাংশের দাবী, হাতির চলাচলের ফলেও ক্ষতি হয়ে থাকতে পারে—যদিও সাম্প্রতিক কয়েকদিন ওই রুটে হাতির উপস্থিতির কোনও প্রমাণ মেলেনি বলে জানা গেছে।
ঘটনার খবর পেয়ে এদিনই এলাকায় পৌঁছন গোপীবল্লভপুর বিধানসভার তৃণমূল প্রার্থী অজিত মাহাতো, খড়গপুর গ্ৰামীণের তৃণমূল প্রার্থী দীনেন রায় ও শালবনীর তৃণমূল প্রার্থী শ্রীকান্ত মাহাতো।
তাঁদের অভিযোগ, নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার এবং অব্যবস্থাপনার কারণেই এই ধস। এদিন অজিত মাহাতো কেন্দ্র সরকারের বিরুদ্ধে সরব হন। তিনি অভিযোগ করেন, প্রায় ৫০ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মীয়মাণ এই প্রকল্পে দুর্নীতি হয়েছে। তাঁর দাবী, কাজে নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার করা হয়েছে, যার ফলেই এই ধসের ঘটনা ঘটেছে।

No comments:
Post a Comment