দক্ষিণ ২৪ পরগনা: দ্বিতীয় দফার ভোট ঘিরে অনেকেরই নজর ছিল দক্ষিণ ২৪ পরগনার ভাঙড়ে। বুধবার বেলা গড়াতেই সেখানে রীতিমতো রণক্ষেত্র। আইএসএফ বিধায়ক তথা হেভিওয়েট প্রার্থী নওশাদ সিদ্দিকীকে ঘিরে তৃণমূল কর্মীদের বিক্ষোভ। মুহুর্তেই দু'পক্ষের তুমুল সংঘর্ষে উত্তপ্ত হয়ে উঠল এলাকা। দফায় দফায় লাঠিচার্জ ও ধস্তাধস্তিতে কার্যত স্তব্ধ ভোট প্রক্রিয়া।
এদিন সকালে ভাঙড়ের বিভিন্ন ভোটকেন্দ্র ও বুথ পরিদর্শন করেন নওশাদ সিদ্দিকী। অভিযোগ, একটি নির্দিষ্ট বুথে পৌঁছানো মাত্রই সেখানে জমায়েত হওয়া তৃণমূল কংগ্রেস কর্মীরা তাঁকে লক্ষ্য করে 'গো ব্যাক' স্লোগান দিতে শুরু করেন। নওশাদ বুথে ঢুকতে চাইলে তাঁকে শারীরিকভাবে বাধা দেওয়ারও অভিযোগ ওঠে। নওশাদের নিরাপত্তারক্ষীরা তাঁকে আগলে বুথে ঢোকানোর চেষ্টা করলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। তৃণমূলের বিক্ষোভের মুখে পিছু না হটে পাল্টা প্রতিরোধ গড়ে তোলেন আইএসএফ সমর্থকরা।
আইএসএফ ও তৃণমূল-দু'পক্ষের কর্মী-সমর্থকরাই একে অপরের ওপর চড়াও হয়। শুরু হয় ব্যাপক হাতাহাতি ও ইটবৃষ্টি।
পরিস্থিতি সামাল দিতে ঘটনাস্থলে পৌঁছয় বিশাল পুলিশ বাহিনী ও কেন্দ্রীয় বাহিনী। মারমুখী জনতাকে ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশকে কয়েক দফায় লাঠিচার্জ করতে হয়। প্রায় এক ঘন্টারও বেশি সময় ওই বুথে ভোটগ্রহণ বন্ধ থাকে। ঘটনায় আতঙ্কিত হয়ে পড়েন ভোটাররাও।
ঘটনার পর ক্ষোভ উগরে দিয়ে নওশাদ সিদ্দিকী বলেন, "একজন প্রার্থী হিসেবে বুথ পরিদর্শন করা আমার গণতান্ত্রিক অধিকার। কিন্তু পরাজয় নিশ্চিত জেনেই তৃণমূল পরিকল্পিতভাবে আমায় আটকানোর চেষ্টা করছে এবং সাধারণ মানুষকে ভয় দেখাচ্ছে।”
অন্যদিকে, তৃণমূল নেতৃত্বের পক্ষ থেকে এই অভিযোগ অস্বীকার করা হয়েছে। তাঁদের দাবী, নওশাদ সিদ্দিকী একদল বহিরাগত দুষ্কৃতী সঙ্গে নিয়ে এলাকায় ঢুকে অশান্তি পাকানোর চেষ্টা করছিলেন এবং ভোটারদের প্রভাবিত করছিলেন।
ভাঙড়ের এই ঘটনার পর সংশ্লিষ্ট বুথ ও সংলগ্ন এলাকায় বাড়তি এক কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। আকাশপথে ড্রোন উড়িয়েও নজরদারি চালানো হচ্ছে। এলাকায় বর্তমানে এক চাপা উত্তেজনা রয়েছে।

No comments:
Post a Comment