ওয়ার্ল্ড ডেস্ক, ০৩ এপ্রিল ২০২৬: প্রবল বৃষ্টি, বজ্রপাত ও আকস্মিক বন্যায় বিধ্বস্ত পাকিস্তান। পাকিস্তানের বিভিন্ন প্রান্তে গত ২৪ ঘন্টায় অন্তত ১২ জনের মৃত্যু হয়েছে। বৃহস্পতিবার করাচিতে চার ঘন্টায় গড়ে ৩০ থেকে ৪৫ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে, যাতে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হয়। করাচিতে বৃহস্পতিবার সকালে শুরু হওয়া প্রবল বর্ষণের কারণে কর্তৃপক্ষ জরুরি অবস্থা ঘোষণা করতে বাধ্য হয়েছে। বন্যা কবলিত শহরটিতে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ও যান চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে। 'ইধি ট্রাস্ট' এবং 'চিপ্পা ওয়েলফেয়ার' সহ উদ্ধারকারী সংস্থাগুলো বিভিন্ন এলাকায় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে এবং বাড়ির দেওয়াল ধসে পাঁচজনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছে।
করাচিতে প্রবল হাওয়ায় বেশ কয়েকটি এলাকায় সাইনবোর্ড উল্টে গেছে, গাছ উপড়ে গেছে এবং রাস্তাঘাট ডুবে গেছে, যার ফলে কর্তৃপক্ষ জরুরি অবস্থা ঘোষণা করতে বাধ্য হয়েছে। বৃষ্টি শুরু হওয়ার সাথে সাথেই শহরের বেশ কয়েকটি এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহও বিঘ্নিত হয়েছে। পাকিস্তান আবহাওয়া বিভাগ (পিএমডি) জানিয়েছে যে, বৃহস্পতিবার বিকেল নাগাদ করাচির বিভিন্ন স্থানে গড় বৃষ্টিপাতের পরিমাণ ছিল ৩০ থেকে ৪৫ মিলিমিটার।
পিএমডি-র সরকারি তথ্য অনুযায়ী, সকাল ১০টা থেকে দুপুর ২টার মধ্যে নাজিমাবাদে (পাপোশ নগর) সর্বোচ্চ ৬৯.৬ মিমি বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে, এরপরেই রয়েছে কেমারি (৫৬ মিমি) এবং সাদি টাউন (৪৮ মিমি)। করাচিতে পিএমডি-র আবহাওয়াবিদ আনজুম নাজির বলেন, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় এবং গভীর রাতে করাচিতে আরও বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। পাকিস্তান দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সেল জানিয়েছে, বুধবার থেকে শুরু হওয়া ভারী বৃষ্টির কারণে তুরবাত, কোহলো, জাফফারাবাদ, লোরালাই, হারনাই এবং কোয়েটা সহ বেলুচিস্তানের বিভিন্ন অংশে সাতজনের মৃত্যু হয়েছে।
এই ভারী বৃষ্টিতে প্রায় ১০০টি বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং ৫০টি পশু মারা গেছে। প্রাদেশিক রাজধানী কোয়েটা থেকে প্রায় ১০০ কিলোমিটার উত্তর-পশ্চিমে অবস্থিত কিলা আবদুল্লাহতে এই বৃষ্টির কারণে আকস্মিক বন্যা দেখা দিয়েছে। আধিকারিকরা জানিয়েছেন, কিলা আবদুল্লাহ এলাকায় ১৫ জন যাত্রীসহ একটি বাস ভেসে গেছে। যাত্রীদের বাঁচাতে উদ্ধারকারী দল বাসটি খুঁজে বের করার চেষ্টা করছে।

No comments:
Post a Comment