জঙ্গলমহলে কি সত্যিই বইছে উন্নয়নের ধারা! কী বলছেন স্থানীয়রা? - Press Card News

Breaking

Post Top Ad

Post Top Ad

Wednesday, April 15, 2026

জঙ্গলমহলে কি সত্যিই বইছে উন্নয়নের ধারা! কী বলছেন স্থানীয়রা?


নিজস্ব সংবাদদাতা, পশ্চিম মেদিনীপুর: পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার জঙ্গলমহল এলাকার শালবনির ব্লকের পিড়াকাটা এলাকা। একসময় যার নাম উচ্চারণ হলেই ভেসে উঠত অশান্তি ও আতঙ্কের ছবি। তবে সময়ের সঙ্গে সেই চিত্র বদলেছে অনেকটাই। বর্তমানে শান্ত পরিবেশ ও উন্নয়নের ছোঁয়ায় বদলে যাওয়া এই এলাকায় স্থানীয়দের দাবী, “জঙ্গলমহল এখন সত্যিই হাসছে।” 


জঙ্গল ঘেরা লালমাটির পথ, ছোট-ছোট গ্রাম আর প্রকৃতির শান্ত পরিবেশের মধ্যেই ধীরে ধীরে গড়ে উঠেছে উন্নয়নের পরিকাঠামো। গ্রামীণ সড়ক যোজনার মাধ্যমে বহু কাঁচা রাস্তা এখন পাকা হয়েছে, বিদ্যুৎ পৌঁছেছে প্রায় প্রতিটি বাড়িতে, পানীয় জলের ব্যবস্থাও আগের তুলনায় উন্নত হয়েছে। একসময় মাওবাদী প্রভাবের জন্য পরিচিত এই এলাকায় এখন অনেকটাই স্বাভাবিক জীবনযাত্রায় ফিরেছে। বাজার-হাটে ভিড়, কৃষিকাজে ব্যস্ততা-সব মিলিয়ে স্বাভাবিক ছন্দে ফিরেছে জনজীবন। 


স্থানীয় লোধা-শবর সম্প্রদায়ের বাসিন্দা বুদ্ধেশ্বর সবর জানান, “আমাদের এখানে এখন রাস্তাঘাট হয়েছে, বসেছে স্ট্রিট লাইট, বাড়িতে বাড়িতে জলের লাইন এসেছে। প্রায় সবাই বাড়ি পেয়েছে। আগে অনেক অসুবিধা ছিল, এখন অনেকটাই ঠিক হয়েছে।” তবে তাঁর মতে, চাষের উন্নতির জন্য আরও সেচ ব্যবস্থা প্রয়োজন। তাঁর বক্তব্য, “যদি দু-একটা সাব-মার্সিবল করা হয়, তাহলে চাষের জন্য খুব উপকার হবে।”  


একই সুর শোনা গেল সুমিতা সবরের কথায়ও। তাঁর বক্তব্য, “পাকা বাড়ি হয়েছে, রাস্তাঘাট ঢালাই হয়েছে। কিছু সুবিধা হয়েছে, তা অস্বীকার করা যাবে না।” তবে পানীয় জলের ক্ষেত্রে এখনও অনিয়মিত সরবরাহের কথা তুলে ধরেন তিনি। অন্যদিকে বেলাবতী সবর জানান, “আগে রাস্তাঘাট না থাকায় রোগী নিয়ে যেতে খুব কষ্ট হতো। এখন বাড়ির সামনে গাড়ি আসে, হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া সহজ হয়েছে। স্কুল হয়েছে, ওষুধ পাওয়া যায়। এখন অনেক সুবিধা হয়েছে।” 


কিন্তু এত সবের মধ্যেও কিছু সমস্যা এখনও রয়ে গেছে। বিশেষ করে কর্মসংস্থানের অভাব বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিচ্ছে। এলাকার বহু যুবক-যুবতী কাজের খোঁজে ভিন রাজ্যে পাড়ি দিচ্ছেন। কৃষিকাজ প্রধান জীবিকা হলেও পর্যাপ্ত সেচ ব্যবস্থার অভাবে একটা অনিশ্চয়তা কাজ করছে। মোটের ওপর বলা যেতে পারে, শালবনির পিড়াকাটা আজ পরিবর্তনের পথে অনেকটাই এগিয়েছে। শান্তি ও উন্নয়নের ছাপ স্পষ্ট হলেও, জঙ্গলমহলের হাসি আরও উজ্জ্বল করতে প্রয়োজন স্থায়ী কর্মসংস্থান, সেচ ব্যবস্থা ও পরিকাঠামোর আরও উন্নয়ন। 


এলাকার বিধায়ক তথা মন্ত্রী শ্রীকান্ত মাহাতোর দাবী, জঙ্গলমহলে গেলেই বুঝতে পারবেন মানুষের মুখে হাসি ফুটেছে শুধু বর্তমান সরকারের উন্নয়নের ছোঁয়ায়। শিক্ষাব্যবস্থা থেকে স্বাস্থ্য ব্যবস্থা ও উন্নয়ন হয়েছে এই গ্রামীণ রাস্তারও। আগামী দিনে বর্তমান সরকারের প্রচেষ্টার মধ্য দিয়ে আরও নতুনভাবে সেজে উঠবে জঙ্গলমহল।

No comments:

Post a Comment

Post Top Ad