মালদা: বর্ষা নামলেই মালদায় ভাটরা বিল, যা ‘মিনি দীঘা’ নামে পরিচিত, বহুদিন ধরেই দর্শনার্থীদের অন্যতম আকর্ষণ। জলমগ্ন নিম্নভূমির মনোরম প্রাকৃতিক দৃশ্য উপভোগ করতে প্রতি বছরই জেলার বিভিন্ন প্রান্তের পাশাপাশি পার্শ্ববর্তী এলাকা থেকেও বহু মানুষ সেখানে ভিড় জমান। তবে এবার মালদায় অন্য এক নতুন ঠিকানা আলোচনায় উঠে এসেছে যার নাম দেওয়া হয়েছে ‘মিনি পেহেলগাঁও’। সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল এই পর্যটনস্থল। গৌড়ের চাঁদ সওদাগরের ভিটা। এখন পর্যটক ও ভ্রমণপ্রেমীদের নতুন গন্তব্য হয়ে উঠেছে।
জানা গিয়েছে, সুসতানি মোড় থেকে মোহাব্বতপুর সীমান্তমুখী সড়ক ধরে প্রায় ১১ কিলোমিটার ভিতরে, ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত সংলগ্ন এলাকায় অবস্থিত এই মনোরম স্থানটি। প্রতিদিনই বহু কনটেন্ট ক্রিয়েটর থেকে শুরু করে ভ্রমন পিপাসুরা, সেখানে পৌঁছে রিলস, ভিডিও ও ব্লগ তৈরি করছেন। পাশাপাশি সাধারণ মানুষও সকাল ও বিকেলের আড্ডা, ঘোরাঘুরি এবং প্রকৃতির সৌন্দর্য উপভোগ করতে ভিড় জমাচ্ছেন।
সবুজে মোড়া উঁচু-নিচু তৃণভূমি, পুরনো গাছপালা, পাথরের স্তম্ভ, পুকুর এবং চারপাশের বাগান মিলিয়ে এলাকায় তৈরি হয়েছে এক অনন্য প্রাকৃতিক পরিবেশ। অনেকের মতে, এই দৃশ্য অনেকটাই কাশ্মীরের পহেলগাঁওয়ের মতো। সেই কারণেই নেটিজেনরা জায়গাটির নাম দিয়েছেন ‘মিনি পেহেলগাঁও’।
স্থানীয়দের আশা, প্রশাসনের উদ্যোগে পর্যাপ্ত পরিকাঠামো গড়ে উঠলে ভবিষ্যতে এই স্থানটি মালদার অন্যতম জনপ্রিয় পর্যটনকেন্দ্র হিসেবে আরও পরিচিতি লাভ করবে।
স্থানীয় বাসিন্দা রাজকুমার ঘোষ বলেন, 'এটা অনেক দিনের ঐতিহাসিক স্থান। তবে সম্প্রতি ১৫-২০ দিন ধরে এটা ভাইরাল হয়েছে; ব্লগার, ইউটিউবাররা সব আসছেন। তিনি জানান, বাংলাদেশ সীমান্ত লাগোয়া হলেও এখানে ভয়ের কোনও কারণ নেই। তিনি বলেন, 'আমরা স্থানীয়রাই নিরাপত্তার ব্যবস্থা করব। প্রশাসনকেও অনেক কিছু বলার আছে।' তাঁর কথায়, 'খুব ভালো জায়গা। দ্বিতীয় পহেলগাঁও বলি এটাকে আমরা।'
এক পর্যটক মামন জানান, সমাজমাধ্যমে দেখা রিলস থেকে এই জায়গার কথা জানতে পেরেছেন। তিনি বলেন, 'খুব ভালো জায়গাটি।'

No comments:
Post a Comment