ন্যাশনাল ডেস্ক, ২৫ এপ্রিল ২০২৬: কোচিং থেকে ফেরার পথে নাবালিকাকে শ্লীলতাহানি, ঘটনায় ব্যাপক চাঞ্চল্য। চরম ক্ষোভ স্থানীয়দের মধ্যে। অভিযুক্তের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবীতে থানা ঘেরাও করে বিক্ষোভ। শনিবার গুজরাটের সুরাতে আলথানে ঘটেছে এই ঘটনা।
প্রাথমিক ভাবে জানা যায়, এদিন সন্ধ্যায় কোচিং থেকে ফেরার পথে এক যুবক পেছন থেকে মেয়েটিকে হেনস্থার চেষ্টা করে। এই ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর মানুষজন অভিযুক্তকে ধরে ফেলে। এরপর তারা ১১২ নম্বরে ফোন করে পুলিশকে খবর দেয়। পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর আগেই খবরটি ঝড়ের গতিতে ছড়িয়ে পড়ে এবং সেখানে বিপুল ভিড় জমে যায়। অভিযোগ, বিক্ষুব্ধ জনতা অভিযুক্তকে পুলিশের ভ্যান থেকেই টেনে বের করে ঘটনাস্থলেই মারধর শুরু করে। পরিস্থিতি সামলাতে আরও পুলিশ ঘটনাস্থলে ডাকতে হয় এবং এরপর তারা অভিযুক্তকে গ্রেফতার করে থানায় নিয়ে যায়।
কিন্তু, এতেও ক্ষোভ থামেনি। অভিযুক্তকে নিয়ে পুলিশের দল থানায় পৌঁছালে জনতা থানা ঘেরাও করে বিক্ষোভ দেখাতে থাকে। জনতাকে ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশকে কড়া পদক্ষেপ করতে হয়।
ডিসিপি নিধি ঠাকুর বলেন, "সন্ধ্যা আটটা নাগাদ থানায় ফোন আসে কোচিং ক্লাস থেকে একটি মেয়ে ফিরছিল। এক যুবক পেছন থেকে মেয়েটিকে হেনস্থা করার চেষ্টা করে।" তিনি বলেন, অভিযুক্তকে সঙ্গে সঙ্গে আমরা থানায় নিয়ে আসি এবং নির্দিষ্ট ধারায় অভিযোগ দায়ের করে পরবর্তী পদক্ষেপ করা হচ্ছে।"
তিনি জানান, জনগণের মধ্যে আক্রোশ ছিল। ভিড় জমা হয়ে যায়। পুলিশ পদক্ষেপ করছে, এই বিশ্বাস যখন তাঁদের হয়, তখন তাঁরা ফিরে যায়। তিনি বলেন, তাঁদের আচরণও একটু আগ্ৰাসী ছিল। এখনও মেয়েটির বাবা-মা, শ্রেণি-শিক্ষক যারা ঘটনাটি সম্পর্কে অবগত, তাঁরা এখনও থানায় রয়েছেন। তাঁদের সঙ্গে আমরা কথা বলছি।' ভিড় সরাতে বলপ্রয়োগ নয়, শুধু সিটি বাজিয়ে তাঁদের সেখান থেকে সরে যেতে বলা হয়, কারণ ভিড়ের মধ্যে সবাই নিজের কথা বলতে চাইছিলেন, জানিয়েছেন ডিসিপি।
এদিকে, স্থানীয় বিধায়ক মনু প্যাটেলও ঘটনাস্থলে এসে আইন-শৃঙ্খলা বিঘ্নিত করতে পারে এমন কোনও কাজ থেকে বিরত থাকার জন্য জনগণের কাছে আবেদন জানান। এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে বিপুল সংখ্যক পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। ক্রাইম ব্রাঞ্চের দলও এলাকাটি ঘিরে ফেলেছে। অন্যান্য থানা থেকেও পুলিশ এসে পৌঁছেছে।
এই ঘটনা নিয়ে আরও গুজব ছড়ানো এবং শহরজুড়ে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়া রোধ করারও চেষ্টা করছে পুলিশ।

No comments:
Post a Comment