প্রসূতি মৃত্যু ঘিরে ধুন্ধুমার! চিকিৎসায় গাফিলতির নালিশ, হাসপাতালে ভাংচুর - Press Card News

Breaking

Post Top Ad

Post Top Ad

Friday, April 24, 2026

প্রসূতি মৃত্যু ঘিরে ধুন্ধুমার! চিকিৎসায় গাফিলতির নালিশ, হাসপাতালে ভাংচুর


পূর্ব বর্ধমান: এক প্রসূতির মৃত্যুকে কেন্দ্র করে চরম উত্তেজনা। চিকিৎসার গাফিলতিতে মৃত্যুর অভিযোগ ঘিরে ধুন্ধুমার। শুক্রবার এই ঘটনা ঘিরে রীতিমতো রণক্ষেত্রের চেহারা নেয় বর্ধমানের নবাবহাট এলাকায় এক বেসরকারি নার্সিংহোম। বিক্ষুব্ধ জনতা নার্সিংহোমে ভাঙচুর চালায়। পরিস্থিতি সামাল দিতে ঘটনাস্থলে পৌঁছায় বিশাল পুলিশ বাহিনী। সেইসঙ্গে কেন্দ্রীয় বাহিনীও মোতায়েন করা হয়। ইতিমধ্যেই নার্সিংহোমের মালিক-সহ তিন কর্মীকে আটক করেছে বর্ধমান থানার পুলিশ। শুরু হয়েছে ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত।


জানা গিয়েছে, মৃতার নাম রিজিয়া খাতুন, বয়স ২৩ বছর। তিনি মঙ্গলকোট এলাকার বাসিন্দা। রিজিয়া প্রসব যন্ত্রণা নিয়ে বৃহস্পতিবার রাতে ওই নার্সিংহোমে ভর্তি হন। পরিবারের দাবী, সুস্থ অবস্থাতেই তাঁকে ভর্তি করা হয়েছিল। কিন্তু অপারেশন থিয়েটারে নিয়ে যাওয়ার কিছুক্ষণের মধ্যেই পরিস্থিতি অস্বাভাবিক হয়ে ওঠে।


মৃতার মা অভিযোগ করে বলেন, “আমার মেয়েকে যখন অপারেশন থিয়েটারে নিয়ে যাওয়া হয়, তখন সে ‘মা মা’ করে চিৎকার করছিল। আমরা বারবার জানতে চেয়েছি কি হয়েছে, কিন্তু কেউ কিছু বলেনি। আমাদের হাতজোড় করে অনুরোধ করলেও কোনও তথ্য দেয়নি নার্সিংহোম কর্তৃপক্ষ। শুধু বলেছে প্রেসার বেড়েছে, ঠিক হয়ে যাবে। শেষে আমার মেয়েকে ওরা কুরবানী দিয়ে দিল"!


পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের অভিযোগ আরও তীব্র। মৃতার মামা ক্ষোভ উগরে বলেন, “এরা মানুষ না অমানুষ? আমার ভাগ্নি মারা গেল—আর যারা এখনও ভর্তি আছে, তাদের কী হবে? আমরা সরাসরি ডাক্তারের মাধ্যমে ভর্তি করেছিলাম। এখানে চিকিৎসা নয়, টাকা রোজগারটাই আসল লক্ষ্য।"


অভিযোগ, চিকিৎসার নামে গাফিলতি এবং তথ্য গোপনের জেরেই এই মৃত্যু। শুক্রবার সকালে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় চরম উত্তেজনা ছড়ায়। অভিযোগ, বিক্ষুব্ধ জনতা নার্সিংহোমে হামলা চালায় এবং ভাঙচুর করে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশকে হস্তক্ষেপ করতে হয়।


অন্যদিকে, সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছে নার্সিংহোম কর্তৃপক্ষ। নার্সিংহোমের তরফে ডাঃ প্রণয় ঘোষের দাবী, বৃহস্পতিবার রোগীর সিজারিয়ান অপারেশন হয় এবং অপারেশন চলাকালীনই রোগীর খিঁচুনি শুরু হয়। যদিও অপারেশন সফল হয়, কিন্তু পরবর্তীতে মা ও নবজাতকের শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটে। এরপর পরিবারের অনুমতি নিয়েই নবজাতককে বর্ধমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এবং রোগীকে আইসিইউ-তে স্থানান্তর করা হয়। সেখানেও অবস্থার অবনতি হতে থাকায় রাতেই রোগীর মৃত্যু হয় বলে দাবী তাঁর।


বর্ধমান থানায় মৃতার স্বামী মাসুম শেখ লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। ওই অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ মৃতদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠিয়ে তদন্ত শুরু করেছে। চিকিৎসায় গাফিলতি, না কি জটিল শারীরিক পরিস্থিতি—তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ। ইতিমধ্যেই ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে বর্ধমান থানার পুলিশ। এদিকে, মৃতার পরিবারের পক্ষ থেকে দোষীদের কড়া শাস্তির দাবী জানানো হয়েছে। পুরো ঘটনাকে ঘিরে এখনও থমথমে পরিস্থিতি বর্ধমানে।

No comments:

Post a Comment

Post Top Ad